Image description

ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে দেশের অন্তত ১৮টি উপজেলা কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তুলে ছাত্রদল এবং বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কোথাও বিক্ষোভ ও মানববন্ধন এবং কোথাও ইউএনও কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার মত ঘটনা ঘটেছে। আবার কোথাও সরকারি দপ্তরে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। কয়েকটি স্থানে কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবিও উঠেছে। এ ছাড়া একজন ইউএনওকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এবং দুই ছাত্রদল নেতার পদত্যাগের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় সরকারি দায়িত্ব পালনে বিব্রতবোধ করছেন ইউএনও ও ডিসিরা।

এর মধ্যে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ইউএনওর কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মী এবং নিয়োগে উত্তীর্ণ হতে না পারা ব্যক্তিরা ফল বাতিলের দাবিতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ করেন। পরে তারা ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে একটি কক্ষের জানালা এবং বারান্দায় থাকা চেয়ার ও ফুলের টব ভাঙচুর করা হয়।

এ ঘটনায় ফুলছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জয়নাল মিয়া বলেন, আমি নিজেও সুপারভাইজার পদে আবেদন করেছিলাম। আমার নাম চূড়ান্ত তালিকায় নেই। আমার আরও দুবার কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার অভিযোগ, উপজেলার সাত ইউনিয়নে মাত্র চার থেকে পাঁচজন নেতাকর্মীর চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রকাশিত ফলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নামও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ কারণে দলীয় নেতা-কর্মী ও নিয়োগবঞ্চিত ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ঘটনা ঘটান বলে তিনি জানান। তবে ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা বলেন, ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি।

আমরা সব ধরনের সহিংসতা ও ভাঙচুরের নিন্দা জানাই। আমরা আশা করি সবাই নাগরিক শিষ্টাচার ও নির্ধারিত সীমারেখার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন। একই সঙ্গে সরকারের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন বিধি ও নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।—মো. বাবুল মিঞা মহাসচিব, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের ফল প্রকাশের পর আমাদের কার্যালয়ে ভাঙচুরের যে ঘটনা ঘটেছে, আপনারা যেভাবে দেখেছেন, বিষয়টি সেভাবেই ঘটেছে। আমরা বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করছি এবং তথ্য সংগ্রহ করছি। গতকাল আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সার্বিক বিষয় জানিয়ে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগতসহ অন্যান্য যে বিষয়গুলো রয়েছে, সেদিকে আমরা এগোব।’

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জেও একই অভিযোগে বিক্ষোভ হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতা-কর্মীদের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সমাবেশ হয়। বিক্ষোভকারীরা ইউএনওর কার্যালয়ের মূল ফটক এবং উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। তারা ইউএনও ও সমাজসেবা কর্মকর্তার বদলির দাবি জানান।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের ফল প্রকাশের পর আমাদের কার্যালয়ে কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে ফুলছড়ি উপজেলায়। তবে আমাদের কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি অফিসে কেউ তালা দিতে পারে না। যদিও আমরা আজ (সোমবার) সকাল থেকেই অফিসের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে আমাদের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে।’ তালা দেওয়ার ঘটনায় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ইউএনও বলেন, ‘আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’ সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনায় কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কি না জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, ‘অফিসে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে অবশ্যই একটু অসুবিধা হয়। বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়।’

উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, সমাজসেবা কার্যালয়ে কথা বলতে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি সপ্তাহে এক-দুই দিন অফিসে আসেন বলে তারা শুনেছেন। এ কারণে বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা কার্যালয়ে তালা দেন। পরে ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকে আগে থেকেই তালা ছিল। ভেতরে ঢুকে কথা বলার সুযোগ না থাকায় বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা সেখানে আরেকটি তালা ঝুলিয়ে দেন। কর্মসূচিতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ, সদস্যসচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ইখতিয়ার উদ্দিন ভূঁইয়া লিপন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার হোসেন পপেল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ারা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মতিয়ার রহমান এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওয়ালি উজ্জামান মণ্ডল রিয়ালসহ নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সোমবার রাতে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে ছাত্রদল। উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিয়ান সরকার আরিফ ও সদস্যসচিব সোহেল রশিদ হৃদয়ের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে পলাশবাড়ী চৌমাথায় সড়ক অবরোধ করা হয়। বিক্ষোভকারীরা ইউএনও আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লার অপসারণ দাবি করেন। উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিয়ান সরকার আরিফ অভিযোগ করেন, সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের’ লোকজনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নিয়োগবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়াতেই তারা বিক্ষোভ করেছেন বলে জানান তিনি।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে দলীয় পরিচয়ে নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য অনেকে চাপ প্রয়োগ করছেন। এতে আমরা কর্মক্ষেত্রে বিব্রতবোধ করছি।—নাম প্রকাশ অনচ্ছুক এক ইউএনও

সাদুল্লাপুরেও সোমবার রাতে বিক্ষোভ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় ছাত্রদল। পরে সেখানে পথসভা হয়। এ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে দুই দফা পরীক্ষা হয়। প্রথম দফার পরীক্ষা শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বদলিজনিত কারণে চলে যান। এরপর গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক সাদুল্লাপুরে অতিরিক্ত দায়িত্ব নেন। দ্বিতীয় দফার পরীক্ষা শেষে সোমবার বিকেলে ফল প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকেই নিয়োগ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ইসতিয়াক আহমেদ সোহান ও সদস্যসচিব পারভেজ সরকার অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ মনোভাবাপন্ন কর্মকর্তারা অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। ফল বাতিল করে নতুনভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর জন্য তারা দুই দিনের সময়সীমা দেন।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, যারা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে তারা কিছুটা বিশৃঙ্খলা করেছে। বিষয়টি মিমাংসা হয়েছে। আমরা এখন অফিস করতেছি। আপাতত কোন ঝামেলা নেই।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের নিয়োগ না দেওয়ার অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রশাসক মো. কায়েসুর রহমানকে উলঙ্গ করে পেটানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা কামরুল হাসান নিসানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। কামরুল হাসানের বাড়ি বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীধরপুর গ্রামে। তিনি রাজগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি প্রার্থী। এর আগে তিনি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রশাসক মো. কায়েসুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ভিডিওটি আমি এখনো দেখিনি। তবে যতটুকু জেনেছি, তিনি পরে আরেকটি বক্তব্য দিয়ে আগের বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন। যেহেতু তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তাই এ বিষয়ে আমার আর কিছু বলার নেই।’
 
এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, ‘না। আমি ইতিমধ্যে আমার অন্যান্য কাজে যুক্ত হয়ে গেছি। ফ্যামিলি কার্ডসহ প্রতিনিয়ত আমার অনেকগুলো কাজ থাকে। আমি তো একটা কাজ নিয়ে বসে থাকি না। অন্যান্য কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেছি।’

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা হামলা ও ভাঙচুর

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কামরুল হাসানকে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের শুমারির জন্য পৌর বিএনপির সভাপতি হারুন ভাই উপজেলা ছাত্রদলের কাছে কিছু জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পরীক্ষা দেওয়া ব্যক্তিদের পরীক্ষার রসিদ চেয়েছিলেন। তারা সেসব রসিদ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ রুবেল ভাইয়ের কাছে পৌঁছে দেন। পরে জাহিদ রুবেল সেগুলো পৌর বিএনপির সভাপতি হারুনের কাছে দেন বলে তিনি ভিডিওতে দাবি করেন। ভিডিওটি ভুয়া বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি এমন দাবির পক্ষে তার কাছে থাকা আগের ভিডিও ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রকাশ করা ভিডিও চাওয়া হলেও তিনি সেগুলো দেননি। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে ভিডিও প্রকাশ করেন।

পাবনার সাঁথিয়াতেও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, যোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীরা ইউএনও রিজু তামান্নার বদলি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির তদন্ত দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকেই রিজু তামান্না সাঁথিয়ায় কর্মরত। নির্বাচনের পর সারা দেশে অধিকাংশ ইউএনও বদলি হলেও তাকে বদলি করা হয়নি। বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্টের মধ্যে তালিকা সংশোধন না হলে ইউএনও কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। প্রতিবাদ সভায় উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে বিএনপি, ছাত্রদল এবং নিয়োগবঞ্চিত সাধারণ আবেদনকারীরা বিক্ষোভ করেছেন। সোমবার ১০ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। একপর্যায়ে ইউএনও কার্যালয়সহ কয়েকটি সরকারি দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এতে উপজেলার সব দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা প্রায় দুই ঘণ্টা ইউএনও কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা এবং জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের প্রাধান্য দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে তারা ইউএনও প্রিয়াংকা দাস ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল রানার অপসারণ দাবি করেন। ইউএনও কার্যালয়, সমাজসেবা কার্যালয়, শিক্ষা অফিস ও এলজিইডিসহ প্রধান দপ্তরগুলোর গেটে তালা লাগানো হয়। সমাবেশ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিতর্কিত ফল বাতিল, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পুনরায় নিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে অপসারণের দাবি জানানো হয়। তা না হলে নাচোল উপজেলার সব সরকারি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া এবং আরও কঠোর কর্মসূচির হুমকি দেওয়া হয়। 

সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকন, পৌর বিএনপির সহসভাপতি আমানুল্লাহ আল মাসুদ, সাবেক পৌর সাধারণ সম্পাদক দুরুল হোদা, কসবা ইউপি চেয়ারম্যান জাকারিয়া আল মেহরাব, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মুকুল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আজিম, সাবেক যুব নেতা দেলোয়ার হোসেন ডালিম এবং ছাত্রদল নেতা রিয়াদ ফারুক ও রোমিওসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

নাটোর বাগাতিপাড়ায় বিক্ষোভ

এছাড়াও রাজশাহীর বাগমারায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে নাম না থাকার অভিযোগে ইউএনওর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক স্লোগান দেওয়া হয়েছে। সোমবার ১০ আগস্ট দুপুরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সুপারভাইজার পদে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ হয়। এ সময় ইউএনওকে ‘জবাই’ করার স্লোগান দেওয়া হয়। বাগমারা উপজেলা তারেক জিয়া প্রজন্ম দলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান স্লোগান দিলে উপস্থিত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ‘জবাই কর’ বলে সাড়া দেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে সাদা পাঞ্জাবি পরা সিদ্দিকুর রহমানকে হাত তুলে উত্তেজিতভাবে স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে ব্যানার হাতে মানববন্ধনের দৃশ্যও দেখা যায়। ব্যানারে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর সুপারভাইজার পদের চূড়ান্ত ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগের কথা উল্লেখ ছিল।

স্থানীয় সূত্র বলছে, ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে নাম না থাকায় ক্ষোভ থেকেই ওই স্লোগান দেওয়া হয়। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ স্লোগানটিকে হুমকিমূলক বলে সমালোচনা করেন। আবার কেউ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাগমারা ইউএনও সেলিম আহমেদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। বাগমারায় নীতিমালা অনুসরণ করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

ময়মনসিংহের গৌরীপুরেও নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দলীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সুপারভাইজার পদে আবেদন করে কেউ তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। আবার সুপারভাইজার পদে উত্তীর্ণ না হয়েও কেউ নিয়োগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা ‘বিজয়ী’ হয়েছেন দাবি করে এক ছাত্রদল নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে নিয়োগ কমিটির সভাপতি আফিয়া আমীন পাপ্পা অভিযোগগুলো সত্য নয় বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, বিধিমোতাবেক লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা হওয়ায় সবাইকে পাস করানো সম্ভব নয়। মেধাতালিকায় উত্তীর্ণ ব্যক্তিরাই নিয়োগ পেয়েছেন। এদিকে নিয়োগবঞ্চিতদের একাংশ মঙ্গলবার ১১ আগস্ট উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধনের ঘোষণা দেন।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতেও ইউএনও ফারজানা আখতারের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে ‘কুমারখালী পতিত স্বৈরাচার বিরোধী নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে উপজেলা ছাত্রদল বিক্ষোভ সমাবেশ ও ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতাও অংশ নেয়। ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা ইউএনও কার্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান করেন। বিক্ষোভের সময় ইউএনওর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে তার কুশপুতুলে আগুন দেওয়া হয়। পরে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ইউএনও কার্যালয়ের গেট খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি হয়। পরে অবরুদ্ধ অবস্থায় দ্বিতীয় তলায় দাঁড়িয়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের আশ্বাস দেন ইউএনও। এরপর আন্দোলনকারীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে অপসারণের আলটিমেটাম দিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর ত্যাগ করেন। যদিও ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি।

যশোরের কয়েকটি উপজেলাতেও নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেছেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা। কোথাও ভাইভা না দিয়েও চূড়ান্ত তালিকায় নাম ওঠার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা চলছে। গত রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কেশবপুর ইউএনও কার্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ করেন নিয়োগবঞ্চিতরা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগের ফল গত শুক্রবার প্রকাশ করা হয়। সংশ্লিষ্ট ইউএনও ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তারা নিজেদের ফেসবুক আইডিতে ফল প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই ফলাফল ও নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ওঠে ঝিকরগাছা ও কেশবপুর উপজেলায়। কেশবপুর ইউএনও রেকসোনা খাতুনের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

ঝিকরগাছায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়োগপ্রত্যাশীদের একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। কয়েকজন প্রার্থী দাবি করেন, পরীক্ষা বা ভাইভায় অংশ না নিয়েও কেউ কেউ চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন। পানিসারা ইউনিয়নের মণিরুল ইসলামকে নিয়ে বেশি বিতর্ক হয়। অভিযোগ ওঠে, তিনি তথ্য সংগ্রহকারী পদের ভাইভায় অংশ না নিলেও তার নাম চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসন সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তার ফল বাতিল করে। ঝিকরগাছা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচন কমিটির সদস্যসচিব মো. তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই সংশোধনীতে ঘটনাটিকে ‘তথ্যগত ত্রুটি’ বলা হয়। তবে নিয়োগপ্রত্যাশীদের একাংশ এটিকে শুধু তথ্যগত ভুল হিসেবে মানতে নারাজ। তাদের দাবি, পরীক্ষা না দেওয়া একাধিক ব্যক্তির নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতেও ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন। ৯ আগস্ট বিকেল চারটার দিকে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকের সামনে সমাবেশ হয়। পরে নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে যান। সেখানে বিএনপির নেতারা ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের অভিযোগ ও দাবি জানান। সমাবেশে গোদাগাড়ী পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মাহাবুবুর রহমান বিপ্লব, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি বেলাল উদ্দিন বুশ, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি বেদার উদ্দিন বিদ্যুৎসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহাবুবুর রহমান বিপ্লব বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও ইমামদের বেতনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি শুরু হওয়ায় প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে এর সুফল পৌঁছাতে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু থেকেই সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, কর্মী নিয়োগে প্রশাসনের একটি অংশে অনিয়ম ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের আশঙ্কা রয়েছে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হলে সরকারের এ জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় সর্বশেষ ইউএনও কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। সেখানে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ইউএনও কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

জামালপুরের সরিষাবাড়ীর পোগলদিঘা ইউনিয়ন ছাত্রদলের দুই নেতা ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী পদে চাকরির সুযোগ না পেয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার ১১ আগস্ট দুপুরে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি মেহেদী হাসান রিংকু ও দপ্তর সম্পাদক মো. ইবনে হাসান নিজেদের ফেসবুক আইডিতে পদত্যাগপত্র প্রকাশ করেন। ২০২২ সাল থেকে দায়িত্বে থাকা ইবনে হাসান পদত্যাগপত্রে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়েছেন। অন্যদিকে ২০০৯ সাল থেকে দলের সঙ্গে যুক্ত মেহেদী হাসান রিংকু কর্মীদের অবমূল্যায়ন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ে রাজপথে ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে দুঃসময়ের কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না। কাজ করার পরিবেশও নেই। এ কারণে তিনি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছেন।

নাটোর বাগাতিপাড়ায় ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর

মৌলভীবাজারের রাজনগরেও ফ্যামিলি কার্ড শুমারির স্বেচ্ছাসেবী বাছাইয়ের ফল প্রকাশের পর উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা চলাকালে সরকারবিরোধীদের বাছাই করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উপজেলা পরিষদে জড়ো হন। এ সময় সাময়িক উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলীসহ নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আট ইউনিয়নের জন্য সুপারভাইজার পদে আটজন এবং তথ্য সংগ্রহকারী পদে ৮২ জনকে বাছাই করা হয়। সোমবার রাতে ইউএনওর ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়। বিএনপি ও যুবদলের অভিযোগ, তালিকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও জামায়াতের কর্মীদের স্থান দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব শেখ মো. রুকন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ। অথচ অনেক যোগ্য বিএনপি কর্মীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছে। তারা পরদিন সকালে লিখিত অভিযোগ দেবেন। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুরের নগরকান্দায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন। ৯ আগস্ট বিকেলে নগরকান্দা থানায় তিনি অভিযোগটি করেন। অভিযোগে উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের বাশাঁগাড়ী গ্রামের লাল মিয়া ফকিরের ছেলে ও একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অ্যাডমিন কবিরুল ইসলাম এবং তালমা ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ ওয়াদুদ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ইউএনও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে কয়েকজন ব্যক্তি পরস্পর যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে উসকানিমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে ফলাফল প্রকাশের আগেই ফলাফলের নমুনা প্রকাশ করে জনসাধারণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতেও চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশিত তালিকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, জাতীয় পার্টি এবং স্বামী-স্ত্রীর নাম থাকার অভিযোগ করেছেন এসব ঘটনায় সেখানেও বিক্ষোভ পালন করেছেন বিএনপিও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। 

এদিকে সর্বশেষ বুধবার নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। 

এ বিষয়ে বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত বেশ কয়েকজন ইউএনও নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে দলীয় পরিচয়ে নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য অনেকে চাপ প্রয়োগ করছেন। এতে আমরা কর্মক্ষেত্রে বিব্রতবোধ করছি।’

তারা বলেন, ‘আমাদের নীতি ও নৈতিকতা মেনে দায়িত্ব পালন করতে হয়। সে জায়গা থেকে এভাবে চাপের মুখে লোক নিয়োগ দেওয়া যৌক্তিক নয়। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, এ ধরনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা এবং মাঠ প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া।’

কার্যালয়ে হামলার শিকার এক ইউএনও নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি একটি সরকারি প্রকল্প। এখানে সুষ্ঠুভাবে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। আমি সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে নিয়োগ দিয়েছি। কিন্তু দলীয় পরিচয়ে সরকারদলীয় লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য আমার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আমি তো এভাবে নিয়োগ দিতে পারি না।’

তিনি বলেন, ‘তাদের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ায় নেতাকর্মীদের নিয়ে এসে আমার কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। আমার কার্যালয়ে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও হেনস্তা করা হয়েছে। এটা কোনোভাবেই হতে পারে না। আমি সরকারের নির্দেশনা মানব, নাকি দলীয় সিদ্ধান্ত মানব এটা নিয়েই বিব্রতবোধ করছি।’

এ বিষয়ে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা সব ধরনের সহিংসতা ও ভাঙচুরের নিন্দা জানাই। আমরা আশা করি সবাই নাগরিক শিষ্টাচার ও নির্ধারিত সীমারেখার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন। একই সঙ্গে সরকারের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন বিধি ও নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রকৃত যোগ্যতা ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে সরকারি নীতিমালা নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়নে আমাদের সবার সহযোগিতা ও সমর্থন করা উচিত।’