বাসায় না জানিয়ে সৈকতে বেড়াতে যায় কিশোর বয়সী পাঁচ বন্ধু। একজন ভেসে যায় স্রোতে। বাড়ি ফিরে ‘ভয়ে’ বিষয়টি কাউকে জানায়নি অন্য বন্ধুরা। ওদিকে, নিখোঁজ ছেলে সন্ধানে পাগলপ্রায় পরিবার। পরে ফেসবুকে পুলিশের দেওয়া ছবি দেখে মর্গে গিয়ে খুঁজে পায় নিথর সন্তানকে।
চট্টগ্রাম নগরীর এই ঘটনায় মৃত সায়েদ মুনিফ আহমেদ শানের চার বন্ধুকে গতকাল সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হালিশহর থানার ওসি কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দীন জানালেন এসব তথ্য।
তিনি বললেন, গত শনিবার বিকালে কোচিং সেন্টার থেকে বের হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে যায় শান। রাতে পতেঙ্গা থানা পুলিশ অজ্ঞাত হিসেবে তার লাশ সৈকত থেকে উদ্ধার করে।
দুইদিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পড়ে থাকে মরদেহটি। তার পরিচয় শনাক্তে ফেসবুকে ছবিসহ পোস্ট দেয় থানা পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে মর্গে গিয়ে মরদেহ শানের বলে জানায় তার পরিবার।
সায়েদ মুনিফ আহমেদ শান (১৫) চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর চুনা ফ্যাক্টরি এলাকার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের ছেলে। হালিশহরের চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ত সে।
কোচিং থেকে বাসায় না ফেরায় শানের পরিবার শনিবার রাতেই হালিশহর থানায় জিডি করেছিলেন। রবিবার অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল করে শানকে অপহরণের কথা জানিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয় তার পরিবারের কাছে।
ওই নম্বরে ৬০ হাজার টাকাও পাঠানো হয় বলে পুলিশকে জানায় শানের পরিবার। এরপর সোমবার রাতে তার মরদেহ শনাক্তের পর পুলিশ ওই চার কিশোরকে গ্রেপ্তার করে।
মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে জানিয়ে ওসি সুলতান আহসান বললেন, ‘চার বন্ধু ভয়ে বিষয়টি প্রকাশ করেনি বলে আমাদের জানিয়েছে। তারপরও আমরা সব বিষয় খতিয়ে দেখছি।’