Image description

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে পুলিশের ধাওয়ার মুখে খাদে একটি মাইক্রোবাস ফেলে পালিয়ে গেছেন ‘মাদক পাচারকারী’। গাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় পথে পথে ফেলেন একাধিক বস্তা।

পুলিশে বস্তাগুলো উদ্ধারের পর তল্লাশি করে মোট ১৩০ কেজি গাঁজা এবং ১০০ বোতল ফেয়ারডিল উদ্ধার করেছে।

ফেয়ারডিল হলো ভারত থেকে আনা ফেনসিডিলের মতো একটি নেশার সিরাপ। চট্টগ্রামে প্রথম ফেয়ারডিলের একটি চালান ধরা পড়ল বলে পুলিশের তথ্য।

মাদক চালান আটকের খবর পেয়ে গতকাল শনিবার রাতে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম মীরসরাই থানায় যান। এসপির সামনেই বস্তাগুলো খুলে মাদক বের করা হয়।

পুলিশ বলছে, সীমান্ত পার করে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা এসব মাদক মাইক্রোবাসে করে চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।

মীরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তারা খবর পান মীরসরাই ইকোনমিক জোন সড়ক দিয়ে একটি মাইক্রোবাস মাদক নিয়ে মহাসড়কের দিকে আসছে। দ্রুততার সঙ্গে থানার টিম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড়তাকিয়া এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে।

মাইক্রোবাসটি কাছাকাছি আসার পর চেকপোস্ট দেখে চালক দ্রুত গাড়ি ঘুরিয়ে চলে যেতে থাকে। তখন চেকপোস্টের টিম সেটিকে ধাওয়া করে এগিয়ে যেতে থাকে। প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সৈদালি এলাকায় পুলিশের আরেকটি টিম ব্যারিকেড দেয়। তখন চালক মাইক্রোবাস রাস্তার পাশে খাদে ফেলে পালিয়ে যায়।

ওসি ফরিদা বলছিলেন, ‘পুলিশের ধাওয়ার মুখে পাচারকারী পথে পথে বস্তাগুলো ফেলে যান। প্রথমে মাইক্রোবাসটিতে তল্লাশি করে ৯০ কেজি গাঁজা ও ১০০ বোতল ফেয়ারডিল উদ্ধার করা হয়। ফেলে যাওয়া দুটি বস্তা উদ্ধার করে ২০ কেজি করে আরও ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।’

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেছেন, ‘সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলা করা হবে। এই মাদকের রুট কোথায়, কারা পাচার ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সেটা আমরা তদন্ত করে বের করব। তথপ্রমাণ পেলে মানিলন্ডারিংয়ের ধারায়ও তাদের আসামি করা হবে।’