রফিক সাহেবের (ছদ্মনাম) হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে হঠাৎ একটি কল এলো। প্রোফাইলে র্যাংক ব্যাজসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ছবি। অন্যপ্রান্ত থেকে বলা হলো, আর্মি হেডকোয়ার্টার থেকে বলছেন। নির্বাচনে ডিউটি করার সময় সফটওয়্যারে নাকি তার নাম রয়ে গেছে, ডিলিট করতে পারছেন না।
করণীয় হিসেবে জানালেন, একটি কোড যাবে রফিক সাহেবের মোবাইলে, সেই কোডটি যেন রিসিভ করেন। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেলো। বন্ধ হলো ওয়াইফাই! ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে পারলো না চক্রটি। তবে পরপর দুটি কোড এলো মোবাইল নম্বরে।
ডিজিটাল যোগাযোগের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে পরিচয় জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একাধিক চক্র। এক চক্রকে গ্রেফতার করলে অন্য চক্র একই কাজ চালিয়ে যায়।
পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো সরকারি কর্মকর্তার নাম বা ছবি ব্যবহার করা হলেই ওই নম্বরটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার, এমন নিশ্চয়তা নেই।
এক ঘণ্টা হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধের পর দেড় লাখ হাওয়া
লতিফুর রহমানের (ছদ্মনাম) হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল করে এক ব্যক্তি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তিনি বলেন, আপনার মোবাইল নম্বর ক্লোন করে বিভিন্ন নম্বরে পুলিশের নামে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এ কথা শুনে ভীত হয়ে কলদাতার নির্দেশনা অনুযায়ী হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংসে গিয়ে একটি অপশন চালু করেন লতিফুর। পরে তাকে এক ঘণ্টার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ রাখতে বলা হয়।
পুনরায় অ্যাকাউন্ট চালুর পর লতিফুর বুঝতে পারেন, হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করে বন্ধু ও স্বজনদের কাছ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ছবিগুলো আসল, তবে ব্যক্তির পরিচয় নকল
লতিফুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত বছরের ১০ জুলাই আমার সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া যায়। তখন আমি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারি। পরে রাজধানীর কলাবাগান থানায় মামলা করি। এ ঘটনায় পুলিশ ১১ জনকে গ্রেফতার করে।’
গত ২৮ আগস্ট এক নারী ফেসবুকে ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘গতকাল স্কুলে যখন বসেছিলাম, তখন হঠাৎ এই নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কল এলো। বললো, তিনি নাকি আর্মি হেডকোয়ার্টার থেকে বলছেন। নির্বাচনের সময় আমি ডিউটি করেছি তাদের সফটওয়্যারে আমার নাম তালিকাভুক্ত আছে। তা তারা ডিলিট করতে পারছেন না।
এ কারণেই একটি কোড আসবে আমি যেন সেই কোডটি রিসিভ করি। এরই মধ্যে কারেন্ট চলে গেল এই চক্রটি আর আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে পারলো না। পরপর দুটি কোড ও আমাকে পাঠিয়েছে। আপনাদের প্রতি অনুরোধ এরকম ফোন করে যদি কোনো কোড নম্বর পাঠায় তাহলে আপনারা সেটি অ্যাকসেপ্ট করবেন না। করলেই বিপদ হবে। এমনভাবে ছবি দেওয়ার কথা বলে যেন আর্মি হেডকোয়ার্টার থেকেই বলছে। এগুলো একটি সংঘবদ্ধ চক্র। দয়া করে সবাই সতর্ক থাকবেন।’
পুলিশ বলছে, এসব ঘটনায় জড়িতরা সক্রিয় অনলাইন প্রতারক চক্রের সদস্য। তারা একই কৌশলে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, ব্যাংক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়েও ফোন করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ওটিপি, পিন, পাসওয়ার্ডসহ ব্যক্তিগত তথ্য হাতানোর কৌশল নিয়েছে প্রতারক চক্র।
হোয়াটসঅ্যাপ প্রতারণায় ঢাকায় মাসে ৪০ জিডি
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে বা সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মকর্তা, মোবাইল অপারেটরের প্রতিনিধি ও অন্য পরিচয়ে প্রতারণার ঘটনায় প্রায় ২০টি মামলা হয়েছে। তবে অধিকাংশ ভুক্তভোগী মামলা করতে চান না। প্রাথমিকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। প্রতি মাসে এ ধরনের ঘটনায় অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি জিডি করা হয়।
ছবি আসল, মানুষটি নকল
প্রতারকদের অন্যতম বড় অস্ত্র এখন বিশ্বাসযোগ্য পরিচয়। তারা সরকারি ওয়েবসাইট, সংবাদমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পুলিশ, সেনাবাহিনী বা সরকারি কর্মকর্তাদের ছবি সংগ্রহ করে হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলে ব্যবহার করছে।
চলতি বছরের ৯ এপ্রিল আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সতর্ক করে জানায়, প্রতারকরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও ডিজিএফআইয়ের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার সামরিক কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় দিয়ে সাধারণ জনগণকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছে। এক্ষেত্রে তারা সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ইউনিফর্ম পরিহিত সেনা কর্মকর্তাদের ছবি সংগ্রহ করে হোয়াটসঅ্যাপের প্রোফাইলে ব্যবহার করে বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
অর্থাৎ, ভুক্তভোগীর চোখে প্রথম যে প্রমাণটি সবচেয়ে শক্তিশালী মনে হয় সেটা প্রোফাইলের ছবি। সেটিই হতে পারে সবচেয়ে বড় ফাঁদ।
প্রতারকদের কল পাওয়া অন্তত ১০ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুলিশ, সেনা কর্মকর্তার পোশাক পরিহিত ছবিযুক্ত হোয়াটঅ্যাপ নম্বর থেকে কল আসে। কলে নিজের পরিচয় দিয়ে বলা হয়, ঊর্ধ্বতন পুলিশ বা সেনা কর্মকর্তাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হয়েছেন কীভাবে? আপনার নম্বর থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নম্বরে আপত্তিকর মেসেজ যাচ্ছে।
এতে বিচলিত হয়ে কী করতে হবে জানতে চাইলে হোয়াটসঅ্যাপ সেটিংসে যেতে বলেন প্রতারক। পরে হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করার ভয় দেখিয়ে ওটিপি নিয়ে নেয়। তবে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের কেউই মামলা বা জিডি করেননি।
সেনাবাহিনীর একজন ইউনিফর্ম পরা ব্যক্তির প্রোফাইল পিকচার দিয়ে একটি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে আমাকে। আমি প্রথমে ভেবেছি আমার নিজের অফিসের কোনো কাজের জন্য সেনাবাহিনীর কেউ ফোন করেছে। মিনিট দুয়েক তার সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারি তিনি প্রতারক।- ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান
মেহেদী হাসান নামে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী জাগো নিউজকে বলেন, ‘সেনাবাহিনীর একজন ইউনিফর্ম পরা ব্যক্তির প্রোফাইল পিকচার দিয়ে একটি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে আমাকে। আমি প্রথমে ভেবেছি আমার নিজের অফিসের কোনো কাজের জন্য সেনাবাহিনীর কেউ ফোন করেছে। মিনিট দুয়েক তার সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারি তিনি প্রতারক। কারণ আমাকে বলছে আমি সেনাবাহিনীর কোনো একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আছি। সেই গ্রুপে আমি খারাপ ছবি সেন্ড করেছি, এতে তারা বিব্রত। আমি মুহূর্তেই চেক করে দেখি এমন কোনো গ্রুপে আমি যুক্তই নেই। পরে ফোনটি কেটে দেই।’
পুলিশ বলছে, আগে সাধারণ ফোনকলের মাধ্যমে প্রতারণা করা হতো। এখন বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি ও ভয় দেখাতে হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলে পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী বা সরকারি কর্মকর্তার ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করে প্রতারণার ঘটনা বেড়েছে। কখনো সাইবার অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ, আবার কখনো সরকারি তদন্তের কথা বলে ভয় দেখিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বা অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
‘মামলা হয়েছে’ ভয় দেখিয়ে শুরু
প্রতারণার আরেকটি কৌশলে নিজেকে পুলিশ, ডিবি, সিআইডি কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীকে ভয় দেখানো হয়। বলা হয়, তার নামে মামলা হয়েছে, কোনো অপরাধে তার মোবাইল নম্বর ব্যবহার হয়েছে অথবা তার ব্যাংক হিসাব তদন্তের আওতায় এসেছে। এরপর মামলা থেকে বাঁচাতে, তদন্তে সহযোগিতা করতে কিংবা অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের কথা বলে ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ চাওয়া হয়।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশও এমন প্রতারণা নিয়ে সতর্ক করেছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতারকরা কখনো থানার ওসি, কখনো ডিবি কর্মকর্তা বা জেলা পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয়ে যোগাযোগ করে ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ দাবি করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তার ছবি ও নাম ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টও খোলা হয়েছে।
ধাপে ধাপে ফাঁদ
পরিচয়ের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে ব্যাংক কর্মকর্তা, মোবাইল অপারেটর কিংবা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয়ও। ‘আপনার অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে’, ‘সিম বন্ধ হয়ে যাবে’, ‘কেওয়াইসি আপডেট করতে হবে’, ‘রিফান্ড নিতে হবে’ এমন নানা অজুহাতে ভুক্তভোগীকে কথোপকথনে নেওয়া হয়। এরপর পাঠানো হয় লিংক, কিউআর কোড, অ্যাপ ইনস্টল করার নির্দেশ অথবা চাওয়া হয় ওটিপি ও অন্য গোপন তথ্য।
এখানে প্রতারণার লক্ষ্য শুধু টাকা নয়। পরিচয়পত্র, ব্যাংকিং তথ্য, মোবাইল নম্বর, লগইন তথ্য কিংবা অন্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তী ধাপে আরও বড় প্রতারণার সুযোগ তৈরি করা হতে পারে।
হোয়াটসঅ্যাপ প্রতারণা নিয়ে সতর্ক করেছিল খাদ্য অধিদপ্তর
গত মার্চে খাদ্য অধিদপ্তর হোয়াটসঅ্যাপে প্রতারণা সংক্রান্ত সতর্কীকরণ আদেশ দেয়। অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আসিফ-আল-মাহমুদ ভূঁঞা স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, সম্প্রতি একটি প্রতারকচক্র খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পরিচয় দিয়ে একটি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ফোন করছে। প্রতারকচক্রটি খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে বলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, এটিএম কার্ড নম্বর, পিন এবং ওটিপি নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছে।
খাদ্য অধিদপ্তর বা খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের কোনো সম্মানী ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রতারকচক্রের এমন অপতৎপরতা থেকে সতর্ক থাকতে এবং অন্যকেও সচেতন করতে সবাইকে অনুরোধ জানানো হলো।
প্রতারণার ক্ষেত্রে ‘আপনার গ্রাহককে জানুন’ যেভাবে ব্যবহৃত হয়
প্রতারক ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে বলে, কেওয়াইসি (আপনার গ্রাহককে জানুন) আপডেট করতে হবে না হলে অ্যাকাউন্ট/সিম বন্ধ হয়ে যাবে।
এরপর একটি লিংকে ক্লিক করতে, এনআইডির ছবি দিতে বা ওটিপি/পিন জানাতে বলে। কেওয়াইসি যাচাইয়ের নামে কেউ আপনার ওটিপি, পিন পাসওয়ার্ড বা ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের গোপন কোড চাইলে সেটি প্রতারণার বড় ফাঁদ।
প্রতারণার শিকার হলে যা করবেন
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথমত, কোনো ওটিপি, পিন, ব্যাংক কার্ডের গোপন তথ্য বা অ্যাকাউন্টের লগইন তথ্য কাউকে দেওয়া যাবে না। সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক বা অচেনা অ্যাপ ইনস্টল করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’ চালু করা এবং ‘লিঙ্কড ডিভাইস’ অংশে অচেনা ডিভাইস থাকলে তা সরিয়ে নেওয়া।
ডিজিটাল প্রতারণার এ ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘স্ক্যাম অ্যালার্ট’ নামের সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। নতুন এ সুবিধা ফোনে থাকা মেশিন লার্নিং মডেল ব্যবহার করে অপরিচিত ব্যক্তিদের পাঠানো সম্ভাব্য প্রতারণামূলক বার্তা শনাক্ত করার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের সতর্কও করবে।
রাজশাহী, বাঘা, নাটোর ও চট্টগ্রাম থেকে প্রতারণা বেশি
পুলিশ কখনো ফোন করে কোনো নাগরিকের ওটিপি, পিন, পাসওয়ার্ড বা ব্যাংকিং-সংক্রান্ত তথ্য জানতে চায় না। কেউ পুলিশ পরিচয়ে এসব তথ্য চাইলে তাৎক্ষণিক সতর্ক হতে হবে। কোনো তথ্য না দিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা বা সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে বিষয়টি জানাতে হবে।-ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টারের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ
ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টারের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘হোয়াটসঅ্যাপ প্রতারণার অনেকগুলো গ্যাং আমরা ধরেছিলাম। রাজশাহী, বাঘা ও নাটোর এলাকা থেকে প্রতারণাটা বেশি করে। চট্টগ্রাম বিভাগেও কিছু রয়েছে। মনে হয় এরা আবার জেল থেকে বের হয়েছে। কারণ গত এক-দুই সপ্তাহ ধরে আবার এই ধরনের কিছু কমপ্লেইন পাচ্ছি। এরা আমাদের মনিটরিংয়ে আছে।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশ কখনো ফোন করে কোনো নাগরিকের ওটিপি, পিন, পাসওয়ার্ড বা ব্যাংকিং-সংক্রান্ত তথ্য জানতে চায় না। কেউ পুলিশ পরিচয়ে এসব তথ্য চাইলে তাৎক্ষণিক সতর্ক হতে হবে। কোনো তথ্য না দিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা বা সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে বিষয়টি জানাতে হবে।’
ভুক্তভোগী মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করতে পারে
কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কিংবা অনেক বয়োঃজ্যেষ্ঠ কেউ টাকা চাইলে আমরা ভদ্রতার খাতিরে তাকে ফোন দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করি না টাকাটা আপনিই চাচ্ছেন কি না। এ কারণেই আমরা অনেকেই টাকা দিয়ে ফেলি। তো সে ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে এরকম কিছু হলে পরে আমাদের উচিত কল ব্যাক করে ওনার সঙ্গে কথা বলে কনফার্ম হওয়া।-সাইবার অপরাধ ও নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা
সাইবার অপরাধ ও নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জাগো নিউজকে বলেন, ‘অপরিচিত ফোনকল, এসএমএস বা অনলাইন বার্তায় কখনোই সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করা উচিত নয়। প্রতারকরা ভয় বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ওটিপি, পিন, পাসওয়ার্ড, ব্যাংকিং তথ্যসহ ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।’
তিনি বলেন, ‘কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কিংবা অনেক বয়োঃজ্যেষ্ঠ কেউ টাকা চাইলে আমরা ভদ্রতার খাতিরে তাকে ফোন দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করি না টাকাটা আপনিই চাচ্ছেন কি না। এ কারণেই আমরা অনেকেই টাকা দিয়ে ফেলি। তো সে ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে এরকম কিছু হলে পরে আমাদের উচিত কল ব্যাক করে ওনার সঙ্গে কথা বলে কনফার্ম হওয়া।’
তানভীর হাসান জোহা আরও বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে যদি ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে মামলা করতে না চান, সেক্ষেত্রে পুলিশ নিজে বাদী হয়ে মামলা করতে পারে। সুতরাং ভুক্তভোগীরা ইন্টারেস্টেড না, এসব কথাবার্তা না বলে পুলিশের উচিত মামলা করে আসামিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।’