Image description
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলার মধ্যে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার মতে, যুদ্ধের সময় নির্বাচন হলে দেশে আরও বিভেদ তৈরি হতে পারে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। 
 
শনিবার (২২ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জেলেনস্কি বলেন, এই সময়ে নির্বাচন একটি বড় ঝুঁকি। এটি এমন একটি সুনামির মতো, যা ইউক্রেনকে বিভক্ত করে দিতে পারে। 
 
তিনি আরও বলেন, আমরা যদি দেশকে ধ্বংস করতে চাই, তাহলে যুদ্ধের মধ্যেই নির্বাচনের পথে যেতে পারি।  
 
ইউক্রেনের আইনে যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন আয়োজন করা নিষিদ্ধ। তবে সম্প্রতি দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইল ফেদোরভ যুদ্ধের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।
 
যুদ্ধের মধ্যেই নির্বাচন চান ফেদোরভ
 
এক ভিডিও বার্তায় ফেদোরভ বলেন, রাশিয়ার কারণে ইউক্রেনের গণতন্ত্রকে থামিয়ে রাখা উচিত নয়।
 
তিনি বলেন, ইউক্রেনীয়রা কবে তাদের নেতা নির্বাচন করবে, সেই সিদ্ধান্ত রাশিয়া নিতে পারে না। 
 
ফেদোরভের দাবি, ইউক্রেনে এখন নেতৃত্ব নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে।
 
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা খুবই কঠিন। যুদ্ধের কারণে অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। অনেক এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। ফলে সব নাগরিককে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং নিরাপদে ভোটকেন্দ্র পরিচালনা করা কঠিন হবে।
 
ইউক্রেনে রুশ হামলা অব্যাহত
 
এদিকে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ হামলা চলছে। রোববার দোনেৎস্ক অঞ্চলে রুশ হামলায় দুইজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ১৪১টি বাড়ি।
 
খারকিভ শহরেও ড্রোন হামলায় একটি শিশুসহ আটজন আহত হয়েছেন। হামলায় দুটি আবাসিক ভবনে আগুন ধরে যায়।
 
এ ছাড়া ওদেসাগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রেনেও রুশ ড্রোন হামলা হয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। 
 
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে সংকট
 
জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়েছে। তাই এসব ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জায়গাগুলোতে হামলা চালানোর দিকে বেশি নজর দিচ্ছে ইউক্রেন। 
 
তিনি বলেন, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ইউক্রেন ২৬৪টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে ৩৬৪টি এবং ২০২৩ সালে ৬৭৫টি পেয়েছিল দেশটি।
 
জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন নিজ দেশেই প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনও রয়েছে।
 
 
 
যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত স্টারলিংকের বিকল্প ব্যবস্থাও তৈরি করছে রাশিয়া ও ইউক্রেন।
 
জেলেনস্কির দাবি, রাশিয়া চীনের সহযোগিতায় একটি নতুন স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করছে, যা ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হতে পারে।
 
ইউক্রেনও একটি ইউরোপীয় দেশের সহযোগিতায় একই ধরনের ব্যবস্থা তৈরির কাজ করছে বলে জানান তিনি। 
 
ইউক্রেনের অর্থের ঘাটতি 
 
জেলেনস্কি আরও জানান, যুদ্ধ চালাতে চলতি বছর ইউক্রেনের প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা অর্থের ঘাটতি হতে পারে।
 
তিনি বলেন, ২০২৭ সালের শুরুতে প্রতিরক্ষা কার্যক্রম চালাতে অন্তত ৮ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এর বাইরে সেনাদের বেতন ও নিহত সেনাদের পরিবারের সহায়তাসহ অন্যান্য খাতে আরও প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। 
 
এদিকে ফ্রান্সের কাছ থেকে একটি স্যাম্প/টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি। জার্মানির কাছ থেকেও ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ৬০০টি প্যাক-২ ও প্যাক-৩ ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। 
 
অন্যদিকে নরওয়ে জানিয়েছে, ২০২৭ সালে ইউক্রেনকে ৮৫ বিলিয়ন নরওয়েজিয়ান ক্রোনার, অর্থাৎ প্রায় ৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।
 
 
সময়ের আলো