ফাহাম আব্দুস সালাম
মির্জা আলমগীর সাহেবকে অভিনন্দন!

আমি তাকে চিনি ২২ বছর - খুব কাছে থেকেই দেখেছি। আমি ওনার মতো রেস্পন্সেবল মানুষ জীবনে দেখেছি কেবল আরেকজন: আমার ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক ছাদিক স্যারকে। যারা ছাদিক স্যারকে চেনেন - কেবল তারাই বুঝবেন এই বারটা কতটুকু ওপরে।
আলমগীর সাহেবের জীবনে মূলত একটাই রোল। একেক সময় একেক ভাবে প্রতিভাত হয়েছে। কিন্তু রোল একটাই। সেটা দায়িত্বশীল বড় ছেলের। তিনি এমন একজন বড়ভাই যিনি ৭ ভাইবোনের জন্য ৬টা চকলেট পেলে নিজের ৬ ভাইবোনকে ৬টা চকলেট দিয়ে নিজে একটাও না নিয়ে খুব খুশি থাকবেন। ৬ ভাইবোনের জন্য তিনি যে দায়িত্বের সাথে সঠিক কাজটা খুব দ্রুত করে ফেললেন - এটাই তার সন্তুষ্টির মূল জায়গা। এই রোল থেকে তিনি কখনোই বের হতে পারেন না। আবহমান বাংলাদেশের পরিবারের বড় ছেলে - যার কাঁধে অনেক দায়িত্ব।
একটা ওল্ড ওয়ার্ল্ড ভ্যালু বিশেষ করে এমেরিকায় ও ক্রিশ্চান পৃথিবীতে ভীষণ জনপ্রিয় ও কার্যকর। মেইক য়োরসেলফ য়ুজফুল। এই গুণটা ওনার মধ্যে প্রকট বললে কম বলা হবে। একেবারেই বসে থাকতে পারেন না। যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে কাজে লাগাতে চান। ক্যানবেরায় ছুটি কাটাতে গেলে ঘর ঝাড়ু দেওয়া শুরু করে দেন। কারণ তিনি বসে থাকতে পারেন না। আমার মনে হয় ওনার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি এই গুনটা ও তার ভদ্র আচরণ।
৫ই অগাস্টের পর সিঙ্গাপুরে উনি একদিন ম্যান টু ম্যান একা আমাকে বলছিলেন যে আমার জীবনের কাজ হয়ে গেছে। ম্যাডামকে বের করে আনছি। আর এলেকশান হলে দেশটাও গণতন্ত্রে উঠে যাবে। আয়েম স্যাটিসফায়েড। বহুবার তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন যে ম্যাডামকে বের করতে না পারা তার নিজের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতাকে তিনি পার্সোনালি নিতেন। আমাদের পরিবারে ম্যাডামের অবস্থান কোনো পলিটিকাল লীডারের মতো না। নন-পলিটিকাল পরিবারের কাওকে বোঝানো কঠিন যে ম্যাডামের মর্তবাটা ঠিক কেমন। সেদিন আমার মনে হয়েছিল যে ম্যাডাম খুবই সৌভাগ্যবান একজন নেতা। বাংলাদেশে কোনো পলিটিকাল লীডারের মির্জা আলমগীরের মতো সাহাবী পাওয়া কঠিন যে নিজের ভালো ও খারাপ - দুই সময়েই লীডারকে প্রথমে মনে করে এবং লীডারের জন্য সবকিছু করতে রাজী আছে। আমি নিশ্চিত না যে তারেক রহমান এরকম একজন সাহাবী পাবেন। কেন যেন শিক্ষিত লোকেরা শুধুই বেঈমানি ও নিজের স্বার্থ দেখে।
বিএনপির অনেক তরুণ নেতাকর্মী মির্জা আলমগীরকে বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন। এই কথাটার মাঝে একটা সত্যতা আছে। তিনি আসলেই বিএনপির আগে বাংলাদেশকে দেখতে পান। তার দৃষ্টিভঙ্গি আপনার পছন্দ নাও হতে পারে কিন্তু তিনি আসলেই যা বলেন - সেটাই বিশ্বাস করেন এবং সেটাই প্র্যাকটিস করতে চেষ্টা করেন। বাংলাদেশে কোনো নেতার পক্ষেই শতভাগ কিংবা উঁচুদরের ডেমোক্রেসি চর্চা করা সম্ভব না কারণ আমাদের সোসাইটি এখনো গণতন্ত্রের জন্য প্রস্তুত না। কিন্তু তিনি এমন একজন মানুষ যিনি সারাজীবন চেষ্টা করে যাচ্ছেন। গণতন্ত্রের গাড়িতে ঠেলা দিতে হলে তিনি সবার আগে দাঁড়িয়ে যাবেন।
ওনার প্রেসিডেন্ট হওয়াটা আমার জন্য একই সাথে আনন্দের ও হতাশার। আনন্দের এজন্যে যে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য এমন একজন মানুষ দরকার যাকে জাতি অভিভাবক হিসাবে দেখতে রাজি। আমার মনে হয় সঠিক মানুষটাকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়েছে। আর হতাশার এ কারণে যে বিএনপিতে এরকম একজন মানুষের খুব দরকার যে নিজের আগে দলের ও দেশের স্বার্থ দেখতে পারেন। এমন একজন মানুষের রিপ্লেসমেন্ট খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাছাড়া বঙ্গভবনের ঘেরাটোপে দম বন্ধ হয়ে আসার কথা।
বহু মানুষ এমন কি আওয়ামী লীগের সাপোর্টাররাও আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বহু মানুষ ভীষণ খুশি। আমার জীবদ্দশায় আর কোনো মেজর পলিটিকাল লীডার এরকম জেনুয়িন বাইপার্টিজান সমর্থন পেয়েছেন বলে মনে হয় না। উনি কোনো মারদাঙ্গা রাজনীতিবিদ নন। খুব বেশি অর্থবিত্তেরও অধিকারী নন। তার কোনো গ্রূপিং নাই বিএনপিতে। যারা মনে করেন পলিটিকসে সৎ ও ভালো লোকের কোনো খানা নাই - শাকিব খানের মতো করে তাদেরকে একটা কথাই শুধু বলবো। য়ু আর রং - টোটালি রং।
জায়গা আছে। আপনাদেরকে দম রাখতে হবে।