একটি ফলাফলের খাতা যেন হঠাৎ করেই বদলে দিয়েছে প্রায় দুই দশকের চেনা ছবি। যে পাসের হার একসময় আশি-নব্বইয়ের ঘরে ঘুরপাক খেত, যে জিপিএ-৫ ছিল সাফল্যের সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতীক, সেই সূচকগুলোতেই এবার নেমে এসেছে বড় ধস। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে শুধু পাসের হারই কমেনি— কমেছে জিপিএ-৫, ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও; বিপরীতে বেড়েছে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। ইংরেজি ও গণিতের দুর্বলতাও যেন পুরো ফলাফলের ওপর টেনে দিয়েছে ব্যর্থতার দীর্ঘ ছায়া।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের ফল হয়েছে গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। শিক্ষা বোর্ড-সংশ্লিষ্টদের বিশ্লেষণে, খাতা মূল্যায়নে দীর্ঘদিনের ‘উদার নম্বর’ দেওয়ার প্রবণতা থেকে সরে এসে কঠোর ও সতর্ক মূল্যায়ন, অভিন্ন প্রশ্নপত্র, পূর্ণ সিলেবাস, পরীক্ষাকেন্দ্রে নজরদারি এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি— এবারের ফলাফল পতনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ফলাফলের সার্বিক তথ্য তুলে ধরেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের হাতে সব বোর্ড চেয়ারম্যান ফলাফলের কপি হস্তান্তর করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন।
তিন বছরে পাসের হার কমেছে ২০ দশমিক ৭৯ শতাংশ
ফলাফলের পরিসংখ্যানই পতনের গভীরতা সবচেয়ে স্পষ্ট করে। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা নেমে হয় ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এবার আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে।
অর্থাৎ মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে গড় পাসের হার কমেছে ২০ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আর এক বছরের ব্যবধানেই পতন হয়েছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ।
জিপিএ-৫-এর হিসাবও একই চিত্র দেখাচ্ছে। ২০২৫ সালে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও এবার পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। এক বছরে জিপিএ-৫ কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬টি, যা ১৬ দশমিক ০৮ শতাংশ। তিন বছরের ব্যবধানে কমেছে ৬৫ হাজার ৪৫৩টি জিপিএ-৫।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলেও দেখা গেছে বড় পরিবর্তন। গত বছর যেখানে ১৩৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি, এবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১২টিতে। অর্থাৎ এক বছরে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১৭৮টি।
মন খুলে নম্বর নয়, যার যতটুকু প্রাপ্য
ফলাফলের এই বড় পতনের কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে উত্তরপত্র মূল্যায়নের পরিবর্তন। শিক্ষা বোর্ড-সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের বছরগুলোয় পরীক্ষকদের ‘উদারভাবে’ নম্বর দেওয়ার যে সংস্কৃতি ছিল, এবার তা থেকে সরে এসে উত্তরপত্র মূল্যায়নে কঠোরতা ও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড পরিদর্শন করে অনিয়মের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। উত্তরপত্র মূল্যায়নে গণহারে নম্বর দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে আইনও সংশোধন করা হয়েছে।
আগে খাতা নিয়ে অসন্তোষ থাকলে মূলত নম্বর পুনর্গণনার সুযোগ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় কোনো শিক্ষার্থী খাতা চ্যালেঞ্জ করলে সম্পূর্ণ উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে পুনর্মূল্যায়নে পরীক্ষকের অবহেলা, ভুল বা বৈষম্য ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।
বোর্ড-সংশ্লিষ্টদের ধারণা, শাস্তির এই বিধানের কারণে পরীক্ষকদের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কৃত্রিমভাবে নম্বর বাড়ানোর বদলে পরীক্ষকরা উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনেক বেশি কঠোর হয়েছেন।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকতারুজ্জামান আগামীর সময়কে বলেছেন, চলতি বছর উত্তরপত্র মূল্যায়নে অধিক সতর্কতা ও নানা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে। তার ভাষায়, ‘সার্বিক ফল খারাপ হয়েছে’— এভাবে না দেখে সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে বলাই সমীচীন। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা, শিক্ষকদের মান এবং সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ— সবকিছু মিলিয়েই ফলাফল বিশ্লেষণ করতে হবে।
খাতা মূল্যায়নে কঠোর হওয়ার পেছনে বিশেষ কোনো নির্দেশনা ছিল কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে; যার যতটুকু প্রাপ্য ততটুকু ফলাফল পেয়েছে।’ তার ভাষায়, ফলাফলে কারও প্রতি উদারতা বা কারও প্রতি কঠোরতা ছিল না। আগে মন খুলে নম্বর দেওয়া হতো, এবার কি সেটা ছিল— এমন প্রশ্নে মন্ত্রীর জবাব, ‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, নম্বর দেওয়া যায় না।’
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনের দাবি, আগের বছরগুলোয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ ও পাসের হার বাড়িয়ে দেখানো হতো। তার মতে, সেই সংস্কৃতি থেকে এবার পুরোপুরি বের হয়ে আসা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন প্রকৃত যোগ্যতা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা নিয়ে বের হয়ে আসে— এটাই এখন লক্ষ্য।
ইংরেজি-গণিতের দুর্বলতা টেনে নামিয়েছে ফল
পাসের হার কমার আরেকটি বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে ইংরেজি ও গণিত। অন্যান্য বিষয়ে গড় পাসের হার যেখানে ৯০ শতাংশের ওপরে, সেখানে এই দুই বিষয়ে বেশিরভাগ বোর্ডেই পাসের হার ৮০ শতাংশের নিচে।
ঢাকা বোর্ডে বাংলায় পাসের হার ৯৭ শতাংশের বেশি হলেও ইংরেজিতে তা ৭৮ শতাংশ এবং গণিতে ৮২ শতাংশের কিছু বেশি। রাজশাহী বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৭০ এবং গণিতে ৭৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। দিনাজপুরে ইংরেজিতে ৭২ দশমিক ৯১ এবং গণিতে ৭১ দশমিক ০৫ শতাংশ।
ময়মনসিংহে পরিস্থিতি আরও খারাপ। সেখানে ইংরেজিতে পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৪ এবং গণিতে ৬৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। ময়মনসিংহ, সিলেট ও বরিশাল বোর্ডে এই দুই বিষয়ে দুর্বলতা ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি।
সৈয়দ আকতারুজ্জামান বললেন, যুগ যুগ ধরে গণিত ও ইংরেজি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি রয়েছে। এখনো সেই ভীতি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি।
১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ মাদ্রাসা বোর্ডে
ফলাফলের সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে। গত ১৫ বছর ধরে যে বোর্ডের পাসের হার কখনো ৮০ শতাংশের নিচে নামেনি, এবার সেই বোর্ডেই পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশে।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলও উদ্বেগজনক। এবার মাদ্রাসা বোর্ডের ২২৬টি প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৮৬টি। এক বছরে শূন্য পাসের মাদ্রাসা বেড়েছে ১৪০টি।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান আগামীর সময়কে বলেছেন, আগে অধিকাংশ মাদ্রাসা নিজেদের কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেত। এবার প্রথমবারের মতো নিজেদের কেন্দ্রের পরিবর্তে অন্য কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। হঠাৎ পরীক্ষার পরিবেশ পরিবর্তন হওয়ায় ফলাফলে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।
বিষয়ভিত্তিক ফলেও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা স্পষ্ট। গণিত ও ইংরেজিতে পাসের হার তুলনামূলক কম। দুই বিষয়ে গড় পাসের হার ৬৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ; ইংরেজিতে পাসের হার ৭৯ দশমিক ২১ শতাংশ।
অভিন্ন প্রশ্নে কমেছে বোর্ডভিত্তিক বৈষম্য
এবারের এসএসসি পরীক্ষার আরেকটি বড় পরিবর্তন ছিল অভিন্ন প্রশ্নপত্র। দীর্ঘ ৩০ বছর পর সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০০৬ সালে সব বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে বোর্ডভিত্তিক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এতে প্রশ্নের কঠিন-সহজের পার্থক্যের কারণে বোর্ডভেদে ফলাফলেও ব্যবধান তৈরি হতো। এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সেই ব্যবধান অনেকটাই কমেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকায় পাসের হার সবচেয়ে বেশি— ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এরপর রাজশাহীতে ৬৩ দশমিক ৬৭, কুমিল্লায় ৬৫ দশমিক ৪২, যশোরে ৬৬ দশমিক ২৭, চট্টগ্রামে ৫৯ দশমিক ৪৮, বরিশালে ৬০ দশমিক ৩৫, সিলেটে ৫৮ দশমিক ৩৩, দিনাজপুরে ৫৮ দশমিক ০৫ এবং ময়মনসিংহে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
অর্থাৎ বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে এবার পার্থক্য থাকলেও আগের মতো বড় ব্যবধান নেই। এরমধ্যে ঢাকা এগিয়ে থাকলেও ময়মনসিংহ রয়েছে সবার নিচে।
সিসিটিভিতে কমেছে নকল, কমেছে বহিষ্কারও
এবারের পরীক্ষায় নজরদারিতেও ছিল নতুন মাত্রা। প্রথমবারের মতো সব পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে এসব ক্যামেরার মাধ্যমে পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের ব্যবস্থাও ছিল।
এর প্রভাব পড়েছে অসদুপায় অবলম্বন ও বহিষ্কারের পরিসংখ্যানে। ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ৭২১ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ৩২৪ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বহিষ্কার কমেছে ৩৯৭ জন।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু আগামীর সময়কে বললেন, সব কেন্দ্রে সিসিটিভি বাধ্যতামূলক করায় নকলসহ বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতা বন্ধে তা কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। পরীক্ষক ও কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরাও এক ধরনের নজরদারির মধ্যে ছিলেন। ফলে যার যতটুকু প্রাপ্য, সে ততটুকুই পেয়েছে— কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, আবার কেউ অতিরঞ্জিত ফলও পায়নি।
পতনের মধ্যেও মেয়েদের জয়
সামগ্রিক ফলাফলে বড় পতন হলেও মেয়েদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা এবারও অটুট রয়েছে। পাসের হারে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে ৮ দশমিক ৮২ শতাংশ।
২০২৫ সালে ছেলেদের পাসের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং মেয়েদের ৭১ দশমিক ০৩ শতাংশ। এবার ছেলেদের পাসের হার নেমে হয়েছে ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ, আর মেয়েদের ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। অর্থাৎ ফলাফল কমলেও মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় নিজেদের এগিয়ে রাখার ধারাটি ধরে রেখেছে।
শিক্ষা বোর্ড-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ফল খারাপ হয়েছে— এটি একমাত্র ব্যাখ্যা নয়। বরং এবারের ফলাফল শিক্ষাব্যবস্থার কোথায় দুর্বলতা রয়েছে, ইংরেজি ও গণিতে কেন দীর্ঘদিনের ভীতি কাটছে না, শিক্ষকদের মান ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে কোথায় ঘাটতি রয়েছে— সেসব প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে।
এখন সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা এবং ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করাই হবে পরবর্তী কাজ। কারণ, ফলাফলের খাতায় নম্বর কমে যাওয়া শুধু একটি বছরের হিসাব নয়; এর ভেতর দিয়ে বেরিয়ে এসেছে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অদৃশ্য দুর্বলতাগুলোরও একটি দৃশ্যমান হিসাব।
ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন আজ থেকে
প্রকাশিত ফলাফলে কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি বা অসন্তুষ্ট হয়েছে এমন শিক্ষার্থীরা ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবে। আজ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনপ্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
একাদশে ভর্তি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল এবং শিক্ষার্থী পছন্দক্রম অনুযায়ী হবে বলে জানিয়েছেন সৈয়দ আকতারুজ্জামান। তিনি জানিয়েছেন, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল এবং শিক্ষার্থীর পছন্দক্রম অনুযায়ী। শিক্ষামন্ত্রী বললেন, ভর্তি পুরনো পদ্ধতিতে হবে। অর্থাৎ মার্ক ও জিপিএর ভিত্তিতে ভর্তি হবে।