আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশ আর কখনই পেছনে ফিরে যাবে না। তার কথায়, গত ১৭ বছরের মতো গুম, খুন, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা আর বাংলাদেশে ঘটবে না।
সোমবার সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ আয়োজিত নির্বাচন পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।
বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, আমি পার্লামেন্টে এটি প্রকাশ্যেই বলেছি যে— এই সনদ বাস্তবায়ন করার জন্য ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ নামে একটি আইন করা দরকার। প্রশ্ন আসতে পারে, কেন অধ্যাদেশ করা হলো না? কারণ, সংবিধান সংশোধনের সমপরিমাণ কোনো কিছু করা হলে তা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে। সংবিধান সংশোধনের সমকক্ষ হয়— এমন কোনো অধ্যাদেশ জারি করা সম্ভব নয়। সে কারণেই তারা অধ্যাদেশে না গিয়ে আদেশের পথে হেঁটেছেন।
তিনি ব্যাখ্যা দেন, তাহলে এই আদেশের আইনি মর্যাদা (লিগ্যাল স্ট্যাটাস) কী? সংবিধানের প্রথম ও তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী, এই ধরনের আদেশ জারির ক্ষমতা ১৯৭২ সালে যেদিন সংবিধান কার্যকর হয়, সেদিন থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ দিয়ে কিছু আইন করা হয়েছিল, যেগুলোর মর্যাদা ছিল আইনের সমতুল্য। তবে তখন বলে দেওয়া হয়েছিল যে, এই সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রপতির এই ধরনের আদেশ জারির আর কোনো ক্ষমতা থাকবে না। আইন পাস হবে পার্লামেন্টে, আর যখন পার্লামেন্ট থাকবে না, তখন রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেছেন, কিন্তু এখানে বিভ্রান্তিকর কিছু করে বিভাজন তৈরির একটি পথ রেখে দেওয়া হয়েছে। বিএনপি সুস্পষ্ট ও স্পষ্টভাবে বলছে—আমরা জুলাই সনদের পথেই থাকতে চাই এবং সেই পথ ধরেই এগোতে চাই। আমাদের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখুন; আমরা সেই সংস্কারের যৌক্তিক জায়গায় পৌঁছাতে পারব। এ কাজে সবার সহযোগিতা কামনা করেন আইনমন্ত্রী।