Image description

রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এস আলমের আমলে নিয়োগ পাওয়া চাকরিচ্যুত কর্মীদের চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি এবং ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের পাল্টা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রোববার ব্যাংকের সামনে ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

রোববার সকাল ১০টার দিকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে দুই পক্ষের লোকজন জড়ো হতে শুরু করেন। এ সময় উভয় পক্ষকে পালটাপালটি স্লোগান দিতে দেখা যায়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চাকরিচ্যুত কর্মী ও গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা ব্যাংকের সামনে অবস্থান করছেন।

গ্রাহক ফোরামের সহসভাপতি শামিম হাসনাইন বলেন, ‘ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় খবর পেয়ে আমরা সকালেই অবস্থান নিয়েছি। এস আলমের আমলে অনিয়ম ও জাল সনদের মাধ্যমে এদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যাংক এসব নিয়োগের সনদ যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেয়। পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যদের বহাল রাখারও উদ্যোগ ছিল। কিন্তু তারা পরীক্ষায় অংশ নেননি। এখন চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে ব্যাংকের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। গ্রাহক ফোরাম ব্যাংকের সামনে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা মেনে নেবে না।’

 

অন্যদিকে চাকরিচ্যুত কর্মীদের একজন আনোয়ার বলেন, চাকরি হারানোর পর দীর্ঘদিন ধরে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গঠিত নতুন পরিচালনা পর্ষদ তাদের চাকরিচ্যুত করেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘চাকরি ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত বাড়ি যাব না। চাকরি ফেরত নিয়েই বাড়ি যাব।’

 

জাল সনদে নিয়োগের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করে প্রতিবেদন দিক। আমাদের নিয়োগ অবৈধ প্রমাণিত হলে চাকরির সব টাকা ফেরত দেব। যাদের বিরুদ্ধে সমস্যা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেক। কিন্তু এভাবে সবাইকে একসঙ্গে চাকরিচ্যুত করার কোনো মানে হয় না।’

 

চাকরিচ্যুত কর্মীদের চাকরি পুনর্বহালের দাবির বিপরীতে গ্রাহক ফোরাম ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। দুই পক্ষের পালটাপালটি কর্মসূচির কারণে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।