দেশের তৃণমূল পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ: উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’র আওতায় এই শ্রেণির উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন ঋণের বিশেষ কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় এই ব্যাংক।
এই কর্মসূচির আওতায় দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শাখা থেকে তৃণমূল পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করা হবে। একই সঙ্গে তরুণদের উদ্যোগ-সম্পর্কিত ধারণা ও প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ মূল্যায়ন ও আর্থিক সহায়তার এসব কাজ করবে ব্যাংকগুলো। নির্দিষ্ট ফরমে উপজেলার যেকোনো ব্যাংক শাখায় আবেদন জমা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান, সহকারী মুখপাত্র মো. শাহরিয়ার সিদ্দিকীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বৈঠকে জানানো হয়, প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে নির্বাচিত প্রত্যেক উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। এই সহায়তা প্যাকেজের অর্ধেক দেওয়া হবে ব্যাংকঋণ হিসেবে এবং বাকি অর্ধেক দেওয়া হবে অনুদান হিসেবে।
যেসব খাতে দেওয়া হবে এই ঋণ
কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, গবাদিপশু পালন, পর্যটন, সেবা খাত এবং প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগসহ বিভিন্ন প্রস্তাব এ ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, অর্থায়নের পাশাপাশি নির্বাচিত উদ্যোক্তারা প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরদের পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা এবং বাজার সংযোগের সুবিধা পাবেন, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করবে।
ঋণের জন্য আবেদন যেভাবে
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হবে এবং নির্দিষ্ট ফরমে উপজেলার যেকোনো ব্যাংক শাখায় আবেদন জমা দেওয়া যাবে।
আবেদনের শেষ তারিখে যেসব বাংলাদেশি নাগরিকের বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলায় বসবাস করছেন, তারা পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে আবেদনের সুযোগ পাবেন। আবেদন করার জন্য প্রার্থীরা এক মাস সময় পাবেন।
যেসব জেলায় ঋণ দেওয়া শুরু হবে
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, প্রাথমিকভাবে মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনাসহ আটটি জেলায় এ কর্মসূচি চালু করা হবে। ধীরে ধীরে ৬৪ উপজেলায় কর্মসূচি চালু হলে প্রতি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হবে। পরে এটি সারা দেশে সম্প্রসারণ করে প্রতি বছর পাঁচ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে সহায়তার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ঋণ অংশের জন্য গ্রাহক পর্যায়ে সুদের বা মুনাফার হার হবে ৪ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে এবং এর জন্য উদ্যোক্তাকে কোনো প্রকার জামানত দিতে হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে অযোগ্য
তবে কোনো ঋণগ্রহীতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে অনুদানের অংশটি একটি সুদমুক্ত ঋণে পরিণত হবে। সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তিনি ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবেন এবং ভবিষ্যতে অন্য যেকোনো ব্যাংকঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, প্রাথমিকভাবে এই স্কিমের জন্য ৫০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে, যেখানে অনুদান ফান্ড হিসেবে ব্যবহারের জন্য ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরবরাহ করা হবে।