কুমিল্লার শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরদের অনেকটা অপরাধচক্রের মতো উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তাদের সঙ্গে অপ্রতীমের সম্পর্ক, ওঠাবসা ও বন্ধুত্ব ছিল। তারা প্রায়ই একসঙ্গে আড্ডা দিত। খোঁজখবর ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরদের অনেকেই অপ্রতীমের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ বছরের বড়।
আজ রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় তিনি কুমিল্লার শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় দেশবাসী মর্মাহত বলে মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেসব কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে। তারা অনেকটা কিশোর অপরাধচক্রের মতো। নিহত ছেলেটির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক, ওঠাবসা ও বন্ধুত্ব ছিল। তারা প্রায়ই একসঙ্গে আড্ডা দিত। খোঁজখবর ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে যা দেখা গেছে, তাদের অনেকেই নিহত ছেলেটির চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ বছরের বড়।
তিনি বলেন, যে মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে, সেই মোবাইলটি প্রধান সন্দেহভাজন আসামি তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামতও পাওয়া গেছে। তারা ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম, পাশাপাশি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া যায় কি না, সেসব বিষয়ে কাজ করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে পুলিশের প্রশংসা করতে পারি যে, তারা ১২ ঘণ্টার মধ্যে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং আলামতসহ অন্যান্য বিষয় জব্দ করতে পেরেছে। তারা ফরেনসিক বিশ্লেষণ করছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং আজ তার দাফন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আশা করি, রামিসা হত্যার বিচারের মতো এই হত্যাকাণ্ডের বিচারও আমরা সংক্ষিপ্ত সময়ে সম্পন্ন করাতে পারব। বিচার করবে আদালত, আমরা সহযোগিতা করব। আমাদের আইনানুগ যে প্রক্রিয়াগুলো রয়েছে, সেগুলো সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিল করা হবে। আশা করি, বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে রামিসা হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে যেভাবে দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন হয়েছে, সেরকম একটি পদক্ষেপ নেবে। এই হচ্ছে কুমিল্লার হত্যাকাণ্ড নিয়ে আমাদের বক্তব্য।’