ছাত্র সংগঠনের প্রধান কাজ শিক্ষার্থীদের মেধা, জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতার বিকাশ ঘটানো হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, একটি আদর্শ ছাত্র সংগঠনের ৯০ শতাংশ কার্যক্রম হবে পড়ার টেবিলকেন্দ্রিক, আর মাঠে-ময়দানে তাদের কার্যক্রম থাকবে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ।
শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় আর্কাইভ মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগর পশ্চিম আয়োজিত ‘ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আল্লামা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসকে শুধু সংগঠন, রাজনীতি ও আন্দোলনের জন্য পরিচিত করলে হবে না। এটিকে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতা বিকাশের একটি বৃহৎ পরিসরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একজন শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে যে দায়িত্ব পালন করতে চান, সেই দায়িত্ব পালনের মৌলিক যোগ্যতা তাকে ছাত্রজীবন থেকেই অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, ছাত্রজীবন ও পরবর্তী কর্মজীবনের সম্পর্ক অনেকটা মাতৃগর্ভ ও ভূমিষ্ঠ জীবনের মতো। মাতৃগর্ভ থেকেই যেমন মানুষের মৌলিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে পৃথিবীতে আসতে হয়, তেমনি কর্মজীবনে ভালো কিছু করতে হলে প্রয়োজনীয় মৌলিক যোগ্যতা ও দক্ষতা ছাত্রজীবন থেকেই অর্জন করতে হবে। ছাত্রজীবনে যে মৌলিক দক্ষতা অর্জিত হয় না, পরবর্তী জীবনে তা পূরণ করা সম্ভব হয় না।
সমাজ ও রাষ্ট্রে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি শিক্ষাজীবন থেকেই শুরু করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, যারা ভবিষ্যতে সমাজ ও রাষ্ট্রের বৃহত্তর পরিসরে নেতৃত্ব দিতে চান, তাদের ছাত্রজীবন থেকেই সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনীতি সম্পর্কে চিন্তা এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
আল্লামা মামুনুল হক বলেন, একটি জাতিকে শুধু পথ দেখানো এবং সেই পথে জাতিকে পরিচালিত করা এক বিষয় নয়। জ্ঞান, গবেষণা ও ইলমের মাধ্যমে পথ দেখানো যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রদর্শিত পথে জাতিকে পরিচালিত করার জন্য যোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্বও প্রয়োজন। তাই সমাজ ও জাতিকে সঠিক গন্তব্যের দিকে পরিচালিত করতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রমের ধরন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছাত্র সংগঠন সাধারণ রাজনৈতিক সংগঠনের মতো মাঠমুখী হবে না। একজন শিক্ষার্থীর মেধা, জ্ঞান ও যোগ্যতার বিকাশ এবং ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনই ছাত্র সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘একটি আদর্শ ছাত্র সংগঠনের মাঠে-ময়দানে কার্যক্রম থাকবে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ এবং ৯০ শতাংশ কাজ হবে পড়ার টেবিলকেন্দ্রিক।’
জ্ঞান ও ইলম অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর বলেন, পৃথিবীতে অনেক কিছুর বিকল্প থাকলেও জ্ঞান ও ইলমের কোনো বিকল্প নেই। নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত হওয়ার আগেই নিজেকে জ্ঞানের দিক থেকে যোগ্য করে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও ইলম অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য দক্ষতাও অর্জন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের সাফল্যের ধারা আগামী দিনেও অব্যাহত রাখতে হবে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র মজলিসের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা, জ্ঞান ও চিন্তার আলো ছড়িয়ে দিয়ে আগামী দিনের নেতৃত্বের উপযোগী একটি সম্মিলিত কাফেলা গড়ে তোলার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি আদনান রাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সল আহমাদ, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার সিনিয়র শিক্ষক মুফতি সাইদ আহমাদ, বিশিষ্ট লেখক ও আলোচক মাওলানা আবু নাইম ফয়জুল্লাহ এবং বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা জাকারিয়া আল ফারুকি।
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।