যমজ দুই সন্তান ও সংসারের দায়িত্ব সামলেও নিজের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও মেধার জোরে ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শারমীন খাতুন। তিনি ১৮তম বিজেএসের মেধাক্রমে ২৪তম হয়েছেন।
শারমীন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে সারাদেশ থেকে ২০০ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
এবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে ১৯ জন শিক্ষার্থী বিজেএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আইন বিভাগের ১৪ জন, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের চারজন এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের একজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদেরই একজন শারমীন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্ত ও চুপচাপ স্বভাবের হিসেবে পরিচিত ছিলেন শারমীন। ক্লাসেও খুব একটা কথা বলতেন না। তবে নিজের জীবনের লক্ষ্য নিয়ে ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পড়াশোনার পাশাপাশি তাকে সামলাতে হয়েছে সংসার, স্বামী এবং যমজ দুই সন্তানের দায়িত্ব।
শারমীন জানান, ২০১৫ সালে এসএসসি পরীক্ষার পর ২০১৬ সালে তার বিয়ে হয়। এরপর ২০২১ সালে তিনি যমজ সন্তানের মা হন। সংসারের দায়িত্বের পাশাপাশি দুই সন্তানকে দেখাশোনা করে পড়াশোনার জন্য আলাদা সময় বের করা তার জন্য সহজ ছিল না। তবে নিজের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থেকে সরে যাননি তিনি।
১৮তম বিজেএসের লিখিত পরীক্ষার সময়ও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় শারমীনকে। তখন তার এক সন্তান হাসপাতালে ভর্তি ছিল। একদিকে অসুস্থ সন্তানের জন্য মায়ের উদ্বেগ, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণের পরীক্ষা দুইয়ের মাঝেই তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে।
শারমীন বলেন, ‘অনার্স-মাস্টার্সের গণ্ডি পেরিয়ে অবশেষে বসলাম বিজেএস পরীক্ষায়। শুরুতে বাচ্চা ও সংসার সামলে বিজেএসের প্রস্তুতির জন্য সময় বের করতে পারিনি। কিন্তু মনের জেদটা তীব্র ছিল। অবশেষে ১৮তম বিজেএসে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলাম।’
নিজের এই পথচলায় স্বামীর সহযোগিতার কথাও জানান শারমীন। তিনি বলেন, ‘এই দীর্ঘ পথচলায় আমার স্বামী মো. আশাদুল হক ছায়াসঙ্গী হিসেবে সবসময় পাশে থেকেছে। উচ্চশিক্ষার প্রতি আমার আগ্রহকে সবসময়ই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির মানুষজন উৎসাহ ও সহযোগিতা করেছেন।’
শারমীনের এই সাফল্য এসেছে সংসার ও মাতৃত্বের দায়িত্বের পাশাপাশি নিজের স্বপ্ন ধরে রাখার মধ্য দিয়ে। যমজ দুই সন্তানের লালন-পালন, সংসারের দায়িত্ব এবং পড়াশোনার চাপ সামলেও তিনি বিজেএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেছেন।
সামনে বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন শারমীন। নিজের দায়িত্ব নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করতে পারেন এ জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।