কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সার না পেয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন সাধারণ কৃষকরা। ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ কৃষকদের।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার পশ্চিম মাঠের পাড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন কৃষকেরা। সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের ফলে সড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা।
এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, অকৃষকরাও সারের জন্য এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে বিতরণে বিলম্ব হয়। একটি অসাধু মহল সরকারকে বিব্রত করতে সেখানে সার নিয়ে শোরগোল করছে।
বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা জানান, আমন ধানের জমিতে সার প্রয়োগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। কয়েক দিন ধরে ডিলারদের কাছে ঘুরেও চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারায় ফসলের ফলন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন তারা।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারিভাবে পর্যাপ্ত সার মজুদের কথা বলা হলেও বাস্তবে ডিলারের দোকানে গিয়ে সার পাওয়া যাচ্ছে না। তবে অতিরিক্ত টাকা দিলে গোপনে সার পাওয়া যাচ্ছে। এতে প্রকৃত কৃষকেরা বঞ্চিত হলেও একটি চক্র লাভবান হচ্ছে।
কৃষক শফিকুল ইসলাম শফি (৬২) বলেন, ডিলাররা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রকৃত কৃষকেরা চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না।
অপর কৃষক মোসলেম উদ্দিন (৫৫) বলেন, সরকার বলছে সারের কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কিন্তু ডিলারের দোকানে গেলে বলা হচ্ছে সার নাই। এভাবে চলতে থাকলে কৃষক ও কৃষি দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক প্রধান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তারা বিক্ষুব্ধ কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিযোগ ও দাবিগুলো শোনেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে সার সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সার বিতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক প্রধান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।