সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ করেছেন তার স্বজন। মেয়ের খোঁজ নিতে গেলে তাদের নানা রকমের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। তারা জানিয়েছেন, প্রথম দফায় ওই কিশোরীকে অপহরণের তিন দিন পর পুলিশ উদ্ধার করে। থানা থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে আবারও তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ‘দ্বিতীয় দফায় পুলিশে গেলে মেয়ের লাশ পাবি’ বলে তার বাবাকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বাড়ি উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে। সে ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ে। স্বজন জানিয়েছেন, ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের শ্রীফলকাঠি গ্রামের ব্যবসায়ী নূর ইসলামের ছেলে আবু সাঈদ তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নিয়ে যায়। পরে তাকে আটকে রাখা হয়।
মেয়েটির বাবার অভিযোগ, গত ১৯ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে বাড়ি থেকে তাঁর মেয়ে নিখোঁজ হয়। সন্ধান না পেয়ে রাতেই শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (নম্বর-১১৬০) করেন। পরে পুলিশ ২২ আগস্ট আবু সাঈদের কাছ থেকে তাঁর মেয়েকে উদ্ধার করে রাত ৯টার দিকে থানায় বুঝিয়ে দেয়। তারা বাড়ি যাওয়ার পথে আবারও পথ আটকে মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যান আবু সাঈদ ও তাঁর লোকজন।
তিনি আরও বলেন, মেয়ের সন্ধানে আবু সাঈদের বাড়ির সামনে গেলে তাদের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে তেড়ে আসেন আবু সাঈদের লোকজন। তারা হুমকি দিচ্ছেন, দ্বিতীয়বার থানা পুলিশ করলে মেয়ের লাশও মিলবে না বলে। তাঁর ভাষ্য, আবু সাঈদের পুরো বাড়িতে সিসি ক্যামেরা বসানো। সেখানে যাওয়া লোকজনের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
আবু সাঈদ গত বুধবার মোবাইল ফোনে দাবি করেন, সাদিয়াকে বিয়ে করেছেন। বাড়িতে সংসার করছেন। তাঁর কাছ থেকে ফোন নিয়ে বাবা নূর ইসলাম বলেন, আদালতের মাধ্যমে সাদিয়ার সঙ্গে ছেলের বিয়ে দিয়েছেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে বিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এক নারী উত্তেজিত কণ্ঠে কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।