Image description
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি (Mecca Joint Defence Agreement) প্রাথমিকভাবে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হলেও এটি সরাসরি "ইরানবিরোধী কোনো অক্ষ" বা শিয়া-সুন্নি মেরুকরণ হিসেবে গঠিত হয়নি। বরং এর পেছনে পাকিস্তানের নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ, আঞ্চলিক ভারসাম্যের কৌশল এবং কূটনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে।
 
​পাকিস্তান কর্তৃক ইরানকে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব বা আমন্ত্রণের প্রধান কয়েকটি কারণ:
 
​১. কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা (Strategic Hedging)
পাকিস্তানের সাথে ইরানের ৯০০ কিমি এর বেশি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। পাকিস্তান কোনোভাবেই তার পশ্চিম সীমান্তে প্রত্যক্ষ শত্রুতা সৃষ্টি করতে চায় না। রিয়াদ ও আঙ্কারার সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করলেও ইসলামাবাদ তেহরানকে আশ্বস্ত করতে চায় যে, এই জোটটি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হবে না।
 
​২. মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা ধরে রাখা
ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তান নিজেকে রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে। ইরানকে এই আলোচনা বা জোটে অন্তর্ভুক্তির আমন্ত্রণ জানিয়ে পাকিস্তান স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে কোনো বিশেষ ব্লকের অংশ হয়ে একক শত্রুতায় জড়াচ্ছে না।
৩. "মুসলিম ন্যাটো" গঠনের বৈশ্বিক বার্তা
মক্কা চুক্তিকে এর উদ্যোক্তারা একটি সার্বিক "আঞ্চলিক বা মুসলিম নিরাপত্তা ছাতা" (Regional Security Umbrella) হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। যদি এটি শুধুমাত্র ইরানকে বাদ দিয়ে গঠিত হয়, তবে এটি একটি আদর্শিক/সাম্প্রদায়িক (সুন্নি-শিয়া) মেরুকরণের রূপ নেবে, যা এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা বাড়াবে। ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবের মাধ্যমে এই জোটটির অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সার্বজনীন রূপ দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়।
 
৪. মার্কিন-নির্ভরতা কমানো ও আঞ্চলিক সমাধান
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান তিনটি দেশই মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর পুরোপুরি ভরসা না করে নিজস্ব আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে। একই নীতিতে বিশ্বাসী ইরানকেও যদি এই যৌথ কাঠামোর আওতায় বা অন্তত ইতিবাচক সংলাপে আনা যায়, তবে বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ ব্যতিরেকেই মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে পাকিস্তান মনে করে।
৫. অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা
বেলুচিস্তান সীমান্তজুড়ে সন্ত্রা.সী গোষ্ঠী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী দমন পাকিস্তানের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তেহরানের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা না করলে এই সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখা কঠিন। তাই ইরানকে দূরে সরিয়ে না দিয়ে যৌথ নিরাপত্তা আলোচনায় সম্পৃক্ত রাখা ইসলামাবাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্যই প্রয়োজন।
 
(এই লেখার রসদ নিয়েছি তুর্কি ভিত্তিক টিআরটি রিসার্চ এবং ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস থেকে)
 
 
May be an image of ‎the Oval Office, dais and ‎text that says