রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও লালবাগে পৃথক ঘটনায় দুইজন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে লালবাগে ব্যবসায়িক পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩) নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ব্যবসায়িক সহযোগী মাসুমের বিরুদ্ধে। নিখোঁজের তিন দিন পর শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে লালবাগের বিসি দাস স্ট্রিটের একটি বাড়ির নিচতলা থেকে বালিচাপা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অন্যদিকে, যাত্রাবাড়ীর সনটেক এলাকায় রাব্বি (২৫) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে একটি সুপার শপের সামনের সড়ক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, লালবাগের ঘটনায় নিহত রনি যাত্রাবাড়ীর শেখদী এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তিনি জমি কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। চকবাজারের আসিক টাওয়ারের ইমিটেশন অলংকার ব্যবসায়ী মাসুমের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল।
মাসুমের কাছে রনির তিন লাখ টাকা পাওনা ছিল।
নিহতের মেয়ে রামিসা আক্তার সোনাম জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় রনি জানিয়েছিলেন, মাসুমের কাছ থেকে পাওনা টাকার চেক আনতে যাচ্ছেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের আর যোগাযোগ হয়নি। ওই দিন সন্ধ্যায় রনিকে খুঁজতে তার মা ও তিনি লালবাগে মাসুমের বাসায় যান।
সেখানে মাসুমের স্ত্রীকে পাওয়া যায়। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মাসুম দাবি করেন, তিনি রনিকে পাওনা টাকার চেক দিয়ে দিয়েছেন। এরপর রনি কোথায় গেছেন, তা তিনি জানেন না বলে জানান।
লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামিল হোসেন বলেন, রনি নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে ব্যবসায়িক লেনদেন থাকা মাসুমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাসুমের বাসার নিচতলার ফাঁকা জায়গায় বালি খুঁড়ে রনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাসুমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ওসি জানান, মাসুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাসার ভেতরে রনির মাথায় ঘুষি মারা হলে তিনি মেঝেতে পড়ে যান। পরে তার হাত-পা বেঁধে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ বালিচাপা দেওয়া হয়।
এদিকে যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় নিহত রাব্বি স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে শনির আখড়া এলাকায় থাকতেন। তিনি যাত্রাবাড়ীতে তার বাবার সঙ্গে মাছের আড়তে কাজ করতেন।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু আহমেদ বলেন, শুক্রবার সকালে খবর পেয়ে সনটেক এলাকার একটি সুপার শপের সামনের সড়ক থেকে রাব্বির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কারা এবং কী কারণে রাব্বিকে হত্যা করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অপরাধ শনাক্তকরণ দল ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শীর্ষনিউজ