Image description

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অমান্য করে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক ফি বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের বিরুদ্ধে। প্রায় এক হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে গড়ে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ব্যবহারিকের জন্য ২০০০ টাকা করে নিচ্ছে কিন্তু এর কোনো মানি রিসিট দেয়নি। কিন্তু কথা বললে বিপদ হবে, নাম্বার কম দিবে। কোনোভাবে যদি তারা জানতে পারে আমি বা আমরা সাংবাদিকের কাছে এ তথ্য দিয়েছি, তাহলে ফেইল করিয়ে দিবে।

বোর্ডের নির্দেশনা জানা আছে কি না প্রশ্ন করা হলে ওই শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ফরম ফিলাপ করার পরও শুনেছি আমাদের থেকে বেশি টাকা নিয়েছে, টাকা তো ফেরত দেয়নি। তাই এখন ব্যবহারিকে টাকা না নেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তো টাকা নিচ্ছে। স্কুল-কলেজে কী হয় বোর্ড অবগত, কই কখনো টাকা ফেরত দিয়েছে তার উদাহরণ নেই। কিংবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে তারও নজির নেই। শুধু শুধু আমরা দুই-চারজন কথা বলে নিজেদের বিপদে ফেলতে চাই না।’

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘সবার কাছ থেকেই টাকা নিচ্ছে, কিন্তু মানি রিসিট দিচ্ছে না। আর টাকা অভিভাবকদের সরাসরি দেওয়ার সুযোগ নেই, স্টুডেন্টের মাধ্যমে নিচ্ছে। তাই আমাদের কিছু বলারও সুযোগ নেই।’

বোর্ডে অভিযোগ করেছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বোর্ড ভালো করেই জানে কেউ অভিযোগ করবে না, তাই তারাও এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্কুলের সাথে ভাগবাটোয়ারা করে খায়। কোনো স্কুলে কী হয় বোর্ড কর্তারা সবাই জানেন। আর যুক্তির খাতিরে যদি বলেন তারা জানে না, তাহলে বলবো তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না, তাদের এ পদে থাকার যোগ্যতা নেই।’

এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘বোর্ড থেকে এবার কড়া নির্দেশনা দেওয়া আছে, ব্যবহারিকের নামে কোনো অর্থ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া যাবে না। তারপরও যদি কোনো প্রতিষ্ঠান টাকা নিয়ে থাকে আপনি তুলে ধরেন, আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো। এরা বিভিন্ন উপায়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে, অনেক ক্ষেত্রে মানি রিসিটও দেয় না। অভিভাবকরা এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেও ভয় পায়, আর এ সুযোগটাই এরা নেয়।’

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আহ্বায়ক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানু বলেন, ‘কিছু প্রতিষ্ঠানকে বারবার সতর্ক করার পরও অনিয়ম বন্ধ করা যাচ্ছে না। এবার এদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নিবো যাতে আগামীতে আর কেউ সাহস না পায় বোর্ডের নির্দেশনা অমান্য করার। শিক্ষাটাকে এরা ব্যবসায় রূপান্তর করেছে।’

অভিযোগের বিষয়ে সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটির চেয়ারম্যান ও গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, ‘বোর্ডের নির্দেশনার বাইরে টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। যেহেতু এ বিষয়টি আমি এখনো জানি না, আপনার কাছ থেকে শুনলাম টাকা নিচ্ছে, তাই অধ্যক্ষের কাছ থেকে আমি জানতে চাইবো।’ তিনি আরও বলেন, অধ্যক্ষ তার ফোনও দিনের বেলায় ধরেন না।

তবে এ বিষয়ে জানতে সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লাকে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এছাড়া তার হোয়াটসঅ্যাপে বোর্ডের নোটিশ এবং এ বিষয়ে প্রশ্ন পাঠিয়েও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।