Image description

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ২৫ হাজার ও সদস্য প্রার্থীর জন্য ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয় ১০ লাখ ও সদস্য প্রার্থীর ২ লাখ টাকা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ছাড়া কিছু করণিক ভুল, তালিকা থেকে দলীয় প্রতীক ও স্বতন্ত্রদের প্রতীক বাদ দিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য প্রতীক সংরক্ষণ, মনোনয়নের ফরম, হলফনামার সংযুক্তিসহ নির্বাচনসংশ্লিষ্ট আরও কিছু সংশোধন আনা হয়েছে।

গতকাল স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০-এ সংশোধন এনে গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ইসি ইউপি পদে প্রার্থীদের জামানত আগের তুলনায় পাঁচ ও ভোটের ব্যয় দুই গুণ বাড়িয়েছে। সেই সঙ্গে প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্তে ১৫% ভোট না পাওয়া, মনোনয়নপত্রে চেয়ারম্যানের জন্য ১২ ডিজিটের টিআইএন সনদ ও আয়কর রিটার্নের কপি যুক্ত করা, ভোটে অনিয়মে ব্যবস্থা নিতে ইসির ক্ষমতা বাড়ানো, সংসদের মতো করে ইউপি ভোটে হলফনামায় তথ্য স্পষ্টীকরণ, নির্দলীয় ভোটের প্রতীক সংরক্ষণসহ একগুচ্ছ সংশোধন আনা হয়েছে।

১৭ সেপ্টেম্বর জারি করা ইসি সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এ বিধিমালার ২০২৬ সালের এসব সংশোধন বিদ্যমান বিধিমালায় যুক্ত হলো। দীর্ঘ এক দশক পর নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হবে ইউনিয়ন পরিষদে। চেয়ারম্যান পদে আগে নিবন্ধিত দলের প্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য প্রতীক বরাদ্দ ছিল; এবার চেয়ারম্যান পদে ২০টি প্রতীক সংরক্ষণ করা হয়েছে সংশোধিত বিধিমালায়। এ ছাড়া সাধারণ সদস্য পদে ১২ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০টি প্রতীক সংরক্ষণ করা হয়েছে।

যেসব বিধান সংশোধন এলো : জামানত চেয়ারম্যান প্রার্থীর ২৫ হাজার ও সদস্যের ৫ হাজার টাকা। কোনো প্রার্থীর পক্ষে একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করা হলেও একাধিক জামানতের প্রয়োজন হবে না। আগে জামানত চেয়ারম্যানের ৫ হাজার ও সদস্যের ১ হাজার টাকা ছিল। প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয় ১০ লাখ ও সদস্যের ২ লাখ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। আগে চেয়ারম্যানের ৫ লাখ ও সদস্যের ভোটের ব্যয় ২ লাখ টাকা ছিল।

বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কমিশনের ক্ষমতা বাড়িয়ে প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। কোনো কেন্দ্রের ফলাফল বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অপকর্মের কারণে চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে কমিশন ওই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে। প্রয়োজনে নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটের ব্যবস্থা নেবে ইসি। দৃষ্টি বা শারীরিক প্রতিবন্ধী কিংবা অন্য কোনো কারণে সহায়তার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। ভোটারকে ভোটদানে সহায়তার জন্য কমপক্ষে ২১ বছর বয়সি একজন ব্যক্তি নেওয়া যাবে; ভোটার ব্যালট পেপারে নিজে চিহ্ন দিতে না পারলে তার নির্দেশনা অনুযায়ী সহায়তাকারী চিহ্ন দিতে পারবেন।

তবে ওই সহায়তাকারী কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হতে পারবেন না। গণমাধ্যমকর্মীকেও বাধা দিলে শাস্তির বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো মনিটরিং করতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারবে কমিশন।