বেশি দামে বিক্রির আশায় দীর্ঘদিন কোল্ড স্টোরেজে মজুত করে রাখা প্রায় ৩০ হাজার মণ আলু পচে নষ্ট হয়ে গেছে। মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজে প্রায় দেড় বছর ধরে সংরক্ষণ করা এসব আলুর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম।
কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চে ৬০ কেজি ওজনের প্রায় ২০ হাজার বস্তা আলু সেখানে সংরক্ষণ করা হয়। আলুর মালিক মীর হাবিবুর রহমান বেশি দাম পাওয়ার আশায় আলুগুলো দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করে রাখেন। তবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় আলুগুলো বাজারজাত করা হয়নি।
দীর্ঘদিন কোল্ড স্টোরেজে পড়ে থাকায় আলুর একটি বড় অংশে পচন ধরেছে। ইতোমধ্যে নষ্ট আলু থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে। জনদুর্ভোগ এড়াতে গত দুই দিন ধরে বাছাই করে কিছু আলু স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আলুর গুণগত মান ঠিক রাখতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা বাজারজাত করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন মজুত রাখার কারণে বিপুল পরিমাণ আলু নষ্ট হয়েছে। একই সময়ে স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীদের বাইরে থেকে আলু এনে বিক্রি করতে হয়েছে।
মাদারীপুরের তরকারির আড়তদার খবিরউদ্দিন বলেন, ভালো থাকা অবস্থায় আলুগুলো বাজারজাত করা হলে মজুতকারীর লোকসান কম হতো। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে দূরের জেলা থেকে ট্রাকে করে আলু আনার প্রয়োজনও কমত। বেশি দামের আশায় আলু আটকে রাখার কারণেই এখন এত বড় ক্ষতি হয়েছে।
পচে যাওয়া আলু নিতে আসা রাজৈর ইউনিয়নের বাসিন্দা আলী আহমাদ বলেন, এসব আলু মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়। তবে বাছাই করে যেগুলো কিছুটা ভালো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো গরুর খাবার হিসেবে নেওয়া হচ্ছে।
মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম বলেন, ২০২৫ সালের মার্চে আলুগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন স্টোরেজে থাকার কারণে আলুর তাপমাত্রা ও গুণগত মান নষ্ট হয়েছে। খোলা জায়গায় ফেলে দিলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে কৃষক ও খামারিদের বিনা মূল্যে কিছু আলু দেয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, নষ্ট হওয়া আলুর পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার মণ। ২০ হাজার বস্তায় থাকা এসব আলুর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।
তবে আলুর মালিক মীর হাবিবুর রহমান বলেন, কী কারণে এত আলু নষ্ট হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে কোল্ড স্টোরেজের ভেতরে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। বিষয়টি নিশ্চিত হতে ঢাকা থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের এনে পরীক্ষা করানো হবে।
অপরদিকে কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন আলু সংরক্ষণ করায় এর গুণগত মান নষ্ট হয়েছে।
মাদারীপুর কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রুবেল মিয়া বলেন, তিনি মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজ পরিদর্শন করবেন। কেন দীর্ঘ সময় ধরে আলু মজুত রাখা হয়েছিল এবং কী কারণে আলুগুলো নষ্ট হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।