জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফয়সাল হোসেনকে শোকজ করেছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। দলীয় মিছিলের সামনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতি এবং পরে ক্যাম্পাসে বিএনপি নেতাকে সঙ্গে নিয়ে শোডাউন দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেন তার বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশনায় এবং দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে উল্লেখ করা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে থেকে মোহাম্মদ ফয়সাল হোসেন সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। তাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শাখা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী। অনুষ্ঠান শেষে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে যান। এ সময় মিছিলের সামনের সারিতে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সালের সঙ্গে সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এরপর ফয়সাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের সহ-সভাপতি ও বিএনপি নেতা আব্দুর রশিদ জিতুকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে শোডাউন দেন বলে অভিযোগ ওঠে। অথচ আগে থেকে বিএনপির কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল না। এ ঘটনায় সাধারণ ছাত্রনেতাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষার্থীদের মতে, দলীয় প্রভাবে বিএনপি নেতারা যদি এভাবে ক্যাম্পাসে শোডাউন দেন, তবে পরবর্তীতে জামায়াত নেতারাও শিবিরের সঙ্গে এমন মহড়া দিতে পারেন—যা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক ও সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শোকজপ্রাপ্ত মোহাম্মদ ফয়সাল হোসেন বললেন, ‘আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না। দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। পরে জানাব।’