গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে দেশের নিট পোশাক খাতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি আদেশ বাতিল ও কমে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে কারখানাগুলো। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৫ শতাংশ নিট পোশাক রপ্তানিকারক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে রপ্তানি আদেশ বাতিল বা কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
বিকেএমইএর সক্রিয় সদস্য কারখানার প্রায় ২০ শতাংশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি সারসংক্ষেপে এ চিত্র উঠে এসেছে। তথ্যদাতাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের কারখানা ৪৫-৪৬ শতাংশ, গাজীপুরের ২০ শতাংশ, চট্টগ্রামের ১৮ শতাংশ এবং ঢাকার ১৩ শতাংশ।
জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৯০ শতাংশ কারখানা বিদ্যুৎ সংকটে এবং ৭৫ শতাংশ গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যান্য সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ কারখানা। একাধিক কারণ উল্লেখের সুযোগ থাকায় এসব হার ১০০ শতাংশের বেশি হয়েছে।
গ্যাস সংকটের তীব্রতাও বেড়েছে। তথ্য দেওয়া কারখানাগুলোর হিসাবে, স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহে গড়ে প্রায় ৭৮ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। একই সময়ে দৈনিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় আগের তুলনায় প্রায় ২০০ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাট প্রায় তিন গুণ হয়েছে।
জ্বালানি সংকটে উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। আগের তুলনায় নিটিং উৎপাদন গড়ে ৩৭-৩৮ শতাংশ, ডাইং ৫১ শতাংশ এবং গার্মেন্টসের সেলাই উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। কোনো কোনো কারখানায় উৎপাদন এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্যবসায়। প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানাকে বিকল্প জ্বালানির অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে এবং একইসংখ্যক কারখানা শ্রমঘণ্টা অপচয়ের কথা জানিয়েছে। প্রায় ৮৯ শতাংশ কারখানা ক্রেতার আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। শিপমেন্ট বিলম্ব হয়েছে ৮৭ শতাংশ কারখানায়।
এ ছাড়া প্রায় ৭৮ শতাংশ কারখানার উৎপাদন আংশিক বন্ধ হয়েছে। প্রায় ৬০ শতাংশ কারখানাকে ক্রেতাদের মূল্যছাড় দিতে হয়েছে। ৫৯ শতাংশ ব্যাংক ঋণখেলাপির ঝুঁকিতে রয়েছে। আর ৫৫ শতাংশ কারখানায় রপ্তানি আদেশ বাতিল বা কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রায় ৭ শতাংশ ক্ষেত্রে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
বিকেএমইএর সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, অধিকাংশ কারখানাই গ্যাস ও বিদ্যুৎ— দুই সংকটে ভুগছে। এতে উৎপাদন এক-তৃতীয়াংশ থেকে অর্ধেক পর্যন্ত কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয়, শিপমেন্ট বিলম্ব ও ক্রেতার আস্থা হারানোর ঝুঁকি। ফলে দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট দেশের নিট পোশাক রপ্তানির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।