Image description

রাজধানীর বনশ্রীর আলোকিত কোরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসা। এখানে গত ১৯ মে ১০ বছরের এক শিক্ষার্থী বাথরুমের ভেন্টিলেটরের গ্রিলের সঙ্গে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে। ময়নাতদন্তে জানা যায়, বলাৎকারের শিকার এই শিশু। এ ঘটনায় ওই শিশুর মা একই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী শিহাব হোসেনের (১৯) নাম উল্লেখসহ আরো কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।

বিচার ছাড়া আর কিছু চাওয়া নেই মায়ের। কিন্তু কিসের বিচার চান তিনি? বলৎকার নাকি হত্যার দিকে ঠেকে দেওয়ার?

মামলার এজহারে শিশুটির মা বলেন, ময়নাতদন্তে জানা যায়, আমার ছেলেকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। শিহাবসহ মাদ্রাসাসংশ্লিষ্ট আরো অনেকে আমার ছেলেকে দীর্ঘদিন ধরে বলাৎকার করে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে সে।

বেড়েছে শিশু নির্যাতন

চলতি বছর জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে একটি অর্ধ-বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘শিশুরাই সব’।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সারা দেশে ৩৩৬ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

বাংলাদেশে পিস অভজার্ভেটরির (বিপিও) ২০২৫ সালে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ৪১৫ নারী ও শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে৷

সংস্থাটির প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৪১৫ ঘটনার মধ্যে অন্তত ২৫টি সংগঠিত হয়েছে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায়। সংস্থাটি বলছে, এসব ঘটনার স্থান ছিল মাদ্রাসা, মসজিদ অথবা অভিযুক্ত ব্যক্তি এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্য নেই কোনো সংগঠন বা সংস্থার কাছে। তবে স্ট্রিম খুঁজে দেখেছে, চলতি বছরে অন্তত ৩৭ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর ধর্ষিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের সবাই শিশু। অধিকাংশ অভিযুক্তরা ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষক বা একই মাদ্রাসার ছাত্র। ৩৭টি ধর্ষণের অভিযোগরে মধ্যে ছেলেশিশুর সংখ্যা ২৯ আর মেয়ে ৮। ছেলে শিশুদের মধ্যে শিক্ষক দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৫ জন। সহপাঠীর দ্বারা ১ এবং মাদ্রাসার বাইরের সাধারণ মানুষ দ্বারা ৩।

এছাড়া একই শিক্ষক একাধিক ছেলেকে নির্যাতন করেছেন এমন ঘটনা পাওয়া গেছে ৪টি। এর মধ্যে একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ ৬ শিশুকে নির্যাতন করেছেন। বাকি ৪ শিক্ষক আলাদাভাবে ৩ শিশুকে নির্যাতন করেন।

চলতি বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নির্যাতনের শিকার শিশুদের অধিকাংশের বয়স ৭ থেকে ১৩ বছর। শিশুরাই সব-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু। এর ঠিক পরেই রয়েছে ০ থেকে থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুরা।

নির্যাতনের হাতিয়ার ‘ভয়’

মাদ্রাসায় ঘটা এসব ঘটনার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে ভয়। অধিকাংশ ঘটনায় কসম দেওয়া হয়েছে। কখনও মারধর করা হয়েছে। অনেককে ‘বদদোয়া’ ও মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের এক অভিভাবক ১৩ বছর বয়সী সন্তানকে কোরআন পড়তে দেন নূরজাহান রোডের বাইতুল ফজল মাদ্রাসার শিক্ষক মো. হুসাইন আহমেদের কাছে। গত ৫ মাস প্রতিদিন বিকেলে আরও অনেকের সঙ্গে কোরআন পড়তে যেতো সে। সেখানে একাধিকবার বলৎকারের শিকার হয়।

তাকে বলৎকার করতে নানাভাবে ভয় দেখাতেন শিক্ষক হুসাইন আহমেদ। এই ঘটনা জানাজানি হলে ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় ওই শিক্ষককে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই শিশুর বাবা।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, ‘আমার ওপেন হার্ট সার্জারি করা। আমার ছেলেকে ওই হুজুর বলেছে, আমার কাছে তোর সব ভিডিও করা আছে। কাউকে এই ঘটনা বললে ভিডিও প্রকাশ করে দিবো। আমার বদদোয়ায় তোর বাবা মারা যাবে।’

ধর্ষণের শিকার অনেক শিশু একাধিকবার অর্থাৎ টানা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। গণমাধ্যমে আসা তথ্য বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ শিশু লাগাতার এই ভয়াবহতা সহ্য করেছে।

সাভারের মারকাযুল উলুম আশ-শরইয়্যাহ মাদ্রাসায় গত ফেব্রুয়রিতে সাত বছরের শিশুকে ভর্তি করেন তাঁর বাবা। ভর্তির ২২ দিন না যেতেই শিশুটিকে বলৎকার করে বয়সে বড় তার এক সহপাঠী। সেই খবর জেনে যায় আরেক শিক্ষার্থী। পরে বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে শিশুটিকে সেই শিক্ষার্থীও ধর্ষণ করে। এভাবে ক্রমান্বয়ে শিশুটিকে নির্যাতন করে ওই মাদ্রাসারই আরও ৪ শিক্ষার্থী।

একই মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীর কাছে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে এক শিক্ষকের দ্বারস্থ হয় শিশুটি। কিন্তু ওই শিক্ষকও শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। একে একে শিশুটিকে ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে বলাৎকারের অভিযোগ আনেন তাঁর বাবা।

শিশুটির বাবার অভিযোগ, একে একে ৪ জন শিক্ষককে ঘটনাটি জানালেও তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নেননি। উল্টো শিশুটিকে মারধর করেছেন।

তিনি স্ট্রিমকে জানান, ঘটনাটি কাউকে না জানানোর আদেশ দিয়ে আমার ছেলেকে শাসিয়েছিলেন অভিযুক্ত ওই শিক্ষক। বাইরের কাউকে বললে সে কখনো কোরআনের হাফেজ হতে পারবে না। বাবা-মাকে জানালে আরও বেশি মারধর এবং মেরে ফেলার হুমকিও দেন।

মাদ্রাসার পরিচালক জিয়া বিন কাশেমকে এই ঘটনা জানালে তিনিও কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করেছেন ওই বাবা।

সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সামরুল হোসেন স্ট্রিমকে জানান, গ্রেপ্তার ৫ জনের মধ্যে এক শিক্ষক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ৩ কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

একই রকম ঘটনা ঘটেছে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায়। উপজেলার মুসলিমনগরের তাহসিনুল কোরআন মাদ্রাসায় শিক্ষকের বলৎকারের শিকার হয়েছেন একজন শিক্ষার্থী (১৭)। কয়েক মাস ধরে ছেলের স্বাস্থ্যের অস্বাভাবিক অবনতি তার মায়ের চোখে। ছেলেকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে গত ২ সেপ্টেম্বর ছুটির আবেদন করেন মা। কিন্তু তাঁকে ছুটি দিতে অস্বীকৃতি জানায় বলাৎকার করা শিক্ষক। সেইসঙ্গে বিভিন্ন অমূলক কথাবার্তা বলতে শুরু করেন। এতে মায়ের সন্দেহ হয়। পরে ছেলেকে জোর করে বাসা নিয়ে আসেন তিনি।

ছেলের কাছে স্বাস্থ্যের অবনতির কারণ জানতে চাইলে বেরিয়ে আসে বলৎকারের ঘটনা। দেড় বছর ধরে বলৎকারের শিকার হয় ওই শিক্ষার্থী।

যোগাযোগ করা হলে ওই শিক্ষার্থীর মামা স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমার ভাগ্নের মুখে গামছা বেঁধে ধর্ষণ করা হতো। এছাড়া তাঁকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখানো হতো।’

পরে এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে (২৮) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

কিছু ঘটনায় দেখা গেছে, অভিযুক্ত আসামিরা একজনকে নির্যাতন করে থামছেন না। গত ৬ সেপ্টেম্বর গাজীপুর নগরীর গাছা থানা থেকে মাহাবুবুর রহমান (২৫) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, নড়াইল পৌরসভার ডুমুরতলা একটি মাদ্রাসার ৬ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেছেন তিনি।

যোগাযোগ করা হলে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর মা স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমার ছেলেকে আমি মাদ্রাসায় দিয়ে আসছি। সে বর্তমানে নাজেরা পড়ছে। জানতে পারি, আমার ছেলেসহ আরো কয়েকজনকে বলৎকার করেছে মাহাবুব। পরে আমি মামলা করি।’

একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুরের বিরামপুরে। দিনাজপুরের বিরামপুরের একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা। সেখানে তিন শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে মাদ্রাসাটির শিক্ষক আলী হাসানের বিরুদ্ধে।

কী অবস্থা মহিলা মাদ্রাসার

এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে মহিলা মাদ্রাসায়ও। সম্প্রতি গণমাধ্যমে মহিলা মাদ্রাসার আট শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শিক্ষকের নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৫, মাদ্রাসার বাইরের ঘটনা ৩টি।

মা-বাবার বিচ্ছেদের পর নেত্রকোনার নানার বাড়িতে থেকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতে শুরু করে ১১ বছরের এক শিশু। শিশুটির শরীরে পরিবর্তন দেখা দিলে সিলেট থেকে আসেন তার মা। পরে ১৮ এপ্রিল পরীক্ষা করে জানা যায়, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় সামনে আসে ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী সাগরের নাম। ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে ওই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

তবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন সাগর। পরে আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন। কিন্তু ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার পর মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।

যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর মতে শিশু যখন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়, তখন সে বহুবিধ ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে পড়ে যায়।

স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘শিশু বয়সে তাঁরা যে নির্যাতনের শিকার হয় বড় হয়ে তাদের এটা করার সম্ভাবনা থাকে। তারা স্বাভাবিক যৌনতাকে স্বাভাবিক ভাবে দেখবে না। সমাজের সঙ্গেও উপযোজনের সমস্যা হতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মাদ্রাসায় পড়াশোনা করা শিশুদের অভিবাবকেরা বাচ্চার মন খারাপের কারণ জানতে চান না। বাচ্চাকে বলতেও দেন না। কারণ এটাকে তাঁরা বেয়াদবি হিসেবে বিবেচনা করে। এত বাচ্চা তার মনের কথা এবং শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের কথা বলতে পারে না। তাদের ভেতরে একধরনের অবদমন তৈরি হয়। যেসব শিশু এসব নির্যাতনের শিকার, তাদের পুনর্বাসন করাতে হবে।’

‘শিশুরাই সব’-এর আহ্বায়ক লায়লা খন্দকার স্ট্রিমকে বলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের মাদ্রাসাগুলোর ভেতর কী ঘটে, সেটা বাইরে আসে না। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতিটা জাতীয় সংকটের মতো হয়ে গেছে। মাদ্রাসাগুলোতে যৌন নিপীড়ন বিষয়ে রিপোর্ট করার এবং সেটার সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা থাকা দরকার।

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিটি মাদ্রাসায় একটি কোড অব কনডাক্ট থাকা দরকার। মাদ্রাসায় কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সময় সেখানে সাইন নিতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের সচেতন করতে হবে,। জানাতে হবে কোনটা স্বাভাবিত ব্যবহার আর কোন অস্বাভাবিক।

মাদ্রাসায় সংগঠিত যৌন নিপীড়নের তুলনায় অভিযোগ অনেক কম দায়ের হয় বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘বলাৎকারের ঘটনা ছাড়াও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে ইতিপূর্বে আলাদা করে জাজমেন্ট দিয়েছে, কাউকে শারীরিক শাস্তি বা মারধর করা যাবে না। এগুলোও বন্ধ হওয়া দরকার। কারণ, এখান থেকেই অন্য সব নির্যাতনের শুরু।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগে দণ্ডবিধি ৩৭৭ ধারায় ছেলেশিশু যৌন নির্যাতনকে ধর্ষণ হিসেবে ধরা হতো না। তবে ইন্টেরিম সরকার সেখানে কিছু সংশোধনী এনেছে। এখন ছেলেশিশু নির্যাতনকে ধর্ষণ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। তবে যদি কেউ মামলা না করেন, সেক্ষেত্রে তদন্ত, বিচার, শাস্তি—এগুলো তো দূরের বিষয়।’

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া আরো বলেন, ‘এসব ঘটনার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পরিবারকেই অভিযোগ করতে হবে, ব্যাপারটা সেরকমও নয়। যেকোনো প্রক্রিয়াতে তথ্য এলেই পুলিশ অ্যাকশন নেবে, মামলা হিসেবে রেজিস্টার করবে এবং তদন্ত করবে—এসন উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।’

মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন স্ট্রিমকে বলেন, ‘শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে অভিযোগ গ্রহণ, দ্রুত তদন্ত, আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। শিশুদের প্রতি সংবেদনশীল ও ভুক্তভোগীবান্ধব পদ্ধতিতে তদন্ত নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’