বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ঘুরতে আসা এক ব্যাংকারকে মারধর করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম শাওনসহ আরও দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
ওই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নিজের নিরাপত্তা চেয়ে আজ রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং বরিশাল বন্দর থানায় দুটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জনতা ব্যাংক পিএলসির কর্মকর্তা আ: রাজ্জাক মোল্লা।
অভিযুক্ত অন্য দুই শিক্ষার্থীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের অনিক এবং ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ইশরাক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে অনিক এবং ইশরাককে একাধিকবার ফোন করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলাম শাওন বলেছেন, ‘এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমরা তাদের নদীরপাড়ে আপত্তিকর অবস্থায় ধরেছি এবং পরে তাকে বাইকে করে ক্যাম্পাসের সামনেও দিয়ে গেছি। যেই অভিযোগ করেছে তার ভিত্তিতে আমি বলব ক্যাম্পাসের সামনের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করার জন্যে তাহলেই সত্যিটা জানতে পারবেন।’
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট রাত ৯টার দিকে জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা আ: রাজ্জাক মোল্লা তার এক বান্ধবীকে নিয়ে ক্যাম্পাসের পাশের মেরিন একাডেমি রাস্তায় ঘুরতে যান। এ সময় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ওই তিন শিক্ষার্থী তার পরিচয় জানতে চান। তিনি নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের লোক হিসেবে পরিচয় দিলে অভিযুক্তরা তার বিরুদ্ধে 'অসামাজিক কর্মকাণ্ডের' মিথ্যা অভিযোগ তুলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।
ভুক্তভোগী রাজ্জাক মোল্লা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মাথায়, মুখে ও বুকে ঘুষি মারেন এবং তার বান্ধবীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের লক্ষ্যে ভুক্তভোগীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটের সোনালী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথে নিয়ে যাওয়া হয়। বুথে তার ব্যবহৃত কার্ড কাজ না করায়, পরবর্তীতে ৩ নম্বর গেটের বিপরীত পাশের একটি বিকাশ দোকান থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে জোরপূর্বক টাকা উত্তোলন করিয়ে নেন অভিযুক্তরা।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তদের এই ব্যাংক বুথে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও সংরক্ষিত রয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আ: রাজ্জাক মোল্লা বলেছেন, ‘ক্যাম্পাসের পাশের রাস্তায় ঘুরতে গিয়ে এমন নৃশংস হামলা ও চাঁদাবাজির শিকার হয়ে আমি চরম আতঙ্কিত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এটি আমার জন্য শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিকর।’
ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান বলছেন, ‘অভিযোগের সত্যতা মিললে আমরা সাংগঠনিকভাবে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেব।’
বরিশাল বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমরা আপাতত প্রাথমিক অভিযোগ নিচ্ছি পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগের ভাষ্য, আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরে, বিধি অনুযায়ী আমার তেমন কিছু করার সুযোগ নেই। তবুও অভিযোগ যেহেতু আসছে আমরা বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেব।