Image description

বাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করতে ‘পরিকল্পিত অপতৎপরতা’ চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভঙ্গুর হয়ে পড়া পুলিশের মনোবল যখন ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করেছে, সদস্যরা যখন নতুন উদ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার দায়িত্বে ফিরছেন, ঠিক তখনই এ তৎপরতা চলছে।

সংগঠনটির দাবি, পুলিশের বাইরে ও ভেতরে থাকা একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও নামধারী সাংবাদিকের কাছে মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করছে। এসব তথ্যের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাই না করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরঞ্জিত ও মনগড়া গল্প ছড়ানো হচ্ছে।

আজ রবিবার দুপুরে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এ অভিযোগ করে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ ধরনের প্রচারণাকে পুলিশের মনোবল ও পেশাগত সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পলাতক ও জনবিচ্ছিন্ন ‘ফ্যাসিস্ট শক্তি’ এবং কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের অপতৎপরতায় জড়িত। তাদের সরবরাহ করা তথ্য যাচাই না করে কথিত সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

অ্যাসোসিয়েশনের ভাষ্য, শুরুতে এসব প্রচারণা ব্যক্তিবিশেষকে লক্ষ্য করে হলেও তা ক্রমে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এমনকি বাহিনীর প্রধানের বিরুদ্ধে কুৎসা ও অপপ্রচারে রূপ নিচ্ছে।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের মনোবল ও পেশাগত সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু অপতথ্য, গুজব ও কুৎসামূলক প্রচারণার মাধ্যমে বাহিনীকে দুর্বল করার চেষ্টা হলে এর প্রভাব শুধু পুলিশের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর ফলে রাষ্ট্র, জনগণ এবং একটি স্বাভাবিক, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রত্যাশাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য, ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীগত স্বার্থ কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য একটি সুশৃঙ্খল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে দায়িত্বহীন ও অনৈতিক প্রচারণা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হতে পারে না।

সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পেশাগত নৈতিকতা, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ এবং একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার পরিপন্থী।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র, জনগণ ও পুলিশ বাহিনীর স্বার্থে এ ধরনের অপতৎপরতায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে শনাক্ত করে প্রচলিত আইন, বিধি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অনুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পুলিশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট এবং আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।