Image description

চট্টগ্রামে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় মুরাদপুরে সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তির জানাজাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি ‘ইস্যু’ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত একটি ফোনালাপে উঠে এসেছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক চট্টগ্রামের তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম আদালতে জানান। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, নানক ও নাছিরের কথোপকথনের রেকর্ড শুনানিতে উপস্থাপন করা হয়।

২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এসব ফোনালাপ তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ।

ফোনালাপে ওবায়দুল কাদের আ জ ম নাছিরের কাছে চট্টগ্রামের পরিস্থিতি জানতে চান। জবাবে নাছির জানান, মুরাদপুরে সংঘর্ষ চলছে এবং চট্টগ্রামের অন্য এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পরে নানকের সঙ্গে কথোপকথনে নাছির জানান, মুরাদপুরে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন পথচারী, একজন আন্দোলনকারী এবং তাদের পক্ষের একজন রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এরপর নানক নাছিরকে বলেন, তাদের পক্ষের নিহত ব্যক্তির জানাজা আয়োজন করে সেটিকে ‘ইস্যু’ করতে। জবাবে নাছির জানান, নিহত ব্যক্তিকে মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এ নিয়ে কার্যক্রম নেওয়া হবে।

নানক এরপর নাছিরকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। নাছির তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, চট্টগ্রাম শহরের প্রায় সব এলাকাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শুধু মুরাদপুরের একটি ছোট এলাকায় সংঘর্ষ চলছে।

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তৃতীয় দিনে ট্রাইব্যুনালে এসব ফোনালাপ শোনানো হয়। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

শীর্ষনিউজ