Image description

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হেপী বেগমের বিরুদ্ধে ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে চাকরি গ্রহণ এবং অবৈধভাবে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চিঠি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হেপী বেগম মামুদ নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুদকের দৈনিক ও সাম্প্রতিক অভিযোগ সেল থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি মাউশি মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন দুদক পরিচালক দাউদ হোসেন চৌধুরী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘দুদকের চিঠি পেয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট শাখাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, ‘অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনা সত্য হলে অভিযুক্ত শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করাসহ বেতন-ভাতা ফেরত এবং ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে মামলা করার সুপারিশ করা হবে।’ 

দুদকে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জ্যোতির্ময় দেব নামে এক ব্যক্তি দুদক মহাপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেন। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেতে হেপী বেগম তার স্বামী ও রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিমের নিজ হাতে লেখা পাইলগাঁও বি, এন উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি ভুয়া ছাড়পত্র জমা দেন।

অভিজ্ঞতা সনদ ও ছাড়পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে হেপী বেগম ২০১২ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত সহকারী শিক্ষিকা (বাংলা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু একই সময়ে তিনি অন্য প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল তথ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। 

তিনি যে সময়ে পাইলগাঁও বি, এন উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকরি করার দাবি করেছেন, সেই সময়ে ওই বিদ্যালয়ের নামে কোনো Monthly Pay Order (MPO) বা সরকারি বেতন ছিল না। তা ছাড়া ওই বিদ্যালয়ের প্যাডে খণ্ডকালীন সময়ের বেতন-ভাতাদির জন্য ব্যাংকে কোনো টাকা জমা বা উত্তোলন করা হয়নি।   

অভিযোগে বলা হয়, পাইলগাঁও বি, এন উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন সময়ের ম্যানেজিং কমিটি হেপী বেগমকে কোনো দিন কোনো বেতন প্রদান করেনি। তার দাখিলকৃত অভিজ্ঞতা সনদ এবং ছাড়পত্রে তৎকালীন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর তথ্য এবং নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, হেপী বেগমের অভিজ্ঞতা সনদ ও ছাড়পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে হেপী বেগম ২০১২ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত সহকারী শিক্ষিকা (বাংলা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু একই সময়ে তিনি অন্য প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল তথ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। 

অভিযোগে আরও বলা হয়, হেপী বেগম একই জালিয়াতিপূর্ণ কাগজপত্র প্রদর্শন করে পরবর্তীতে জেলার শাল্লা উপজেলার মাহমুদ নগর উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষিকা পদে যোগদান করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত হেপী বেগম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমার স্বামীর সাথে সমস্যার কারণে এমন অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমি যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পেয়ে অভিজ্ঞতার সনদ দাখিল করেছি। কারো স্বাক্ষর জাল করা হয়নি। আপনি আমার স্বামীর সাথে কথা বলুন। তিনি আপনাকে বিস্তারিত জানাবেন।’

জানতে চাইলে হেপী বেগমের স্বামী রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, ‘একই অভিযোগ এর আগেও দেওয়া হয়েছিল, সে সময় বিষয়টি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে মীমাংসা করেছি। জ্যোতির্ময় দেব আমাদের কাছে টাকা দাবি করেছিল। টাকা না দেওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় আমার স্ত্রীর নামে অভিযোগ দিয়েছে। সব অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

হেপী বেগমের নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের মীমাংসের বিষয়ে জানতে সুনামগঞ্জের সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত) মো: জাহাঙ্গীর আলম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বিষয়টি অনেক আগের। কীভাবে মীমাংসা হয়েছিল সেটি এই মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে না। এ ছাড়া এখন আমি সুনামগঞ্জেও কর্মরত নেই। ফলে এ বিষয়ে সেভাবে কিছু বলতে পারছি না।’