Image description

উপসাগরীয় অঞ্চলে একের পর এক জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সময়ে তামার দাম উঠেছে রেকর্ড উচ্চতায়। বিপরীতে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে দরপতন হলেও জাপানি ইয়েনের দাম বেড়েছে। খবর রয়টার্সের 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা ও শহরে হামলা চালানোর পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্টের দাম প্রায় ৯৯ ডলারে পৌঁছায়।

সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় ডিজেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। একইভাবে বেড়েছে পেট্রোলের দামও। এমনকি তাৎক্ষণিক সরবরাহের জন্য বাজারে থাকা অপরিশোধিত তেলের দামও ফিউচার বা ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তির দামের চেয়ে অনেক বেশি। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সংঘাতের প্রভাব কতটা গভীর হয়েছে, তার ইঙ্গিত মিলছে।

এদিকে মূল্যস্ফীতি আবার বাড়তে থাকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শেয়ারবাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো বন্ডের সুদহার কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠা। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ওপর সুদের হার বাড়ানোর চাপ বাড়ছে।

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ইউরোজোনে সুদের হার ০.২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়াবে—এমনটাই প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে ব্যাংক অব জাপানও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে বলে প্রত্যাশা জোরালো হচ্ছে। এর ফলে গত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানের দিকে এগোচ্ছে ইয়েন।

এদিকে ইউরোপের শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। ইউরোপের প্রধান সূচক স্টক্স ৬০০ কমেছে ০.৪ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের ফিউচার ০.৩ শতাংশ কমেছে। তবে নাসডাকের ফিউচার ০.১ শতাংশ বেড়েছে। দীর্ঘ ছুটির পর ওয়াল স্ট্রিটের বাজার খুললে প্রযুক্তি খাতে সামান্য ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে এটি।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামই মূল আলোচনায় থাকলেও বৈশ্বিক বাজারের জন্য ইয়েনের দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কম সুদের মুদ্রা হিসেবে ইয়েন ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীরা ঋণ নিয়ে বেশি সুদ পাওয়া বিভিন্ন মুদ্রা, বন্ড ও শেয়ারে বিনিয়োগ করে আসছেন। ‘ক্যারি ট্রেড’ নামে পরিচিত এই কৌশল এখন উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করেছে।

ব্যাংক অব জাপান সুদের হার বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সময়ে জাপানি বন্ডের সুদহার রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মূলধন জাপানে ফিরতে শুরু করেছে। ফলে ইয়েন-ভিত্তিক ক্যারি ট্রেড থেকে বিনিয়োগকারীরা বেরিয়ে আসছেন। ২০২৪ সালে সর্বশেষ ইয়েন এত দ্রুত শক্তিশালী হওয়ার সময়ও ক্যারি ট্রেডে একই ধরনের বিপরীতমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। তখন বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।