Image description

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরপরই কাঁচাবাজারে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আগে থেকেই উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা মানুষকে এখন মাছ ও সবজিসহ সব ধরনের নিত্যপণ্য কিনতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

বাজারে বিক্রেতারা বাড়তি দামের কারণ হিসেবে ট্রাক ভাড়া বেড়ে যাওয়ার কথা বলছেন। তবে বাস্তবে তেলের দাম যে হারে বেড়েছে, ট্রাক ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে তার চেয়েও অনেক বেশি।

আজিমপুরে বাজার করতে আসা আরমান আহমেদ টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, আগের বাড়তি দামের পর এখন যদি আবার দাম বাড়ে, তবে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

সম্প্রতি সরকার সব ধরনের তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ায়। এতে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। ১৭ শতাংশ তেলের দাম বাড়ায় দূরপাল্লা ও শহরের বাসে সরকার ৬ থেকে ৭ শতাংশ ভাড়া বাড়িয়েছে।

কিন্তু ট্রাক ভাড়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো কিলোমিটারভিত্তিক নিয়ম নেই, পুরোটাই নির্ভর করে দরকষাকষির ওপর। চালক ও মালিকরা সিন্ডিকেট করে চলায় বাজারে সঠিক প্রতিযোগিতা থাকছে না।

এরই মধ্যে ঢাকার খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৮-১০ টাকা, বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ টাকা এবং মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

নিউমার্কেটের এক সবজি বিক্রেতা জানান, পাইকারি বাজার থেকে বাড়তি দামে কিনতে হয় বলেই তারা বেশি দামে বেচতে বাধ্য হচ্ছেন। একই কথা জানান মাছ বিক্রেতা মফিজুল ইসলাম।

তবে পরিবহন খরচের সঙ্গে পণ্যের দাম বৃদ্ধির হিসাব মেলালে দেখা যায় বড় অসংগতি। যশোর থেকে ১০ টন সবজিবাহী একটি ট্রাকের ভাড়া যদি ৫ হাজার টাকা বাড়ে, তবে কেজিপ্রতি খরচ বাড়ে মাত্র ৫০ পয়সা। কিন্তু খুচরা বাজারে পাইকারদের মতো ৫০ পয়সা বা ১ টাকা না বাড়িয়ে এক লাফে দাম বাড়ানো হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকা। আর এতেই সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর।

 

তেল খরচ বাড়ল ৩ হাজার, ভাড়া বাড়ল ৫ হাজার টাকা

বেনাপোল থেকে ঢাকাগামী ট্রাক ভাড়া আগে ছিল ২০-২১ হাজার টাকা, যা এখন বেড়ে হয়েছে ২৫-২৬ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম রুটে এই ভাড়া ২৭-২৮ হাজার থেকে বেড়ে ৩৫-৩৬ হাজার টাকা হয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুর, টঙ্গী ও নারায়ণগঞ্জ রুটে ভাড়া ২২ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬-২৭ হাজার টাকায়।

ট্রাকচালক রকিব হোসেন জানান, বেনাপোল-ঢাকা যাওয়া-আসায় প্রায় ১৫০ লিটার তেল লাগে। লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় তাদের অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে ৩ হাজার টাকা। অথচ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি ট্রিপে বাড়তি ২ হাজার টাকা লাভের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজী টাইমসকে জানান, ভারত থেকে আমদানি করা পণ্য নিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ ট্রাক বেনাপোল থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যায়।

বেনাপোল ল্যান্ড পোর্ট ইমপোর্টার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিয়ার রহমান ও যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান টাইমসকে বলেন, পরিবহন খরচ বাড়লে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে তা উসুল করবেন। ফলে শেষ পর্যন্ত পুরো বোঝাটা গিয়ে পড়বে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রাক ভাড়ার বড় লাফ

চট্টগ্রাম বন্দর ও খাতুনগঞ্জ থেকে পণ্য পরিবহনের খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। পরিবহন মালিকদের মতে, এই রুটে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের ভাড়া প্রায় ২৫ শতাংশ বাড়ছে। আগে যা ছিল ৩০-৩২ হাজার টাকা, তা এখন ৩৫-৪০ হাজার টাকা করার প্রস্তুতি চলছে।

বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান ট্রাক প্রাইম মুভার পণ্য পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব চৌধুরী জাফর আহমেদ টাইমসকে জানান, চট্টগ্রাম যাওয়া-আসায় আগে খরচ হতো ২৫-২৬ হাজার টাকা, যা তেলের দাম বাড়ায় দাঁড়িয়েছে ৩১-৩২ হাজার টাকায়। ড্রাইভারের বেতন ও অন্যান্য খরচ মেলালে আগের ভাড়ায় গাড়ি চালানো অসম্ভব।

পাশাপাশি লাইটার জাহাজের ভাড়াও ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

 

(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন যশোরের সাজেদুর রহমান বকুল)