Image description

৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘গুপ্ত’ শব্দটির ব্যবহার নতুন মাত্রা পেয়েছে। জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে অনুপ্রবেশ করে সংগঠনকে প্রভাবিত করছেন এমন অভিযোগ প্রায়ই করতে দেখা যায় অন্য দলের নেতাকর্মীদের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে দেখা যাচ্ছে, একই ধরনের ‘গুপ্ত’ তকমা দেওয়া হচ্ছে দলেরই বিভিন্ন নেতা কর্মী ও সমর্থকদের।

 

সাধারণ নেতাকর্মী, এক্টিভিস্টদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ (সালেহ শিবলী)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও ‘গুপ্ত’ ট্যাগ পেয়েছেন। দলের ভেতরে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন, সাংগঠনিক বিরোধ এবং ব্যক্তিগত অসন্তোষের কারণে এই শব্দটি এখন ব্যবহৃত হচ্ছে, যা বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন এক মাত্রার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

গুপ্ত নিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলছিল। তবে এই আলোচনাকে বাংলাদেশের রাজনীতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যান বিএনপির চেয়ারম্যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি একাধিক সমাবেশে জামায়াত শিবির বা তাদের সমর্থকদের গুপ্ত হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনা করেছেন।

 

৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ সালে নির্বাচনপূর্ব সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল, যাদের অন্য একটি পরিচয় আছে, জনগণ যাদের একটি ভিন্ন পরিচয়ে চেনে, জনগণ তাদের গুপ্ত পরিচয়ে চেনে। আপনারা চেনেন কারা গুপ্ত? প্রিয় ভাইবোনেরা, বর্তমানে বাংলাদেশে এক নতুন জালেমের আবির্ভাব হয়েছে। এই গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেমরূপে আবির্ভূত হয়েছে।’

 

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিরোধী রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, ‘স্বৈরাচারী শাসনের সময় দলটি ‘গুপ্ত বেশ’ ধারণ করেছিল এবং পরে তাদের নিজেদের লোকজনই বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর পেছনে কারা রয়েছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।’

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে কোনো দলের নাম উল্লেখ না করলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন তিনি জামায়াতে ইসলামীর দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

 

একইদিন চট্টগ্রামের লালদীঘির ময়দানে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাবেশের এক পর্যায়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান তারেক রহমানের নাম উল্লেখ না করেই বলেন, ‘সরকারি দলের লোকেরা এখন সন্ত্রাসে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। চুরি-ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়েছে। চার দিন আগে আপনারা দেখেছেন, ঢাকা বিমানবন্দরে একজন প্রবাসীর স্বর্ণ নিয়ে গেছে ছিনতাইকারীরা। যখন ছিনতাই করে তখন বলে, আমরা আওয়ামী লীগের লোক। ধরা পড়ার পরে দেখা যায়, সবগুলা বিএনপির লোক। একেই বলে গুপ্ত। যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, দুর্নীতি করে, সেই হচ্ছে সবচেয়ে বড় গুপ্ত।’

 

প্রথম আলো উভয় নেতার বক্তব্য নিয়ে “প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এবার ‘গুপ্ত’ নিয়ে যা বললেন জামায়াতের আমির” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে।

 

গুপ্ত শব্দ ব্যবহার করে তারেক রহমানের বক্তব্য এই ট্যাগকে নতুন মাত্র দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বেশ কিছু পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিএনপির ভেতরেই এখন একে অন্যকে ‘গুপ্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

 

এর একেবারে সাম্প্রতিক উদাহরণ বিএনপির অনলাইন এক্টিভিস্ট ফাহাদ মোহাম্মদের একটি ফেসবুক পোস্ট। নিজের আইডিতে নিয়মিত বিএনপির পক্ষে পোস্ট করেন তিনি। লেখালেখি করেন জামায়াত ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। গতকাল ছাত্রদলের একজন এক্টিভিস্ট তারিন রৌদসিকে নিয়ে একটি পোস্ট করেন ফাহাদ। পোস্টে তিনি লিখেন, “বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে তারেক রহমান ও জাইমা রহমানকে যখন শিবিরের সিফাত আব্দুল্লাহ গা-লি দেয়, জা-রজ-বে-জন্মা বলে, তখন তারিন রদশিরা প্রতিবাদ করে না।
আজকে যখন নিজেদের কোরামের মনসুরাকে নিয়ে শিবিরের ছেলে সজীব গা-লি দেয়, তখন বিএনপি বালের সরকার চালায়!! বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের চেয়ে মনসুরা বড় হয়ে গেল! হায় রাজনীতি, হায় রাজনীতি! আমরাও চাই, প্রতিবাদ করুন। কিন্তু তারেক রহমানকে যখন জা-রজ বলা হচ্ছে, তখন কোথায় ছিলেন? এখন বিএনপি বা-লের সরকার চালায় বলে ফেলছেন!!

বাহ, নাইস! বাহ, নাইস! এটাই কি রাজনীতি?? আপনি যার ভুল হবে, তারে বলেন। আপনি পুরো সরকার নিয়ে কথা বলেন কীভাবে? তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভুল হলে তাদের সমালোচনা করেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভুল হলে তাদের সমালোচনা করেন। কিন্তু আপনি বলেছেন, “বা-লের সরকার চালায় বিএনপি!” তাহলে তারেক রহমান বা-লের সরকার চালায়? তারেক রহমান তো প্রধানমন্ত্রী। আপনি তো দেখি পুরো সরকারকেই “বা-লের সরকার” বলেছেন।”

WhatsApp Image 2026-09-15 at 9.10.31 PM

এই পোস্টের জের ধরে তাকে ‘গুপ্ত’ ট্যাগ দেন ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা। পোস্টটি শেয়ার করে ঢাবি ছাত্রদলের সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক খালিদ এম সেজান লিখেন,“এই সমাজের বোঝাটারে দেখি অনেকে বিএনপির কেউ মনে করে। ভাইরে, আপনারা আসলেই গুপ্ত চিনেন না। তারেক রহমান যে বলেন, গুপ্ত গুপ্ত! এইসব বালছালদের নিয়েই বলেন। ও মনে হয় ওর জাতভাই সজীবকে আজকে বাঁচানোর এসাইনমেন্ট পাইসে। এই মাথামোটা গর্ধভ লাইফলেসটা দলের ভেতরের মানুষদের নিয়ে প্রায় প্রায় নোংরামী করে। দুইটা স্ট্যাটাস দিয়ে নিজেকে দাবি করে বিএনপি। আবার ছাত্রদলের এক নেত্রীকে দেখলাম দুইদিন ওর কাছ থেকে তেল পেয়ে বিগলিত হয়ে রোদসীর বিরুদ্ধে কমেন্ট করে বসছে! ব্রেইন”

Screenshot_20260914_184524_Facebook.jpg

ফাহাদের পোস্ট শেয়ার করে কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন আহবায়ক তাওহিদা সুলতান লিখেন,“একটা অরিজিনাল জামাতির প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে দলের মধ্যে উস্কানি দেওয়া, দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ মানুষজনকে বিতর্কিত করা, নিজের কাজকর্ম দ্বারা দলের ইমেজ নষ্ট করা। এই জামাতিটার উৎপাত অনেকদিন ধরে দেখতেছি। আজকে বাছাধন ধরা খেয়ে গেছে।”

 

WhatsApp Image 2026-09-15 at 9.12.30 PM

কিছুদিন পূর্বে লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সমালোচনা করায় এক যুবককে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের দেওয়া একাধিক বক্তব্যে বৈপরীত্য রয়েছে দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দেন বিএনপিপন্থী আইনজীবী ও এক্টিভিস্ট অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান।

 

ওই পোস্টের মন্তব্যে ছাত্রদল কর্মী নির্জয় আহম্মেদ হাবিবুর রহমানকে গুপ্ত ট্যাগ দিয়ে লিখেন, “তুই শালা গুপ্ত। তুই বিএনপি ও দেশ নায়েক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে। যেখানে মানসুর আলম এর মত ত্যাগী নেত্রী থাকে গ্রেফতারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, আর তোর মত গুপ্ত এই অপরাধীর পক্ষে অবস্থান নিছস।” প্রতিউত্তরে হাবিবুর রহমান ওই ছাত্রদল কর্মীকে ছাগল আখ্যা দিয়ে লিখেন, “গরু ছাগলের জন্য আমার আইডি ফলো করা নিষেধ।”

WhatsApp Image 2026-09-15 at 9.13.34 PM

বিএনপি ছাত্রদলে একে অন্যের বিরুদ্ধে ‘গুপ্ত’ ট্যাগ দেওয়ার ঘটনা এক দুইটি নয়। বিভিন্ন সময়ে দেখা যায়, এক গ্রুপ অন্য গ্রুপকে ‘গুপ্ত’ ট্যাগ দিয়ে কেন্দ্রকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। এমনকি দলের কেন্দ্রীয় অনেক নেতাকেও ‘গুপ্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করতে দেখা যায়।

 

এমন একজন মাহদী আমিন। তিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং আছেন একাধিক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবেও। তাকে ‘গুপ্ত’ ও জামায়াতের হয়ে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রায়ই লেখালেখি দেখা যায় জাতীয়তাবাদী বিভিন্ন অ্যাক্টিভিস্টকে।

 

মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন নামের একজন বিএনপিপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট লিখেন“৫ আগষ্টের আগে গুপ্ত মাহাদি আমিনের বিএনপির জন্য ঠিক কতটুকু কন্ট্রিবিউশান ছিল? মাহাদি আমিনের জন্য পুরো মীরপুর জোন এবারের নির্বাচনে জামাতের ঘাঁটি হিসাবে স্বীকৃতি পেল। এখন মাহাদী আমিনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আশেপাশে গুপ্ত শিবিরের লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। মাহাদী আমিন হচ্ছে মাহমুদুর রহমানের দ্বিতীয় ভার্সন।”

1

মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন নামের আরেকজন বিএনপিপন্থী এক্টিভিস্ট লিখেন,“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান আপনার কাছে সবিনয়ে অনুরোধ করতেছি যে, গুপ্ত দলের সদস্য মাহাদী আমিন ও এই অথর্ব অপদার্থ প্রেস উইং নিয়ে পাঁচ বছর পার করতে পারবেন না। তার আগে গুপ্ত দলের সদ‍্য মাহাদী ও ভন্ড মোনাফেক জামায়ত ও তাদের এ বি সি টিম মিলে আপনাকে ও আপনার সরকারকে খেয়ে দিবে। যেমন টা ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে আরেক ভন্ড মোনাফেক মাহমুদুর রহমান আপনাকে ও আপনার মা আমাদের প্রাণ প্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও উনার সরকারকে খেয়ে দিয়েছিল। মাহাদী আমিন হচ্ছে আরেক বৈইমান মাহমুদুর রহমান। সুতরাং এখনো সময় আছে বর্তমান প্রেস উইং ও মাহাদী আমিনকে অতিদ্রুত অপসারণ করুন।
প্লিজ প্লিজ প্লিজ……”

2

মাহাদী আমিন কে ‘গুপ্ত’ ট্যাগের এমন আরও কিছু পোস্ট দেখা যায় এখানে এখানে

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ এ এম সালেহ (সালেহ শিবলী)। মাহাদী আমিনের পাশাপাশি তাকেও ‘গুপ্ত’ ট্যাগের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

 

বিএনপিপন্থী আরাফাত হোসেন রনি নামের একজন সালেহ শিবলীকে নিয়ে লিখেন“আপনি জেনে অবাক হবেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রেস সেক্রেটারি জনাব সালেহ শিবলী শিবিরের একজন সাথী ছিলেন। শিবলী সাহেবের অতি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের একজন এমনটি দাবি করেছেন। এমনকি তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ কাজে নিয়োগ দিতে সেই আত্মীয়ের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন শিবলী সাহেব!!! আর তাই রাগে-ক্ষোভে ও আপন আত্মীয়ের লোভে শিবিরের সাথী থাকার গল্প ফাঁস করে দিলেন নিকট আত্মীয়!!! তোমাদের আরো বেশি বেশি গুপ্ত গুপ্ত জিকির পাড়তে হবে। এবার তাহলে বুঝলেন তো, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও এমপি মন্ত্রীদের পিএস বা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে শিবিরের ছেলেরা কেন নিয়োগ পাচ্ছেন?
হ‍্যাঁ ছাত্রলীগ বা আম্লীগকে এভাবেই দখলে রেখেছিল গুপ্তরা। এবার বিএনপির পালা। ইনজয় নেতা…”

3

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীনকেও ‘গুপ্ত’ বলতে দেখা যায় অনেক বিএনপিপন্থীকে। সাবের আলী খন্দকার নামের একজন লিখেন“ছবির এই ভদ্রলোকের নাম শাহাদাত হোসেন স্বাধীন। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের উপ প্রেস সচিব পদে নিযুক্ত হয়েছেন। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ ব্যাচের এই শিক্ষার্থী একসময় শিবির পরিচালিত ফোকাস কোচিং সেন্টারের সাভার শাখার সহকারি পরিচালক ছিলেন। আর সেজন্যই বোধহয় খুশী মনে সকল গুপ্ত শিবির, বট আইডি এবং পেইজ গুলো ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ওনাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।”

4

এ পোস্টের কমেন্টে কাদের মাওলা নামের একজনের পোস্টের স্ক্রিনশট পাওয়া যায়। কাদের মাওলা স্বাধীন কে নিয়ে লিখেন,“17 বছর কষ্ট করলাম আমরা কিন্তু পদদায়িত হয় গুপ্ত শিবির প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব নিয়ে আমরা কোন পোস্ট করছি না। কিন্তু ওর এই পোস্টে নিযুক্ত নিয়ে খুশি মনে ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছে সকল গুপ্ত শিবির, বট আইডি ও পেজগুলো। দিবেই বা না কেনো? জায়গা মত গুপ্ত পৌছে গেছে। বাহ... বাহ…”

WhatsApp Image 2026-09-15 at 9.05.32 PM

এর বাইরে আলোচিত এমপিদের মধ্যে গুপ্ত ট্যাগ পেতে দেখা যায় বিএনপি এমপি আশরাফ উদ্দিন নিজানকে। তাকে নিয়ে বিএনপির রাজনীতি করা আব্দুল মান্নান লিখেন“BNP’র ভেতর লুকিয়ে থাকা এসব গুপ্ত গামাতি ঘাতকদের চিহ্নিত করে এখন থেকেই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। ভুঁয়া গামাতি কীর্তন করতে গিয়ে তিনি জাতির সামনে ডাহা মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন। এসব বেসামাল আঁতেল দিয়ে আর যাই হোক শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি'র রাজনীতি চলতে পারেনা। মেয়াদোত্তীর্ন এসব ভারসাম্যহীন মালকে দ্রুত লাইনে না আনলে জেন জি বিএনপি'র রাজনীতির প্রতি বিমুখ হতে পারে।”

6

এমপি নিজানকে নিয়ে রুহ আ নামের একজন এক্টিভিস্ট লিখেন“আশরাফ উদ্দিন নিজান সাহেব কি তবে তার মনের গহীনে লালন করা গুপ্ত দরদ আর ভিন্ন আদর্শেরই জানান দিলেন? জামায়াতের লং মার্চে পানি সরবরাহ করা এবং স্বেচ্ছাসেবক নামিয়ে আপ্যায়ন করার মধ্যে ঠিক কোন ধরনের রাজনীতি?জামায়াতের জন্য খেদমতদারি আসলে কার স্বার্থে? নিজ দলের ভাবমূর্তি ও অবস্থানকে জলাঞ্জলি দিয়ে অন্য দলের কর্মসূচি সফল করার জন্য এই নতিস্বীকারমূলক আচরণের মাধ্যমে তিনি আসলে কী বোঝাতে চাইলেন?”

7

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব পোস্টে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে, বিএনপির রাজনৈতিক পরিসরে ‘গুপ্ত’ শব্দটি এখন শুধু জামায়াত শিবিরের কথিত অনুপ্রবেশের অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই। দলের কর্মী, নেতা, সমর্থক কিংবা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিয়েও একই শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে।

কোথাও এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন, কোথাও সাংগঠনিক বিরোধ, আবার কোথাও ব্যক্তিগত বা দলীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ। এসব অভিযোগের সত্যতা আলাদাভাবে যাচাইয়ের বিষয় হলেও, পরস্পরকে ‘গুপ্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করার এই প্রবণতা বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কথাবার্তায় শব্দটির ব্যবহার ও অর্থকে যে নতুন মাত্রা দিচ্ছে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।