Image description

বর্তমান সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে পতিত সরকারের অসমাপ্ত মেগা প্রকল্পগুলো। অতিমূল্যায়িত হওয়ায় এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এর দু-একটির ডিপিপি সংশোধন করে প্রকল্প ব্যয় কিছুটা কমিয়ে আনার চেষ্টা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগ আমলে নির্মিত পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল যোগাযোগ খাতে কিছুটা স্বস্তি দিলেও লোকসান গুনছে কর্ণফুলী টানেল। এ ছাড়া বারবার সংশোধন করে ব্যয় বাড়িয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয় ঘটানো হয়েছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে।

যার একাংশ খুলে দেওয়া হলেও বড় অংশের কাজ এখনো চলমান। এদিকে কাজ শেষ হওয়ার আগেই উদ্বোধন ঘোষণা করা হয় বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় এটি তড়িঘড়ি উদ্বোধন করা হলেও বাস্তবে এর কাজ শেষ হয়নি। ফলে এর সুফল পেতে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে আজও। অন্যদিকে ৩৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের আরেক মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগ। যে লাইন দিয়ে দৈনিক ২৪টি ট্রেন চলার সক্ষমতা রয়েছে, সেখানে চলছে মাত্র আটটি। ফলে এ প্রকল্পের আর্থিক সুফল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। এ

র বাইরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অবকাঠামোর আরও একাধিক প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। যেখানে এক টাকা খরচ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে পাঁচ টাকা পর্যন্ত খরচ করা হয়েছে। সূত্রমতে এসব প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে। সামগ্রিকভাবে এসব মেগা প্রকল্প বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকারের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। কেননা সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি, দুঃশাসনের জঞ্জাল কাটিয়ে ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এসব প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাওয়া রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আটটি প্রকল্পকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে ‘ফাস্ট ট্র্যাক মেগা প্রজেক্ট’ হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। সেগুলো হলো পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা সমুদ্রবন্দর, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্প, পদ্মা সেতু রেলসংযোগ এবং দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেললাইন। পরে ২০১৭ সালের সরকারি নথিতে আবার ১৩টি রূপান্তরমূলক মেগা প্রকল্পের কথা বলা হয়। সেখানে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, পদ্মা রেলসংযোগ, দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেলপথ, রূপপুর, রামপাল, মাতারবাড়ী, ভোলা গ্যাস পাইপলাইন, এলএনজি টার্মিনাল, মাতারবাড়ী কয়লা টার্মিনাল, উপকূলীয় পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প ও পায়রা সমুদ্রবন্দর ছিল।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘অতিমূল্যায়িত প্রকল্প মানেই সরকারি অর্থের অপচয় ও দুর্নীতি। বিগত সরকারের নেওয়া এসব প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাওয়াই আমাদের জন্য এক ধরনের চাপ। কেননা আর্থিক খাতের ভঙ্গুর পরিস্থিতি তো রাতারাতি ঠিক করা সম্ভব নয়।’ সিপিডি গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আগের সরকারের সময়ে অনেক মেগা প্রকল্পই অতিমূল্যায়িত ছিল। শুধু তাই নয়, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও ছিল। আবার কিছু কিছু প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও অর্থনৈতিক সুফল নিয়ে প্রশ্ন ছিল।’

রেলসংযোগ প্রকল্প অতিমূল্যায়নের ফলে প্রশ্নবিদ্ধ পদ্মা সেতুর সুফল : ২০২২ সালের জুনে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু। যার প্রকৃত ব্যয় প্রায় ৩২ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। বর্তমানে সড়ক ও রেল দুই পথেই সেতুটি ব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ গত দুই-তিন বছরে এ প্রকল্পে নির্মাণ অগ্রগতির পরিবর্তে মূল অর্জন হয়েছে ব্যবহার ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সংযুক্তির ক্ষেত্রে। এদিকে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার নতুন ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে, যা পদ্মা সেতুর সহযোগী প্রকল্প। এর মধ্যে ঢাকা-মাওয়া, মাওয়া-ভাঙ্গা, ভাঙ্গা-যশোর-এ তিন অংশ রয়েছে। প্রকল্পটি অবকাঠামোগতভাবে শেষ হলেও এর পূর্ণ সক্ষমতা এখনো কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

প্রকল্প পরিকল্পনায় দৈনিক ২৪টি ট্রেন পরিচালনার সক্ষমতা থাকলেও জনবল, লোকোমোটিভ ও কোচের ঘাটতির কারণে শুরুতে মাত্র আটটি ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের বিপরীতে চীনা ঋণের দায় রয়েছে। ফলে শুধু রেললাইন নির্মাণ শেষ করাই যথেষ্ট নয়; পর্যাপ্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করে প্রকল্পের আয় বাড়ানোই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বর্তমানে যে সক্ষমতা রয়েছে, তার তুলনায় কম ট্রেন চলাচল করলে প্রকল্পের অর্থনৈতিক রিটার্ন প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম হতে পাওে; যা ভবিষ্যতে অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

মেট্রোরেল এগিয়েছে, নতুন লাইনেও কাজ চলছে : ঢাকা মেট্রোরেল এমআরটি-৬-এর উত্তরা-মতিঝিল অংশ চালু হওয়ার পর গত দুই বছরে এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রকল্পটির মতিঝিল-কমলাপুর অংশের নির্মাণকাজ চলছে। ২০২৪ সালের জুনে এমআরটি-৬-এর সামগ্রিক অগ্রগতি ছিল প্রায় ৭২ শতাংশ; ২০২৬ সালের জুনে তা ৮১ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রকল্পটির সংশোধিত ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এদিকে এমআরটি-১ ও এমআরটি-৫-এর কাজও এগিয়েছে। এমআরটি-১-এর অগ্রগতি ২০২৪ সালের জুনের ৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুনে ২৪ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এমআরটি-৫-এর উত্তর রুটের অগ্রগতিও ৯ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ হয়েছে।

বারবার অপেক্ষা বাড়ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সুবিধা পাওয়ার : দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গত দুই বছরে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পটির অগ্রগতি ছিল ৬৫ দশমিক ৭ শতাংশের কাছাকাছি; ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে ৮২ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। দুই ইউনিটে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। ২০২৬ সালে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংও শুরু হয়েছে। ফলে নির্মাণপর্ব পেরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি পর্যায়ে পৌঁছেছে প্রকল্পটি। তবে বারবার উৎপাদনে যাওয়ার সময় পেছানোর কারণে বিদ্যুৎ প্রাপ্তি নিয়ে ভুগতে হচ্ছে।

দৈনিক ১০ লাখ টাকা লোকসান গুনছে কর্ণফুলী টানেল : কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছিল প্রায় ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। অথচ বর্তমান টোল আদায়ের হার দিয়ে এ নির্মাণ ব্যয় তুলতে লাগবে প্রায় ২৬৫ বছর। যদিও সম্প্রতি লোকসানের পরিমাণ কিছুটা কমে এসেছে। এখন প্রতি মাসে অন্তত ১০ লাখ টাকা লোকসান গুনছে এ মেগা প্রকল্প। নির্মাণের সময় সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, প্রতিদিন ২৮ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করবে এ টানেল দিয়ে। অথচ বর্তমানে দৈনিক মাত্র ৪ হাজার যানবাহন চলাচল করছে; যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৪ শতাংশ। এসব গাড়ি থেকে টোল বাবদ আদায় করা অর্থ দিয়ে টানেলটি রক্ষণাবেক্ষণ করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে প্রকল্পটি সরকারের আর্থিক ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনের ‘বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের প্রভাব মূল্যায়ন’ শীর্ষক প্রতিবেদেন এ ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে।

এখনো বড় অংশের কাজ চলমান ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের : ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিমানবন্দর-ফার্মগেট অংশ চালু হলেও পুরো প্রকল্প এখনো শেষ হয়নি। ফলে গত দুই তিন বছরে আংশিক সুবিধা পাওয়া গেলেও পুরো প্রকল্পের যানজট নিরসনের সুফল এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পটির অগ্রগতি ছিল প্রায় ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছে। সংশোধিত প্রকল্প ব্যয় প্রায় ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। এ প্রকল্প শুরু হয়েছিল অন্তত এক দশকের বেশি সময় আগে। যার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে অন্তত ছয়বার। ব্যয় সংশোধন করা হয়েছে সাতবার। এতে একদিকে বেড়েছে ব্যয়ের বোঝা, অন্যদিকে অপচয় হয়েছে সরকারি অর্থের।

আরও অপেক্ষা মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ পেতে : আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত দুই বছরে মাতারবাড়ীতে ২ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে ভৌত অগ্রগতি ছিল ৭৫ দশমিক ২ শতাংশ; ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে ৮৭ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। প্রকল্পটির সংশোধিত ব্যয় প্রায় ৫৬ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে। তবে এ প্রকল্পের কাজও সময়মতো শেষ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেননা অতীত সরকারের অনেক জঞ্জাল এখনো রয়েছে এ প্রকল্পের সঙ্গে।

ধীরে এগোচ্ছে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দও : বিদ্যুৎ প্রকল্পের তুলনায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে অগ্রগতি তুলনামূলক ধীর। ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পটির অগ্রগতি ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। প্রকল্পটির সংশোধিত ব্যয় প্রায় ২৪ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা এবং শেষ করার সময়সীমা ২০২৯ সাল।

বাহবা পেতে উদ্বোধন করা হয় তৃতীয় টার্মিনাল : কাজ শেষ হওয়ার আগেই উদ্বোধন ঘোষণা করা হয় বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় এটি তড়িঘড়ি উদ্বোধন করা হলেও বাস্তবে এর অনেক কাজই বাকি ছিল। ফলে এর সুফল পেতে অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়নি এখনো। ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পটির অগ্রগতি ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ; ২০২৬ সালের জুনে তা ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে নির্মাণের পাশাপাশি পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণব্যবস্থা চূড়ান্ত এবং পূর্ণ সক্ষমতায় টার্মিনাল চালু করাই এখন বড় বিষয়।

উৎপাদনে এসেছে রামপাল ও পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র : রামপাল ও পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে রয়েছে। তবে কয়লা আমদানি, ডলারসংকট ও অর্থায়ন সমস্যার কারণে গত দুই-তিন বছরে দুটিতেই বিভিন্ন সময় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পর শুধু সক্ষমতা নয়, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ ও পরিচালন ব্যয় নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি সংস্থা আইএমইডির হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও ১৫৯টি উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ভৌত অগ্রগতি হয়নি এবং ১ হাজার ১১টি প্রকল্পে অগ্রগতি ছিল ২৫ শতাংশের নিচে। এতে বড় প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি সামগ্রিক প্রকল্প বাস্তবায়নসক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া মেগা প্রকল্পগুলোর সামনে এখন দুটি বড় পরীক্ষা। প্রথমত অসম্পূর্ণ প্রকল্পগুলো আর কত ব্যয় ও সময় বাড়িয়ে শেষ করা হবে? দ্বিতীয়ত নির্মাণ শেষে এসব প্রকল্প থেকে কতটা অর্থনৈতিক রিটার্ন পাওয়া যাবে? বিশেষ করে কর্ণফুলী টানেলের মতো কম ব্যবহার হওয়া প্রকল্প এবং বিপুল বৈদেশিক ঋণনির্ভর প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে আয়, পরিচালন ব্যয় ও ঋণ পরিশোধসক্ষমতার হিসাব নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে দেশের অর্থনীতিতে।