Image description

বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন শিক্ষিত তরুণের মধ্যে ৩৬ জনই বেকার। অর্থাৎ দেশে শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার ৩৬ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ম্যাগাজিনের সেপ্টেম্বর সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে দক্ষ ও শিক্ষিত তরুণদের জন্য চাকরির বাজারে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার অনেক দেশের সামগ্রিক বেকারত্বের হারের তুলনায় বেশি। শিক্ষা শেষ করার পরও উপযুক্ত কর্মসংস্থান না পাওয়ায় বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারের বাইরে থাকছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাকরির ধরনেও পরিবর্তন আসছে। কিছু কাজ প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় নির্দিষ্ট কিছু পেশায় মানুষের চাহিদা কমতে পারে। একই সঙ্গে নতুন ধরনের দক্ষতার চাহিদা তৈরি হচ্ছে।

আইএমএফ বলছে, এআইয়ের বিস্তারের ফলে শ্রমবাজারে পরিবর্তন আসবে। এতে কিছু চাকরি বিলুপ্ত হওয়ার পাশাপাশি নতুন চাকরির সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকলে তরুণদের একটি অংশ এই পরিবর্তিত শ্রমবাজারে পিছিয়ে পড়তে পারেন।

এছাড়াও প্রতিবেদনে তরুণদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

এবিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, প্রযুক্তিনির্ভর ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি এবং তরুণদের শ্রমবাজারে প্রবেশের বাধাগুলো দূর করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।