Image description

পদোন্নতির সুযোগ না থাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য দুটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে সময়সীমা কমানোর জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। নতুন বেতন কাঠামোতে আগের মতোই ১০ ও ৬ বছরের সময়সীমা বহাল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। 

জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ চাকরির ১০ ও ৬ বছরের পরিবর্তে ৫ ও ৫ বছর পূর্তিতে দুটি উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার সুপারিশ করে। পদোন্নতি না পাওয়া কর্মচারীদের বঞ্চনা কমাতে এই সুপারিশ করা হয়েছিল। 

তবে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোতে উচ্চতর গ্রেড ২০১৫ সালের পে স্কেলের মতোই ১০ ও ৬ বছরের সময়সীমা বহাল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারণ, পদোন্নতি না পাওয়া কর্মচারীদের পাঁচ বছর পরপর বেতন বাড়ালে সরকারে আর্থিক ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। 

গত সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। এখন তা বাস্তবায়নের কাজ শুরুর জন্য গেজেট প্রকাশের জন্য কাজ করছে অর্থ বিভাগ। 

সাবেক অর্থ সচিব ও জাতীয় বেতন কমিশনের সভাপতি জাকির আহমেদ খান গতকাল বুধবার সমকালকে বলেন, উচ্চতর গ্রেডের সময়সীমা কেন কমানো হয়েছে তার ব্যাখ্যা বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে বিস্তারিত বলা আছে। অর্থ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সেটা জানা যাবে।

এ বিষয়ে জানতে অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পর টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেছিলেন, এ বিষয়ে এসআরও জারি না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। নিয়ম বা পরিবর্তনগুলো প্রজ্ঞাপন জারির পরই স্পষ্ট হবে।

সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, সরকারের যেগুলো ব্লক পদ, সেই দপ্তরের কর্মচারীদের পদোন্নতির কোনো সুযোগ নেই। তাদের যৌক্তিক সময়ে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের মাধ্যমে বেতন বৃদ্ধি করা উচিত। কারণ, এটা ছাড়া তাদের বেতন বৃদ্ধির কোনো পথ নেই।

জাতীয় বেতন স্কেল, ২০০৯ অনুযায়ী নিম্ন বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারীরা চাকরির ৮, ১০, ১২ ও ১৫ বছর পূর্তিতে চারটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পেতেন। তবে জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫-তে এ ব্যবস্থা পরিবর্তন করে চাকরির ১০ ও ৬ বছর পূর্তিতে দুটি উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার বিধান করা হয়।

কর্মচারী নেতারা জানান, জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫-এর সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা আগের বেতন স্কেলে কর্মচারীদের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়কাল কমিয়ে আনার অনুরোধ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ১০ ও ৬ বছরের পরিবর্তে চাকরির ৫ ও ৫ বছর অন্তর দুটি উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার সুপারিশ করে। সেই সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন কর্মচারী নেতারা। 

আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম বলেন, একজন কর্মচারী যে পদে চাকরিতে যোগদান করেন, অবসরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁকে সেই একই পদেই কর্মরত থাকতে হয়। ফলে যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কর্মচারীরা পরবর্তী ধাপে উন্নীত হতে পারেন না। 
তিনি বলেন, অর্থ বিভাগ থেকে বেতন কমিশনের সুপারিশ বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এতে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের পদোন্নতি না হলেও নির্দিষ্ট সময় পর আর্থিক সুবিধা দেওয়ার বিধান রয়েছে জাতীয় পে স্কেল ২০১৫-তে। একই পদে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকলেও পদোন্নতি না পাওয়া কর্মচারীদের জন্য দুই দফা উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ রাখা হয় ওই বেতন কাঠামোয়।

জাতীয় পে স্কেল ২০১৫-এর ৭(১) উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ১০ বছর পূর্ণ করলে এবং তাঁর চাকরি সন্তোষজনক হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১১তম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাবেন। এ ছাড়া ৭(২) উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, চাকরির ১০ বছর পূর্তিতে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর পরবর্তী ছয় বছরের মধ্যে পদোন্নতি না হলে সপ্তম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাবেন কর্মচারী। তবে এই সুবিধা নিয়ে কোনো কর্মচারী তৃতীয় বা তার ওপরের গ্রেডে বেতন প্রাপ্য হবেন না।