তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত প্রসার, ডিজিটাল সেবা গ্রহণ এবং ইন্টারনেটের সর্বব্যাপী ব্যবহারের ফলে দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটেছে। মাত্র এক দশকের ব্যবধানে ব্যান্ডউইথের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে ৯৫ গুণেরও বেশি। কিন্তু এর সিংহভাগই আসছে ভারত থেকে ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) অপারেটরদের মাধ্যমে। এতে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা যাচ্ছে ভারতে। গত ৮ বছরে এর পরিমাণ ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর এই ব্যান্ডউইথেই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন-২০০০ এবং টেলিযোগাযোগ আইন-২০২৩ অনুযায়ী ভারতের ভূখ- দিয়ে প্রবাহিত যেকোন ডিজিটাল ডেটা ও টেলিযোগাযোগ বার্তা নজরদারি, পর্যবেক্ষণ বা ডিক্রিপ্ট করতে পারে দেশটির রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র), ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি), ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) এবং সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) সহ ১০টি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থা। ফলে ভারতের স্থলভাগের এই ট্রানজিট ক্যাবলের মাধ্যমে ডেটা প্রবাহ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয়, বাণিজ্যিক এবং নাগরিক যোগাযোগের স্পর্শকাতর তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সরাসরি বা পরোক্ষ নজরদারির আওতায় পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। এতে দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্বও ভারতের হাতে চলে যাচ্ছে।
তারা বলছেন, ডিজিটাল যুগে তথ্যই হলো চূড়ান্ত অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি। একটি দেশের ভার্চুয়াল সীমানা যদি উন্মুক্ত থাকে এবং ট্রানজিট রুটের কারণে তথ্যের নিয়ন্ত্রণ অন্য রাষ্ট্রের কাছে চলে যায়, তবে জাতীয় স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে পড়ে। ভারতের হাতে নিজেদের স্পর্শকাতর ডেটা তুলে দেওয়া বন্ধ করতে হলে অনতিবিলম্বে আইটিসির মাধ্যমে ব্যান্ডউইথ আমদানি কমিয়ে সরকারি বা বেসরকারিভাবে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ব্যান্ডউইথ বাড়িয়ে নিজস্ব ডিজিটাল সীমানা সুরক্ষিত করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মাহমুদ শাহেদ বলেন, “আইটিসির মাধ্যমে ভারত থেকে যে ব্যান্ডউইথ বাংলাদেশে আসছে এই ডেটার সিকিউরিটি বলতে কিছু নেই। কারণ ভারত তাদের টেরিটরিতে যেকোন ডেটা ট্রাফিক নজরদারি করতে পারে। এটা ভারতে আইন। ফলে বাংলাদেশ বড় ধরণের ঝুঁকিতে আছে। বাংলাদেশের যেকোন গোপন ও স্পর্শকাতর ডেটা তারা নজরদারি করতে পারবে”।
বিটিআরসি ও খাতসংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৫ সালে দেশে যেখানে মোট ব্যান্ডউইথের চাহিদা ছিল মাত্র ১৪১ জিবিপিএস (গিগাবিটস পার সেকেন্ড), ২০২৬ সালে এসে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ দশমিক ৫ টিবিপিএস (টেরাবিটস পার সেকেন্ড)-এ। অর্থাৎ গত ১১ বছরে দেশে ডেটা বা ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বেড়েছে ৯৫ গুণেরও বেশি। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্ট ডিভাইস, ফাইভ-জি নেটওয়ার্কের বিস্তার, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের প্রভাবে আগামী কয়েক বছরে এই চাহিদা আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। ব্যান্ডউইথের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যেহারে দেশে ব্যান্ডউইথের চাহিদা ও ব্যবহার বাড়ছে তাতে ২০২৮ সালে ব্যান্ডউইথের চাহিদা দাঁড়াবে ২৭ টিবিপিএস, ২০৩০ সালে ৫৪ টিবিপিএস, ২০৩২ সালে ১০৮ টিবিপিএস, ২০৩৪ সালে ২১৬ টিবিপিএস এবং ২০৩৬ সালে ৪৩২ টিবিপিএস।
এদিকে বাংলাদেশ বর্তমানে মাত্র দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) এর অধীনে সি-মি-উই-৪ থেকে আসছে ৪.৬ টিবিপিএস, সি-মি-উই-৫ এর মাধ্যমে ২.৫ টিবিপিএস (দুটি মিলিয়ে ৭.১ টিবিপিএস)। ফলে চাহিদার ১৩ দশমিক ৫ টিবিপিএস ব্যান্ডউইথের বাকী ৬.৪ টিবিপিএস আসছে ৭টি ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) অপারেটরের মাধ্যমে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের ৭.১ টিবিপিএসের বাইরে প্রয়োজন হবে ১২ টিবিপিএস, ২০২৮ সালে ১৯.৯ টিবিপিএস। একদিকে ব্যান্ডউইথের চাহিদা যখন বাড়ছে তখন ইতোমধ্যে ২০০৫ সালে যুক্ত হওয়া ২০ বছর মেয়াদী সি-মি-উই-৪ এর মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন একটি মেয়াদোত্তীর্ণ আয়ুষ্কাল পার করছে। ইতোমধ্যে এই ক্যাবলের চার্জ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত এটি লাভজনক থাকলেও এরপর থেকে কার্যকরিতা কমতে থাকবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সি-মি-উই-৬ থেকে শিগগিরই ব্যান্ডউইথ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই সাবমেরিন ক্যাবল নিয়ে নানা মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকান অংশে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাও নেই।
ফলে আগামী কয়েক বছরে যে বিপুল পরিমাণ ব্যান্ডউইথের চাহিদা বাড়বে সেটি পূরণ করতে নতুন সাবমেরিন ক্যাবল যুক্ত না করলে ভারতের ওপর নির্ভরতা ছাড়া কোন বিকল্প থাকবে না। যা একদিকে যেমন ডেটা সুরক্ষার, ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের ঝুঁকি বাড়াবে, অন্যদিকে কেবলমাত্র একটি দেশের ওপর নির্ভরতা এবং এতো বিপুল সংখ্যক ব্যান্ডউইথ আমদানির এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে দেশের আর্থিক খাত, ফ্রিল্যান্সিং, রপ্তানিমুখী শিল্প ও সাধারণ ইন্টারনেট সেবায় আকস্মিক ধস নামবে, যা এক ধরনের ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট বা ‘কিল-সুইচ’ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
বিভিন্ন দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশ এখন কেবল ২টি সাবমেরিন ক্যাবলের যুক্ত হয়েছে। যেখানে পার্শবর্তী দেশ ভারত সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ২০টিতে যুক্ত এবং নতুন আরো ৩টির প্রক্রিয়া চলমান, পাকিস্তান ৭৮টিতে যুক্ত এবং আরো ২টির প্রক্রিয়া চলমান, সিঙ্গাপুর ৩০টিতে যুক্ত এবং ১৩টির প্রকিয়া চলছে, মালয়েশিয়া ২৪টিতে যুক্ত এবং ৫টির প্রক্রিয়া চলমান, ইন্দোনেশিয়া ৬১টিতে যুক্ত এবং নতুন ১০টিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে, থাইল্যান্ড ১২টিতে যুক্ত এবং নতুন ২টিতে প্রক্রিয়া চলছে, শ্রীলংকা ৮টিতে যুক্ত আছে এবং আরো নতুন ১টি সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল পিএলসি’র সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিডিনেট কমিউনিকেশন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ২০০৫ সালে বাংলাদেশ যে সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হয়েছিল তার মেয়াদকাল ছিল ২০ বছর। এখন ধীরে ধীরে তার সক্ষমতা কমবে। ২০৩০ সালের পর এটি অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর থাকবে না। অন্যদিকে সি-মি-উই-৬ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু দেশে প্রতিনিয়তই ডেটার চাহিদা বাড়ছে। যার প্রাথমিক যোগান আসবে ভারত থেকে। কিন্তু একটি দেশের ওপর এতো বেশি নির্ভরশীলতা বাড়ালে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি থাকে।
তিনি বলেন, সরকারকে এখনই বিকল্প চিন্তা করতে হবে। নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে হবে, প্রয়োজনে বিভিন্ন দেশ যেভাবে সরকারি-বেসরকারিভাবে সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হয়েছে সেটি করতে হবে।
ভারতের আইনে ডেটা নজরদারির সুযোগ :
ভারতের ভূখ- বা ভৌগলিক সীমানার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যে কোন ডিজিটাল ডেটা ও টেলিযোগাযোগ বার্তা নজরদারি, পর্যবেক্ষণ বা ডিক্রিপ্ট করার ক্ষেত্রে সরকারের সুনির্দিষ্ট আইনি ক্ষমতা রয়েছে। দেশটির তথ্যপ্রযুক্তি আইন-২০০০ এর ৬৯ ধারায় বলা হয়েছে- ভারতের যে কোন কম্পিউটার রিসোর্স বা সর্ভারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যে কোন তথ্য নজরদারি, আটক বা ডিক্রিপ্ট করার জন্য কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার যে কোন তদন্ত সংস্থাকে নির্দেশ দিতে পারে। ভারতের ভৌগলিক সীমানায় অবস্থিত সার্ভার, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন বা রাউটারের মধ্য দিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক ট্রানজিট ডেটাও ‘কম্পিউটার রিসোর্সের মাধ্যমে প্রবাহিত বলে এই আইনের আওতায় অন্তর্ভূক্ত হবে। আন্তর্জাতিক আইটিসি সংযোগের রাউটার ও সুইচগুলো ভারতের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে থাকায় এই আইন সরাসরি কার্যকর হয়।
ধারাটির উপধারা (৩) অনুযায়ী, মধ্যবর্তী সংস্থা বা কম্পিউটার রিসোর্সের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে এই নজরদারির সম্পূর্ণ কারিগরি সহায়তা ও ডিক্রিপশন সুবিধা দিতে হয়।
ভারতের টেলিকমিউনিকেশন অ্যাক্ট, ২০২৩ এর ধারা ২০ (২) অনুযায়ী- জনজরুরি অবস্থা বা জননিরাপত্তার অজুহাতে ভারতের যেকোনো টেলিকম নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ, নির্দিষ্ট ব্যক্তির বার্তা আটকে রাখা এবং ডেটা প্রবাহের গতি নিয়ন্ত্রণ বা স্থগিত করার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সরকারকে। এই আইনে টেলিকমিউনিকেশনের আওতায় অপটিক্যাল ফাইবার, বেতার তরঙ্গ ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রেরিত সব ধরনের ডেটা ট্রাফিক অন্তর্ভূক্ত।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে ভারতের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা- ইন্টিলিজেন্স ব্যুরো (আইবি), আন্তর্জাতিক (ভারতের বাইরের দেশগুলোতে কাজ করে) গোয়েন্দা সংস্থা- রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র), কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা- ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ), সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন সিবিআই-সহ ভারতের মোট ১০টি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও তদন্তকারী সংস্থাকে এই ডেটা নজরদারির ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
এর ফলে ভারত থেকে আসা ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করে বাংলাদেশের যেকোন ধরণের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্য আদান-প্রদান হলে তা নজরদারির সুযোগ থাকছে ভারতের।
টেলিকম ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেটের সাধারণ ট্রাফিক এনক্রিপ্টেড থাকলেও আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির সামনে ডেটা পুরোপুরি সুরক্ষিত নয়। সাধারণ ব্যাংকিং বা সুরক্ষিত যোগাযোগের কনটেন্ট এনক্রিপ্ট করা থাকলেও ‘মেটাডেটা’ অর্থাৎ কারা যোগাযোগ করছে, যোগাযোগের সময়, ডেটার আকার, আইপি অ্যাড্রেস এবং ভৌগোলিক অবস্থান পুরোপুরি দৃশ্যমান থাকে। ডিপ প্যাকেট ইন্সপেকশন প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকারি নীতিনির্ধারক, সামরিক দপ্তর বা গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ট্রাফিক প্যাটার্ন সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব।
দেশের অনেক অভ্যন্তরীণ ওয়েবসাইট, ইমেইল সার্ভার এবং প্রাতিষ্ঠানিক ডেটা এখনও দুর্বল বা আন-এনক্রিপ্টেড প্রোটোকলে পরিচালিত হয়। ভারতের ট্রানজিট রুটে এসব ডেটার ‘ম্যান-ইন-দ্য-মিডল’ ইন্টারসেপশন কিংবা ডিএনএস স্পুফিংয়ের মাধ্যমে স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার প্রযুক্তিগত ঝুঁকি প্রবল।
আবার বর্ডার গেটওয়ে প্রোটোকল (বিজিপি) হাইজ্যাক করে কৌশলগতভাবে বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কোনো স্পর্শকাতর ট্রাফিক ভারতীয় সার্ভারের মধ্য দিয়ে ঘুরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ট্রানজিট প্রোভাইডারদের থাকে। তথ্য চুরির পাশাপাশি সবচেয়ে বড় হুমকি হলো জাতীয় সংকট বা দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনার সময় ব্যান্ডউইথ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা। ভারত চাইলে তাদের টেলিকমিউনিকেশন আইনের ধারা ২০ প্রয়োগ করে ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র অজুহাতে একতরফাভাবে বাংলাদেশের আইটিসি ব্যান্ডউইথ স্থগিত বা থ্রটলিং (গতি মন্থর) করতে পারে।
দেশে ন্যাশনাল ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ (এনআইএক্স বা নিক্স) চালু থাকলেও এখনও অনেক স্থানীয় ডেটা ট্রাফিক বাইরে ঘুরে আসে। অর্থাৎ ঢাকার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে পাঠানো কোনো আন-এনক্রিপ্টেড ফাইল বা সরকারি ডেটা যদি সঠিক বিজিপি কনফিগারেশনের অভাবে ভারতের আইটিসি হয়ে ঘুরে আসে, তবে তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে বিদেশি আইন ও নজরদারির আওতায় পড়ে যায়।
এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ডাটার ঝুঁকি কিছুটা রয়েছে। এই সময়ে আসলে ডাটাকে প্রাইভেট রাখা খুব কঠিন হয়ে গেছে। তারপরও আমার দীর্ঘমেয়াদী কিছু পরিকল্পনা করছি। ২০২৭ সালের মধ্যে আমরা নতুন একটি সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছি। যেখান থেকে ১৭ টিবিপিএস ব্যান্ডউইথ পেতে পারি। এছাড়া তিনটি কোম্পানি একটি কনসোর্টিয়াম করে সাবমেরিন ক্যাবল আনতে চায়, তাদের বিষয়টি নিয়েও আমরা কাজ করছি। পলিসিগত কিছু বিষয় আছে। সেগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে। আশা করি চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা আরো বেশি ব্যান্ডউইথের ব্যবস্থা করতে পারবো।