Image description

গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মনোনীত করায় তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সরকারের এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা ও নিয়োগ বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মুফতী কিফায়াতুল্লাহ আজহারী।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত শপথ অনুষ্ঠানে শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়ানো হয়েছে। এ নিয়োগের বিষয়ে দেশের আলেম-উলামা ও তাওহীদি জনতার পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।

হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দের দাবি, গত বৃহস্পতিবার ‘সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আপত্তির কথা স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল। তাদের ভাষ্য, এ নিয়োগ আলেম সমাজ ও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিবৃতিতে শামীম কায়সার লিংকনের মতাদর্শ নিয়েও আপত্তি জানায় হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনটির দাবি, তিনি দেশের প্রচলিত পীর-মাশায়েখ, তাবলিগ জামাত এবং ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত চার মাযহাবের চেতনাবিরোধী মতাদর্শে বিশ্বাসী।

হেফাজতের প্রচার সম্পাদক মুফতী কিফায়াতুল্লাহ আজহারী বলেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিশেষায়িত ক্ষেত্র। এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ইসলামী মূল্যবোধে শ্রদ্ধাশীল এবং উলামায়ে কেরামের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির হাতে দেওয়া উচিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এমন একজন ব্যক্তিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে তা দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে। একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত আলেম সমাজের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ তৈরি করবে বলেও দাবি করা হয়।

সরকারকে সতর্ক করে হেফাজতে ইসলাম বলেছে, দেশের কওমি আলেম সমাজ ও তাওহীদি জনতার অবদান ও পরামর্শকে উপেক্ষা করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হলে উলামায়ে কেরামের সঙ্গে সরকারের সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থায় চিড় ধরতে পারে।

এ অবস্থায় শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

একই সঙ্গে আলেম-উলামাদের সঙ্গে পরামর্শ করে একজন যোগ্য, অভিজ্ঞ ও সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তিকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।