Image description

‘শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে’—এমন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে শিক্ষামন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘রশিদ, আমার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। তুমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কল দাও।’ তবে ভিডিওটি যাচাই করে দেখা যায় একটি সাম্প্রতিক কোন ভিডিও নয়। প্রায় চার বছর আগের একটি ঘটনার ভিডিওকে নতুন ঘটনার ভিডিও হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে।

গতকাল রবিবার থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি যাচাই করে দেখা যায়, ভিডিওটি ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিলের একটি ঘটনার। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ওই দিন সন্ধ্যায় চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সদর দক্ষিণ ইউনিয়নের বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে বর্তমান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।

তৎকালীন কচুয়া থানার পুলিশ জানায়, সেদিন বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। এহসানুল হক মিলনেরও ওই এলাকায় একটি ইফতার মাহফিলে যাওয়ার কথা ছিল। পরে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতাকর্মী তার গাড়ির পেছনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন বলে তিনি দাবি করেন। ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন মিলনের স্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহসভানেত্রী নাজমুন নাহার বেবী এবং সাংবাদিক আতাউল করিম।

এ ঘটনায় তৎকালীন কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিউদ্দীন বলেন, ‘বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ছিল। মিলন সাহেবকে ওই পথ দিয়ে না যেতে আমরা নিষেধ করেছি। কিন্তু তিনি ওই পথ দিয়ে প্রথমে হেঁটে যান। পরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। যদিও আমরা তাকে নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। একপর্যায়ে তিনি গাড়িতে উঠে যাওয়ার পর কে বা কারা গাড়িতে ঢিল ছোড়ে। এতে করে একটি গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়।’

তৎকালীন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, গাড়িতে মিলন ছাড়াও তার সহধর্মিণী কেন্দ্রীয় মহিলা দলের নেত্রী নাজমুন নাহার বেবি ছিলেন। তাদের বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গাড়িতে হামলার পর তারা সেখানে আর যোগ দেননি।

এ বিষয়ে কচুয়া থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এটি পুরাতন ভিডিও। নতুন করে কেউ ছড়াচ্ছে।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় গত তিন সপ্তাহ ধরে এলাকায় আসেননি। সম্প্রতি এলাকায় এ ধরনের কোনো ঘটনাও ঘটেনি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির বিষয়েও আমরা অবগত নই।’