বর্তমান সরকারপ্রধানের নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল—কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন পাস করা হবে না। জনগণ সেই অঙ্গীকারের প্রতি আস্থা রেখেছে। কিন্তু প্রস্তাবিত সংশোধনীতে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা ইসলামের উত্তরাধিকার, সম্পত্তি ও পারিবারিক বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট আলেম ওলামারা।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন বিল-২০২৬’ নিয়ে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
তারা বলেছেন, মুসলিমদের সম্পত্তি ও উত্তরাধিকারসংক্রান্ত বিষয়ে শরিয়াহর সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। এসব বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন বা বিধান প্রণীত হলে তা ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি কুরআনের খেলাফ আইন করলে মুসলমান ওলামায়ে কেরাম মেনে নেবে না।
মাওলানা আবদুর হামিদ পীর মধুপুরী বলেন, এই আইন কুরআনবিরোধী। মসনদে বসে কুরআনের খেলাফ আইন করলে মুসলমান ওলামায়ে কেরাম মেনে নেবে না। বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। এ দেশের আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে জনগণের ঈমান-আকিদা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও শরিয়াহর বিধানকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো সংশোধনী যেন মুসলমানদের ধর্মীয় বিধান পালনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সরকারকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, বহুত বিপদ সামনে আসছে। যে ওয়াদাগুলো করে আসছেন জনগণের ভোট নিয়ে, সেভাবে থাকেন। দেশ ভালো থাকবে, আপনি ভালো থাকবেন। ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শ করে দেশকে চালান, দীর্ঘায়ু হবেন।
দেশের গ্যাস, বিদ্যুৎ, সার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে নতুন আইন করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। তিনি বলেন, এতসব সমস্যার ভেতরে এই আইন কেন এখন করতে হবে? এখনো সময় আছে। সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন বিল-২০২৬ পাস করার আগে দেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতি, মুহাদ্দিস, ফকিহ ও আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করুন। কুরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট বিধান অক্ষুণ্ন রেখে প্রয়োজনীয় সংশোধন করুন এবং মুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় ও পারিবারিক অধিকার সংরক্ষণ নিশ্চিত করুন।
এ সময় অন্যান্য বক্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে আইনটি করতে চাইছেন—এটি আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু ভালো উদ্দেশ্য থাকলেই কোনো আইন শরিয়াসম্মত হয়ে যায় না। প্রস্তাবিত সংশোধনীর বাস্তব প্রয়োগে নানা ধরনের জটিলতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই বিষয়টি আবেগ বা রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, বরং কুরআন-সুন্নাহ, ফিকহ ও প্রচলিত আইনের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
ঈমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজীর সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মুফতি সালাহ উদ্দিন ও মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর পরিচালনায় এই গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মাওলানা আব্দুল আউয়াল নারায়ণগঞ্জ, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, ড. আহমদ আব্দুল কাদের, মাওলানা আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ হাসান, মাওলানা মজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা আবু আম্মার আব্দুল্লাহ, মুফতি আব্দুল কাইয়ুম কাসেমী, মাওলানা আবু সাঈদ নোমান, মুফতি আবু বকর সুহাইল, মাওলানা সুলতান মহিউদ্দীন, মাওলানা গাজী ইয়াকুব উসমানী, মুফতি শামসুদ্দীন কাসেমী, মাওলানা আফসার মাহমুদ, মুফতি নাজমুল হাসান বিন নূরী, মুফতি আল আমিন সরাইলী, মাওলানা ইয়ামিন হোসাইন আজমী, মুফতি হিফজুর রহমান প্রমুখ।