Image description

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রতিষ্ঠানের কোন ক্লাসরুমে কীভাবে শিক্ষকরা ক্লাস নিচ্ছেন, সেটাও আমাদের প্রতিমুহূর্তে (রিয়েল টাইম) দেখতে হবে, তদারকি করতে হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে এ ক্ষেত্রে পাইওনিয়ার হতে হবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। সুতরাং এর ম্যানেজমেন্টকে আরও সতর্ক হতে হবে। এ সময় তিনি সব প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ক্লাসরুমে গিয়ে গিয়ে মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কেও এ বিষয়ে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, টিচিং প্রফেশনে আসলেও আমাদের শিক্ষকরা অনেক সময় হাল ছেড়ে যায়। এটা তাদের দোষ নয়। আমাদের প্রয়োজন তাদেরকে গাইড করা, মোটিভেট করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া। আমাদেরকে শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতেই হবে। না আনলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এজন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের  শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত ভাবছেন, কীভাবে শিক্ষার্থীদের উন্নতিতে কাজ করা যায়। তিনি জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের উৎসাহ দিতে পুরস্কার দিচ্ছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে ড্রেস দিচ্ছেন। বাকি সবাইকেও ভাবতে হবে। আমাদের সময় কম, কিন্তু কাজ বেশি।

ড. মিলন বলেন,  পুনঃনিরীক্ষণের ফলে এবার আরও ৩ হাজারেও বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবারের এসএসসির খাতা দেখায় যারা অবহেলা করেছেন তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। 

মন্ত্রী বলেন, জানি না আপনাদের বিশ্বাস হবে কি না। আমি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে জায়গায় ছিল, যদি ঠিক সেই জায়গাটিতেই ২০ বছর পরে এসে পেতাম, তাহলেও আমি খুশি থাকতাম। আমি সেই জায়গা পাইনি। অনেক কিছুই আমরা পেয়েছি। সেগুলো অনেক না বলার কথা, নাই বা বললাম।

তিনি বলেন, আমাদের ট্রেজারার স্ট্যাটিস্টিক দিয়েছেন, আমরা কতটা বেকারত্ব তৈরি করেছি। আর এই বেকারত্বটা আমরা এন্ড অব দ্য ডে, অর্থাৎ ব্যাচেলরস ও মাস্টার্স ডিগ্রি শেষ হওয়ার পরই খুঁজে পাই। সারা দেশ বেকারত্বে ভরপুর হয়ে গেছে। আমাদের কিন্তু স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভাব নেই। প্রচুর রয়েছে। এ বছর প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষা দিয়েছে। প্রায় ১২ লাখ পাস করেছে, আর প্রায় ৮ লাখ অকৃতকার্য হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক রয়েছে। কোনো কোনো দেশের মোট জনসংখ্যাই তো কয়েক মিলিয়ন নয়। আর আমাদের দেশে আমাকে কী ডিল করতে হচ্ছে? প্রায় ৪০ মিলিয়ন শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ এই বিশাল শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে আমাকে কাজ করতে হচ্ছে। সেই দিক থেকে আমি চ্যাম্পিয়ন, নাম্বার ওয়ান। আবার পিছনের দিক থেকেও আমি নাম্বার ওয়ান। জনসংখ্যার দিক থেকেও আমরা বিশাল। বিশ্বমঞ্চে সেই জন্যই আমার এত কদর। তাই না? প্রশ্ন তোলেন শিক্ষামন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।