Image description

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে রসায়ন বিভাগের অন্তত চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছনে এবং দুই বিভাগের একাডেমিক ভবনে এ সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রাত ১২টা পর্যন্ত দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগের সামনে লাঠিসোঁটা হাতে অবস্থান করতে দেখা যায়।

আহতরা হলেন রসায়ন বিভাগের ফেরদৌস হাসান, সাজিদুর, নোমান ও সামিন। তাঁদের মধ্যে ফেরদৌস হাসান ও সাজিদুর মাথা ও চোখে আঘাত পেয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের অতিরিক্ত প্রধান চিকিৎসক সাজিদ হাফিজ জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় চার শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টিএসসিতে একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছনে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। এতে রসায়ন বিভাগের দুজন আহত হন। এর জেরে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে হামলা ও ভাঙচুর করেন।

এ সময় ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে রসায়ন বিভাগের আরও দুজন আহত হন। পরে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা রসায়ন বিভাগের একাডেমিক ভবন জাবির ইবনে হাইয়ান ভবনে হামলা ও ভাঙচুর করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষে রসায়ন বিভাগের ফেরদৌস হাসানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য রামেকে পাঠানো হয়েছে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাঁদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে।

তবে ঘটনার বিষয়ে দুই বিভাগের সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।