চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিইউয়ান এই সপ্তাহে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটন সফরে এসে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে দোভাষী ছাড়াই ইংরেজিতে কথোপকথন করায় অনলাইনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বুধবার এক বিরল কূটনৈতিক আয়োজনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে শি ও পেংকে অভ্যর্থনা জানান।
শি ও পেং বিমান থেকে নামার পর দুই দম্পতি দোভাষীদের সহায়তায় কথা বলেন। তবে লালগালিচা ধরে হাঁটার সময় পেং ও মেলানিয়াকে দুই প্রেসিডেন্টের পেছনে সরাসরি নিজেদের মধ্যে কথা বলতে দেখা যায়। স্বাগত অনুষ্ঠান শুরুর জন্য ক্যামেরার সামনে পৌঁছানো পর্যন্ত দুজন হাসিমুখে কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ট্যাবলয়েডে উদ্ধৃত পেশাদার লিপ-রিডার নিকোলা হিকলিংয়ের মতে, পেং সম্ভবত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছোট ছেলে এবং মেলানিয়ার একমাত্র সন্তান ব্যারন ট্রাম্পের কথা জানতে চান। এরপর তিনি কপালের দিকে হাত তোলেন, যা সম্ভবত ব্যারনের উচ্চতা বোঝানোর ইঙ্গিত ছিল।
দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানোর পর পেং ও মেলানিয়ার মধ্যে আবার সংক্ষিপ্ত কথোপকথন হয়। তারা প্রায় এক মিনিট দোভাষী ছাড়াই কথা বলার সময় পেংকে সম্ভবত ‘ওয়ান্ডারফুল’ শব্দটি বলতে দেখা যায়।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের পর বৃহস্পতিবার তারা দুজন স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্ট পরিদর্শন করবেন। ওই সন্ধ্যায় তারা নিজ নিজ স্বামীদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজেও অংশ নেবেন।
পেং একজন খ্যাতিমান সোপ্রানো শিল্পী, যিনি পিপলস লিবারেশন আর্মির হয়ে সংগীত পরিবেশন করেছেন। তিনি চীনা সংগীত ও সংস্কৃতি প্রচারে বিভিন্ন দেশে সফর করেছেন।
২০১৩ সালে শি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে পেং তার সঙ্গে বহু বিদেশ সফরে গেছেন এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন।
চীনের আগের অনেক নেতার স্ত্রীদের তুলনায় পেং জনসম্মুখে তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয়। চীনের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা তাকে ‘মামা পেং’ নামে ডাকেন।
ইংরেজিতে তার অভিজ্ঞতাও বহু বছরের।
২০১৫ সালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের একটি অনুষ্ঠানে তিনি ইংরেজিতে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি মেয়েদের শিক্ষা ও লিঙ্গসমতার বিষয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেছিলেন, “শিক্ষা নারী ও মেয়েদের বিষয়। মেয়েদের স্কুলে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একদিন তারাই তাদের সন্তানদের প্রথম শিক্ষক হবে।”
মেলানিয়ার সঙ্গে তার কথোপকথনের পর ওই বক্তব্যের ভিডিও আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
একটি পোস্টে বলা হয়, “এটি ২০১৫ সালের ভিডিও। পেং লিইউয়ানের মতো পর্যায়ের একজন ব্যক্তির স্বাভাবিকভাবেই একজন ইংরেজি শিক্ষক থাকেন। তাই এখন তার ইংরেজি আরও ভালো হওয়ার কথা।” পোস্টটিতে মেলানিয়ার সঙ্গে তার সাবলীল কথোপকথনের দিকেও ইঙ্গিত করা হয়। মেলানিয়াও ইংরেজির মাতৃভাষী নন।
আরেকটি পোস্টে বলা হয়, “লক্ষ করুন, ম্যাডাম পেং লিইউয়ান কতটা মনোযোগী ও ভদ্র ছিলেন—তিনি মেলানিয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন, ঘুরে হাসছেন এবং কথোপকথনের জড়তা কাটাতে কিছু বলছেন।”
মেলানিয়ার সঙ্গে পেংয়ের সাম্প্রতিক কথোপকথন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইংরেজির এখনও কতটা কার্যকর একটি মাধ্যম, তা নতুন করে সামনে এনেছে। একই সময়ে চীনে শিক্ষা ব্যবস্থায় ইংরেজির ভূমিকা নিয়েও আবার বিতর্ক শুরু হয়েছে।
চলতি মাসে ইন্টারনেটে জনপ্রিয় গণিত শিক্ষক তাং জিয়াফেং ইংরেজিকে স্কুলের বাধ্যতামূলক মূল বিষয়গুলোর তালিকা থেকে বাদ দেয়ার আহ্বান জানান। তার যুক্তি, চীনা শিশুদের নিজেদের মাতৃভাষা ভালোভাবে শেখার আগেই ইংরেজি শেখার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।
তবে গ্লোবাল টাইমস-এর সাবেক প্রধান সম্পাদক হু শিজিন বলেন, বিশ্বায়িত বিশ্বে বিদেশি ভাষার দক্ষতা এখনও গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, ইংরেজি মানুষের আন্তর্জাতিক যোগাযোগে অংশ নেয়ার সুযোগ বাড়াতে পারে।
এই বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। চীনের শিক্ষা ব্যবস্থায় চীনা ভাষা ও গণিতের পাশাপাশি ইংরেজি এখনও অন্যতম প্রধান বিষয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নীতিনির্ধারকেরা কিছু ক্ষেত্রে ইংরেজির গুরুত্ব কমানোর বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট