Image description

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় আপিল শুনানি শেষ হয়েছে। এ মামলাটি যেকোনও দিন রায়ের জন‍্য নির্ধারণ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। 

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে শুনানি শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমান রাখেন। 

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা। 

মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও শ্রমিকনেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার গাজীপুর-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সমাবেশে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় আহসান উল্লাহ মাস্টারকে। এই ঘটনায় করা হত্যা মামলার রায় ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল ঘোষণা করেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। রায়ে মামলার আসামি বিএনপির নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ছয় জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। রায়ের পর মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত দুই জন মারা যান। 

২০০৫ সালে অধস্তন আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল হাইকোর্টে যায়। একই সঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৫ জুন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন। 

রায়ে ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড ও দুজনের যাবজ্জীবন বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। আর সাজা কমেছে সাত জনের। খালাস পেয়েছেন ১১ জন।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকা ছয় আসামি হলেন— নুরুল ইসলাম সরকার, নুরুল ইসলাম দীপু, মাহবুবুর রহমান মাহবুব, শহীদুল ইসলাম শিপু (৪ জানুয়ারি কাশিমপুর কারাগারে মারা যান), হাফিজ ওরফে কানা হাফিজ ও সোহাগ ওরফে সরু। যাবজ্জীবন বহাল রাখা হয় টিপু ও নুরুল আমিনের। 

মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে সাত জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তারা হলেন— মো. আলী, সৈয়দ আহমেদ হোসেন মজনু, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু, রতন মিয়া ওরফে বড় মিয়া রতন, জাহাঙ্গীর ওরফে ছোট জাহাঙ্গীর, আবু সালাম ওরফে সালাম ও মশিউর রহমান ওরফে মনু। এছাড়া মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেয়েছেন আমির হোসেন, জাহাঙ্গীর ওরফে বড় জাহাঙ্গীর, ফয়সাল, রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির, খোকন, লোকমান ও দুলাল মিয়া।

একই সঙ্গে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে খালাস পেয়েছেন মনির, রকিব উদ্দিন সরকার ওরফে পাপ্পু, আইয়ুব আলী ও জাহাঙ্গীর। 

পরে দণ্ডিত আসামিরা খালাস চেয়ে আপিল করেন।