হবিগঞ্জে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য এক গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিয়ে আলোচনায় এসেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পিডিবি হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর মোর্শেদের নির্দেশে ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
গত সোমবার নতুন আবাসিক সংযোগ নিতে পিডিবির কার্যালয়ে যান সদর উপজেলার শায়েস্তানগর এলাকার মোফাজ্জল হোসেন ইমন। তিনি জানান, নির্ধারিত ফি ২ হাজার টাকার কম হলেও অফিস সহায়ক নাজমা আক্তার তার কাছে ৪ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন। একই দাবি করেন আরও কয়েকজন কর্মচারী। পরে মোফাজ্জল সেখান থেকে চলে যান।
মোফাজ্জল জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পুনরায় ওই অফিসে গিয়ে নাজমাকে জানান, সংযোগ নেওয়ার জন্য তিনি আর কাউকে পাননি। তাই ৪ হাজার ৫০০ টাকা দিয়েই সংযোগ নিতে চান।
ঘুষ দেওয়ার সময় মোবাইল ফোনে কৌশলে ভিডিও ধারণ করেন জানিয়ে মোফাজ্জল উল্লেখ করেন, পরে বেলা ১২টার দিকে নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরকে ভিডিওটি দেখান তিনি। ভিডিও দেখে ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এ সময় সেবা নিতে আসা প্রায় ২৫ জন নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। সবার সামনেই টাকা ফেরত দেন নাজমা। এ সময় ভুক্তভোগী কয়েকজন গ্রাহক উত্তেজিত হয়ে উঠলে স্থানীয়রা পরিস্থিতি সামাল দেন।
কয়েকজন গ্রাহকের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগের লোড প্রতি কিলোওয়াট বাড়াতে ৪৮৫ টাকা ফি দিতে হয়। কিন্তু পিডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি সিন্ডিকেট প্রতি ইউনিটে অতিরিক্ত ১ থেকে ২ হাজার টাকা করে নেন। ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়ার সময় এ বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর বলেছেন, ‘বাড়তি টাকা নেওয়ার ঘটনা ভিডিওর মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আরও যেসব অভিযোগ রয়েছে, তা তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হবে। নাজমার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’