বাংলাদেশ আস্তে আস্তে খাদের কিনারে যাচ্ছে মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, দেশের অর্থনীতি ধ্বংসস্তূপের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হতে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার গত ছয় মাসে কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছন রাজা মিলনায়তনে জেলা জাতীয় পার্টির মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, ইউনুস সাহেব শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মানুষ হলেও তার আমলে দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ‘মব’ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা করেননি, জাতি গঠন করেননি। তার আমলে জাতিকে বিভাজিত করা হয়েছে, জাতীয় ঐতিহ্য ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্বার্থে ও গণতন্ত্র উত্তরণের স্বার্থে আমরা ভোটে গিয়েছিলাম। কিন্তু একটি সুপরিকল্পিত ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে সকল আসনে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরও আমরা সরকারকে স্বাগত জানিয়েছিলাম যাতে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে, শান্তি ফিরে আসে এবং জাতি হিসেবে আমরা রক্ষা পাই। কিন্তু দুঃখভারাক্রান্ত মনে আমরা দেখলাম, ছয় মাসের মধ্যেই দেশে সার নেই, বিদ্যুৎ নেই, জ্বালানি নেই, গ্যাস নেই। যদি গঙ্গা-পদ্মা পানি চুক্তি নতুন করে স্বাক্ষর করা না যায়, তবে কিছুদিন পর পানিও থাকবে না। সার না থাকলে কিছুদিন পর খাদ্যসংকট দেখা দেবে। চাকরি নেই, আয়-রোজগার নেই। পুরো দেশ আস্তে আস্তে খাদের কিনারে যাচ্ছে। বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হতে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার গত ছয় মাসে কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারেনি।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব আরও বলেন, জাতীয় পার্টিকে ছাড়া বর্তমান সংসদ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সংসদে কোনো সংসদীয় চর্চা হয় না, কোনো সংসদীয় ভাষা প্রয়োগ করা হয় না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। সম্প্রতি রংপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের চারজনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বাড়ছে, যার কারণে আমরা একটি সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছিলাম। এছাড়া দেশে শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা সরকারকে বলতে চাই, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের মডেল অনুসরণ করুন এবং দেশকে বাঁচান।
জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মনির উদ্দিন মনিরের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদা হিমেলের সঞ্চালনায় সভায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম জহির, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, আরিফুর রহমান খান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান খলিল ও জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান আহাদ ইউ চৌধুরী শাহীনসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।