Image description

বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা একই কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) কলেজের লাইব্রেরি ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার আবির সিকদার দৈনিক ভোরের আলো পত্রিকার ক্যাম্পাস প্রতিনিধি এবং বিএম কলেজ সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পরিচয়দানকারী বিপ্লবের নেতৃত্বে তার সঙ্গে থাকা ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের তামিম, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের নয়ন, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের বাধনসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জন আবির সিকদারের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

জানা গেছে, সম্প্রতি কলেজের কবি জীবনানন্দ দাশ হলের ডাইনিংয়ে অছাত্রদের দখল ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন আবির সিকদার। ওই সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই সেটি মুছে ফেলার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে সংবাদটি অপসারণে ব্যর্থ হয়ে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা চালান।

এদিকে আজ মঙ্গলবার কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতির খবর পেয়ে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বের হন আবির সিকদার। লাইব্রেরি ভবনের সামনে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবির সিকদার বলেন, ‘আমি ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আসছি। সম্প্রতি হলের ডাইনিংয়ে অছাত্রদের দখল ও অনিয়মের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সংবাদ প্রকাশ করি। সেই সংবাদ প্রকাশের জেরেই আমাকে মারধর করা হয়েছে।’

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিএম কলেজ সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মেহেরাব হোসেন রিফাত বলেন, ‘সংবাদকর্মীর দায়িত্ব হলো তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরা। কোনো সংবাদ কারও পক্ষে বা বিপক্ষে যেতে পারে। তাই বলে একজন সাংবাদিককে মারধর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের ওপর হামলা গণতান্ত্রিক চর্চাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। কলেজ প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের একজন কীভাবে নিজেকে বর্তমান শিক্ষার্থী হিসেবে দাবি করছেন, সে বিষয়েও প্রশাসনের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শেখ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’