Image description

Oliullah Noman (ওলিউল্লাহ নোমান)


 
প্রথম আলো অনলাইনে আজকে সালেহ উদ্দিন আহমদের কলামটা মনযোগ দিয়ে পড়লাম। লেখাটির শিরোণাম-”শিক্ষক হেনস্তা থেকে জিন্নাহ প্রীতি:ডাকসু আর কত বিতর্কে জড়াবে”। লেখাটির পড়ে নিরপেক্ষতা দেখে গড়াগড়ি দিতে ইচ্ছে হয়। তাই কতক্ষণ গড়াগড়ি করলাম।
 
প্রথম আলো এবং পত্রিকটির নিরপেক্ষতা হচ্ছে এক পাক্ষিক। লেখাটির নিচে পরিচয়ে দেখলাম তিনি শিক্ষক লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
ডাকসুর নির্দলীয় চরিত্রের সবক দিয়ে লেখাটি শুরু করেছেন তিনি। তাঁর ভাষায় অতীতে ডাকসু নির্দলীয় চরিত্রে ছিল। এবারই দলীয় চরিত্র নিয়েছে। এক বিতর্কিত ও ফ্যাসিষ্ট আমলে উল্টা-পাল্টা বক্তব্য এবং কথাবার্তার জন্য নিন্দনীয় এক শিক্ষকের সাথে ডাকসুর একজন সদস্যের বেআ’দবীর কথা তিনি বলেছেন। কিন্তু শিরোণাম দেখলে মনে হবে ডাকসুর নেতৃবৃন্দ বছর জুড়েই শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এছাড়া শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি ডাকসু চালু করায়, এটাকেও শিক্ষক হয়রানি হিসেবে দেখছেন।
 
আমার বোঝে আসে না মূল্যায়নকে তারা এতটা ভয় পাচ্ছেন কেন! যে শিক্ষার্থীদের তারা পাঠদান করছেন, তারাই তো অভিমত জানাবেন। এটাকে স্বাগত জানানোর কথা। অথচ, শিক্ষকরা উল্টা অবস্থান নিয়েছেন। কেউ কেউ নানা হুমকিও দিচ্ছেন মূল্যায়নকে ভয় পেয়ে। কেন, শিক্ষকরা কি জবাবদিহীতার উর্ধ্বে থাকা উচিত। পাঠদানে একজন শিক্ষার্থী কতটা সন্তুষ্ট সেটা জানানোর অধিকার কি তাঁর থাকা উচিত নয়! নাকি শিক্ষকরা মনগড়া চলবেন, কেউ কিছু বলতে পারবে না!
 
উন্নত দেশ গুলোতে প্রত্যেক ক্লাস শিক্ষকের মূল্যায়নের পদ্ধতি রয়েছে। ডাকসুর চালু করা পদ্ধতিতে ত্রুটি থাকলে সেটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে মূল্যায়নকে উপেক্ষা করার সুযোগ কি আছে। রাষ্ট্রের টাকায় বেতন নেবেন। কেমন পাঠদান করাচ্ছেন সেটা শিক্ষার্থীরা জানাতে পারবে না, এটা কেমন কথা! এটাকে আবার হয়রানির অন্তর্ভুক্ত করে অপপ্রচার!
ডাকসুর সংগ্রহশালায় কায়েদ-ই আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ’র ছবি টাঙ্গানো নিয়েও তিনি ক্ষোভ ঝেড়েছেন। তাঁর ভাষায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাকে আলোকিত এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে বিকৃত করা হয়েছে। যদিও ডাকসুর জিএস সংবাদ সম্মেলন করে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ’র ছবির প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যা করেছেন। যে বক্তব্যে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল সেই বক্তব্যের একটি ছবি এটি। এতে জিন্নাহ আলোকিত হয়েছেন নাকি নিন্দনীয় হয়েছেন! অতিনিরপেক্ষ প্রত্রিকার লেখক এই ব্যাখ্য দেননি।
 
তাঁর শেখ মুজিবের কোন ছবিটা দিলে বাল হোত! শেখ মুজিব কি দেশে গণতন্ত্র হত্যা করে এক দলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেনি? শেখ মুজিব আমলে দুর্ভিক্ষে হাজারো মানুষ কি না খেয়ে মারা যায়নি? শেখ মুজিব আমলে রক্ষ্মিবাহিনীর অত্যাচারে হাজারো মানুষ কি খুন হয়নি? বিচার বিভাগকে তাঁর পদনত করা কি হয়নি? তাহলে শেখ মুজিবকে কিভাবে উপপস্থান করা প্রয়োজন ছিল সেটার একটা ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারতেন লেখায়।
তিনি ডাকসুর গৌরবোজ্জল ইতিহাসের কথা উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে ১৯৬৯ সালে তোফায়েল আহমদ যখন ভিপি ছিলেন সেই সময়ের কথা তিনি বলেছেন। ১৯৭১ সালে ভিপি আ স ম আবদুর রবের কথা বলেছেন। ১৯৯০ সালের এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের কথা উল্লেখ করেছেন। এই গুলো তো কেউ অস্বীকার করে না। সময়ের প্রেক্ষাপটে এই বাঁক গুলোতে ডাকসু ভূমিকা রেখেছে, তা অনস্বীকার্য। কিন্তু ২০২৪ সালে ডাকসু ছিল না। তারপরও এই ছাত্ররাই ফ্যাসিবাদ বিরোধী চুড়ান্ত আন্দোলনে গৌরবোজ্জল ভূমিকা পালন করেছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি একটা কথাও বলেননি।
 
সাদিক কায়েমদের ডাকসু ২০২৪ সালের বর্ষা বিপ্লবের পর নির্বাচিত হয়েছেন। বর্ষা বিপ্লবের পর দেশ গঠন ও ফ্যাসিবাদের জঞ্জাল দূর করাই তো মূল কাজ! নাকি ১৯৬৯, ১৯৭১ ও ১৯৯০ সালের মত গণআন্দোলন গড়ে তোলা এই ডাকসুর কাজ বোঝাতে চেয়েছেন তিনি। সাদিক কায়েমরা শিক্ষাবান্ধব যেসব কর্মসূচি নিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ তৈরির জন্য হলে হলে যে সংস্কার গুলো করেছেন এ গুলোর কিছুই চোখে পড়েনি নিরপেক্ষ প্রথম আলোর নিরপেক্ষ লেখকের একতরফা বয়ানে।
 
বিশ^বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কার তাদের ভাল লাগার কথা নয়। প্রতিটি হলের রিডিংরুমে এসি লাগানো তাদের সহ্য হয়নি। কারণ এ গুলোতে শিক্ষার্থীরা একটু স্বাচ্ছন্দে বসে পড়ালেখা করার সুযোগ পাবেন। তাদের মনে বড় দু:খ গণরুম উঠে গেছে। তাদের মনে দু:খ গ্যাষ্ট রুমের নামে নির্যাতন করা বন্ধ হয়ে গেছে।
 
এই শিক্ষক লেখকের চোখে পড়েনি সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ভিসি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা কতটা অনৈতিক আচরণ করেছেন ডাকসুর সাথে। শুধুমাত্র দলীয় যন্ত্রণায় কাবু ভিসি ও প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা কতটা অনৈতিক হলে সন্ধ্যকালীন বাস অনুমোদন দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে। এসব কি সাদিক কায়েমরা চড়েন! বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য শাটল যান চালু, শনিবারের বাস চালু, হল গুলোতে শিক্ষার পরিবেশকে সুন্দর করা, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী সংস্কার করা, বিশ^বিদ্যালয়ের আবাস সমস্যা দূর করতে চায়নার সহযোগিতায় আরো বেশ কয়েকটি হল নির্মানের প্রকল্প চুড়ান্ত করা. নারী শিক্ষার্থীদের জন্য জিমনেসিয়াম তৈরি করা (যদি প্রশাসন বিদ্যাুৎ সংযোগ না দিয়ে আটকে রেখেছে বহুদিন), খেলার মাঠ সংস্কারের জন্য দুই কোটি টাকা ফাণ্ড সংগ্রহ করলেও দলবাজ প্রশাসনের অনীহায় অনুমোদন না দিয়ে আটকে রাখা, এসব ওই নিরপেক্ষ শিক্ষক, লেখকের চোখে পড়নি!!!
ডাকসুর কাজ কি শুধু আন্দোলন গড়ে তোলা!!! ডাকসুর মূল কাজতো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করা। এই ডাকসু কি সেটা করেনি??!!! শিক্ষার্থীদের পরিবহন সমস্যাকে কি ওই নিরপেক্ষ একতরফা লেখক সমস্যা মনে করেননি। নাকি এটা ডাকসু সমাধান করেছে বলে সমস্যা ছিল না! প্রতিটি হলে রিডিং রুমে এসি লাগানো কি ছাত্রদের কল্যানে কাজ করবে না! নাকি এসির বাতাস ডাকসু নেতৃবৃন্দের গায়ে লাগাবেন!
 
আসলে তাদের মনে বড়ই জ¦ালা। জিন্নাহ’র ছবি দেখলে তাদের অন্তরে জ¦ালা শুরু হয়। ছবি দেখলেই তাদের মনে উদয় হয়, এই লোকটার জন্যই তো বাংলাদেশ নামক আলাদা রাষ্ট্র তৈরি হওয়ার সুযোগ হয়েছে। নাহলে তো কাশ্মির, হায়দারাবাদ, সিকিমের মত তাদের দাদাতের সাথে থাকতে পারতেন। তারা গুরু জবাই দেখলেই মনে হয় জিন্নাহ এই কাজের সুযোগটা করে দিয়ে গেছেন! মসজিদে আজান শুনলেই তাদের মনে পড়ে, জিন্নাহ এই ব্যবস্থাটা করে গেছেন!