Image description

গত ৫ আগস্ট উদ্বোধন হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। তবে বিজ্ঞপ্তি দিয়েও এখনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী। ফলে ভলান্টিয়ার (স্বেচ্ছাসেবী) আর অতিরিক্ত দায়িত্বে আসা লোক দিয়ে চলছে গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠানটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে জাদুঘরটির অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্বে আছেন তানজিম ওয়াহাব। তিনি জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক। সেই সঙ্গে জাতীয় জাদুঘরের আরও কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় বর্তমানে জনবল খুবই কম আছে।

রোববার (৯ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, জাদুঘরের প্রবেশ গেট ও টিকিট কাউন্টারে কাজ করছেন কয়েকজন। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, তারা সবাই জাতীয় জাদুঘরের কর্মকর্তা-কর্মচারী। ১ মাসের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে এখানে। এছাড়া জাদুঘরের ভেতর মূল মিউজিয়ামে বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভলান্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। সেই সঙ্গে আছেন রোভার স্কাউটের সদস্যরাও।

এর আগে ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি জুলাই জাদুঘরের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে ব্যবস্থাপক, উপপরিচালক, ডেপুটি কিউরেটরসহ ৬২টি ক্যাটাগরিতে মোট ৯৬টি পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

সূত্র বলছে, আগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রপতির প্রমার্জন ছিল। জুলাইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও জুলাইয়ের অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য এবং অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার বদলে শুধু অভিজ্ঞতা ও ওয়াক-ইন ইন্টারভিউকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা ছিল। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রায় ১৫ হাজার মানুষ চাকরির জন্য আবেদন করেন। তবে পরে তাদের কাউকেই আর নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেও কেন নিয়োগ দেওয়া হয়নি জানতে চাইলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক (ডিজি) তানজিম ওয়াহাব বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর জাতীয় নির্বাচন একদম কাছে চলে আসে। এ সময় সবাই মন্ত্রণালয়ের বাইরে সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির কাজ করে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা তখন ওয়াক-ইন ইন্টারভিউ নিতে পারিনি। নির্বাচনের পর আমাদের মূল প্রশ্নটা থাকল, অধ্যাদেশ আগে আইনে রূপান্তরিত হলে আমরা রেগুলার কার্যক্রম চালিয়ে নিয়ে যাব।’

এদিকে সংসদ নির্বাচনের পর জুলাই জাদুঘরের পুরোনো পর্ষদও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পুরোনো পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তানজিম ওয়াহাব বলেন, ‘নতুন নির্বাচিত সরকার আসলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে তো নতুন করে পর্ষদ হয়। কিছু মানুষের অগ্রাধিকার তো সরকারপক্ষ থেকে চাইবেই, তাই না?’

নিয়োগ হবে কবে

বর্তমানে জাদুঘরটিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় জাদুঘরের ২০ জন কর্মকর্তা। নিরাপত্তার জন্য আছে আনসার ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এছাড়া গ্যালারিতে গাইড হিসেবে খণ্ডকালীন কাজ করছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সূত্রে জানা গেছে, জুলাই জাদুঘরে দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে আউটসোর্সিং থেকে নেওয়া হবে ৮২ জন এবং সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে ১০৭ জনকে। তবে কবে নিয়োগ দেওয়া হবে বা আবার বিজ্ঞপ্তি কবে প্রকাশ করা হবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তানজিম ওয়াহাব জানান, নতুন পরিচালনা পর্ষদ চলতি মাসেই নতুন করে সার্কুলার দেবে।

এদিকে শুরু থেকেই জাদুঘরের কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন অনেকে। সূত্র বলছে, শুরুর দিকে তাদের সংখ্যা অনেক থাকলেও এখন আছেন ২০ থেকে ২৫ জন। কনসালট্যান্টরা জানান, কাজ শুরু করার আগে তাদেরকে পরবর্তীতে চাকরি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত তাদেরকেও নিয়োগের ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি। আবার জাদুঘর উদ্বোধন হয়ে গেলেও তাদের কাজ থেকে অব্যাহতিও দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে তানজিম ওয়াহাব বলেন, ‘তাদের এমন কোনো কথা দেওয়া হয়নি। তবে এখানে কাজ করে তাদের একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে। যদি তারা আবেদন করে এবং আমাদের চাহিদায় মেলে, তাহলে তাদেরও নেওয়া হবে।’

মহাপরিচালক নিয়োগ স্থগিত

গত ৩১ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে জুলাই জাদুঘরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রেষণে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মহাপরিচালক হওয়া কামরুজ্জামানের নিয়োগও আটকে গেছে।

এ ব্যাপারে তানজিম ওয়াহাব বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তটা আপাতত স্থগিত আছে। এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, নতুন করে নিয়োগ দিয়ে মহাপরিচালক আনা হবে নাকি মধ্যবর্তী সময় হিসেবে প্রেষণটাই থাকবে। এসব সিদ্ধান্ত পর্ষদ নেবে।’