Image description

মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি মহিলা মাদ্রাসায় হাতবোমা বিস্ফোরণে চার শিশু আহত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে পৌর এলাকার গোপালপুর দারুসসুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। এক শিশু টেনিস বলের মতো দেখতে একটি বস্তু নিয়ে খেলার সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর যশোরের কেশবপুরে ককটেল বিস্ফোরণে এক যুবক আহত হন। মেহেরপুরের তিনটি জায়গায়  বোমা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ জানায়, তারা এসব জায়গা থেকে সাউন্ডবক্স উদ্ধার করেছে। 

বল ভেবে খেলা শুরু 
ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল সাড়ে ৯টা। কালকিনি পৌর এলাকার গোপালপুরের দারুসসুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসার সামনে খেলছিল শিশু শিক্ষার্থীরা। তাদের একজন পাশের ইমন সরদারের ঘরের সামনে টেনিস বলের মতো বস্তু কুড়িয়ে পায়। সেটি দিয়ে খেলা শুরু করতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। 

এ ঘটনায় পৌরসভার মিনাজদী এলাকার সেলিম তালুকদারের মেয়ে আবিদা আক্তার (১১), পশ্চিম মিনাজদী এলাকার ছিরাতুল তালুকদারের মেয়ে জান্নাত (১২), গোপালপুর এলাকার রুবেল মাতুব্বরের মেয়ে তাসমিয়া আক্তার মিনহা (১১), একই এলাকার শাহিন সরদারের মেয়ে মিনহা (১১) আহত হয়। তাদের সঙ্গে সুলতানা নামের আরেক শিশু থাকলেও সে অক্ষত আছে। 

আবিদার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

এই শিশুরা সবাই মাদ্রাসাটিতে নূরানি পড়ত বলে জানান শিক্ষক মাওলানা হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ওরা কয়েকজন বান্ধবী মিলে খেলতে খেলতে সেখানে গিয়েছিল। এ সময় হঠাৎ বিস্ফোরণে আহত হয়েছে। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এখানে যারা বোমা রেখেছে, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত শাস্তির  আওতায় আনার দাবি জানান। 

ইমন সরদার বলেন, তাঁর ঘরের সামনে কীভাবে এমন বিস্ফোরণ হলো, এ বিষয়ে কোনো ধারণাই নেই। নাহিদা খানম নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘মারাত্মক একটি ঘটনা ঘটে গেল। ভাগ্য ভালো যে, বড় ধরনের কিছু হয়নি, কেউ মারা যায়নি।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা জানিয়েছেন, সংবাদ পেয়েই কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরে সেখানে র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা যান। কীভাবে হাতবোমাটি সেখানে এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

আহত যুবক পুলিশি নজরদারিতে
বেলা ১১টার দিকে যশোরের কেশবপুরে ককটেল বিস্ফোরণে এক যুবক আহত হয়েছেন। যশোর-চুকনগর সড়কের উপজেলার মধ্যকুল তেলপাম্পের উল্টোপাশে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে আহত জুয়েল সরদারকে (২৫) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি কেশবপুর পৌরসভার মধ্যকুল এলাকার খানজাহান আলী সরদারের ছেলে। তাঁর ওপর নজরদারি করছে পুলিশ।

কেশবপুর থানার ওসি রোকসানা খাতুন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আরও দুটি ককটেলসদৃশ বস্তু পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে স্প্লিন্টার উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে কাচের গুলিসদৃশ দুটি পোঁটলাও পাওয়া গেছে। আহত জুয়েল সরদার পুলিশি নজরদারিতে আছেন। 

বোমাতঙ্কের পর বাজল ভাষণ
এদিন ভোর থেকে মেহেরপুর শহরের তিনটি জায়গায় বৈদ্যুতিক তারে ঝোলানো বস্তু নিয়ে আতঙ্ক দেখা দেয়। পুলিশ সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে, শহরের কোর্টমোড় ও ড. শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কের সামনে থেকে সেগুলো উদ্ধার করে জানায়, এসব বোমা নয়, অটোরিকশায় থাকা সাউন্ডবক্স। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, সকাল সোয়া ৯টার দিকে পার্কের সামনে থাকা বক্সটি থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজছিল। 

পুলিশ জানায়, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বৈদ্যুতের খুঁটির তারে একটি বক্স আকৃতির বস্তু দেখতে পান এলাকাবাসী। তখন সেটি বোমা মনে করেন অনেকে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে থাকে। সংবাদ পেয়ে সদর থানা পুলিশের একটি দল জনসাধারণের সাহায্যে বক্সটি নামিয়ে আনে। পানিভর্তি বালতিতে রাখার কিছুক্ষণ পর ব্যাটারির সঙ্গে তারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বাক্স খুলে দেখা যায়, এগুলো সাউন্ডবক্স। ভেতরে মেমরি কার্ড আছে। পরে শহরের কোর্ট মোড় ও ড. শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটির তারে আরও দুটি একইরকম বস্তু পাওয়ার সংবাদ পেয়ে সেগুলো উদ্ধার করা হয়। 

সদর থানার ওসি হুমায়ন কবীর জানান, ‘ঘটনাটি আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নয়। এগুলো বোমা নয়। অটোবাইকে ব্যবহৃত সাউন্ডবক্স। এতে মেমরি কার্ড লাগানো। এগুলো উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এসব রাখায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’