দিনাজপুরের সদর ও কাহারোল উপজেলায় অবৈধভাবে সার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ৬৬৯ বস্তা সার জব্দ করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় দুই ব্যবসায়ীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দিনাজপুর সদর উপজেলার পুলহাট এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি হাসকিং মিলের গোডাউন থেকে ২১৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় পাচারের উদ্দেশ্যে ট্রাক্টরে সার তোলার বিষয়টি দেখতে পায় প্রশাসন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন শরিফ।
এ ঘটনায় রামসাগর এলাকার খুচরা সার ব্যবসায়ী মনোহর আলমকে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। জব্দ করা সার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিন সকালে কাহারোল উপজেলা গেট সংলগ্ন মেসার্স অরিন ট্রেডার্সে অভিযান চালিয়ে ৪৫২ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৩০৯ বস্তা টিএসপি, ৯৬ বস্তা ইউরিয়া ও ৪৭ বস্তা এমওপি সার রয়েছে।
অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির মালিক খাইরুল ইসলামকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
প্রশাসন জানায়, অবৈধভাবে সার মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, কালোবাজারি ও অতিরিক্ত মুনাফার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জব্দ করা সার কৃষকদের মাঝে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছে কাহারোল উপজেলা প্রশাসন।
কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোকলেদা খাতুন মীম জানান, অবৈধভাবে সার মজুদ, কালোবাজারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।