ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও জাতীয় পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য মেঘমল্লার বসু ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তবে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতা অনিক রায়।
আজ বৃহস্পতিবার আগামীর সময়কে অনিক রায় বলেন, মেঘমল্লার বসুর জ্ঞান ফিরেছে। তবে ফুসফুসে কিছুটা সমস্যা থাকায় চিকিৎসকরা তাকে ঘুমের মধ্যে রাখছেন। জেগে উঠলে ফুসফুসে চাপ বাড়তে পারে বলে চিকিৎসকরা মনে করছেন। তবে বর্তমানে তার ফুসফুসের অবস্থাও আগের তুলনায় অনেক ভালো।
তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে ধীরে ধীরে মেঘমল্লারকে দেওয়া অক্সিজেনের মাত্রা কমানোর চেষ্টা করা হতে পারে। বর্তমানে তার আগের মতো ভেন্টিলেশন সাপোর্টের প্রয়োজন হচ্ছে না। তিনি স্বাভাবিকভাবেই অক্সিজেন নিতে পারছেন।
হাসপাতালের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা এনপিএর সদস্য সচীব তানভীর জানান, আগে থেকেই মেঘমল্লার বসু শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। গত পরশু সংক্রমণের কারণে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় এবং অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাওয়ায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাইরে থেকে দেওয়া অক্সিজেনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমানো হয়েছে এবং বর্তমানে তা স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, রোগী এখনো আইসিইউতে আছেন। তবে তার কনশাসনেস লেভেল বাড়ছে। সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, আজ রাতের মধ্যে তিনি পুরোপুরি সচেতন হতে পারেন বলে ডাক্তাররা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, রোগীর রক্তচাপ, পালসসহ অন্যান্য শারীরিক পরামিতিও বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চার সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডে চারজন অধ্যাপক রয়েছেন এবং হাসপাতালের পরিচালক নিজে চিকিৎসার বিষয়টি তদারক করছেন। বৃহস্পতিবার চার অধ্যাপকই রোগীকে দেখে গেছেন এবং তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী রোগীর অবস্থা উন্নতির দিকে।
গত সোমবার দিবাগত রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা গেইট এলাকা থেকে মেঘমল্লার বসুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তার পরিচিতজনরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। মেঘমল্লারের চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল সূত্র জানায়, বিষক্রিয়ার সমস্যা দেখা দেওয়ায় তার পাকস্থলী ধৌত করা হয়েছিল। মঙ্গলবার বিকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে একই ভবনের পঞ্চম তলার আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।