আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে দেশে সয়াবিন তেলের মূল্য প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম আগের ১৯৯ টাকা থেকে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান ব্রিফিংয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সচিব জানান, এই মূল্য সমন্বয় আপাতত কেবল বোতলজাত সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। পাম অয়েল বা অন্য কোনো ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রে আপাতত মূল্য পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
সচিব বলেন, ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘদিন ধরে দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে আসছিল। ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করা হয়েছে যাতে বাজারে তেলের সরবরাহ পরিপূর্ণভাবে অব্যাহত থাকে। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা আশ্বাস দিয়েছেন যে আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে বাজারে তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা হবে এবং কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে দেওয়া হবে না।
বাণিজ্য সচিব স্পষ্ট করেন যে, এই মূল্য স্থায়ী নয়। সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আগামী দুই সপ্তাহ, তিন সপ্তাহ বা এক মাসের মধ্যে বাজার পরিস্থিতি পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হ্রাস পেলে স্থানীয় বাজারেও দাম কমিয়ে পুনরায় সমন্বয় করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
কলকারখানায় গ্যাস সংকটের কারণে চিনি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে সচিব বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ এ নিয়ে কাজ করছে যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদনকারী শিল্পগুলোতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়। এছাড়া বাজারে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের নিজস্ব মেকানিজম রয়েছে এবং প্রয়োজনে টিসিবির মাধ্যমে চিনি সরবরাহ করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
সদ্য ঘোষিত পে স্কেলের কারণে বাজারে তাৎক্ষণিক মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বেতন বৃদ্ধি ধাপে ধাপে কার্যকর হওয়ায় বাজারে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। এবং যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে।